প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৯৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিন্দুর ছেলে ছাই হবে। আট আনা দশ আনা কি ফ্যাসান । নরেনাকে জিজ্ঞেস কর, বার আনা চাই । সেদিন অমূল্য ভাল করিয়া ভাত খাইল না, ফেলিয়া-ছড়াইয়া উঠিয়া চলিয়া গেল । অন্নপূর্ণ বলিল, তোর ছেলের টেরি বাগাবার সখ হ’ল কবে থেকে রে ? বিন্দু হাসিল, কিন্তু পরক্ষণেই গভীর হইয়া একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, দিদি, তুচ্ছ কথা, তাই হাসচি বটে, কিন্তু ভয়ে আমার বুক শুকিয়ে যাচ্ছে সব জিনিসের স্বরু এমনি করেই হয়। অন্নপূর্ণ আর কথা কহিতে পারিলেন না। দুর্গাপূজা আসিয়া পড়িল। ও-পাড়ার জমিদার বাড়িতে আমোদ-আহ্নাদের প্রচুর আয়োজন হইয়াছিল! দুইদিন পূৰ্ব্ব হইতে নরেন তাহার মধ্যে ময় হইয়া গেল। সপ্তমীর রাত্রে অমূল্য আসিয়া ধরিল, ছোটমা, যাত্রা হচ্ছে দেখতে যাব ? ছোটমী বলিলেন, হচ্ছে, না হবে রে ? অমূল্য বলিল, নরেনদা বলেচে তিনটে থেকে শুরু হবে। এখন থেকে সমস্ত রাত্তির হিমে পড়ে থাকবি ? সে হবে না। কাল সকালে তোর কাকার সঙ্গে যাস, খুব ভাল জায়গা পাবি । * অমূল্য র্কাদ কাদ হইয়। বলিল, না, পাঠিয়ে দাও। কাকা হয়ত যাবেন না, হয়ত কত বেলায় যাবেন। বিন্দু বলিল, তিনটে-চারটের সময় যাত্রা শুরু হলে চাকর দিয়ে পাঠিয়ে দেব, এখন শোঁ । * অমূল্য রাগ করিয়া শয্যার এক প্রাস্তে গিয়া দেওয়ালের দিক মুখ ফিরাইয়া শুইয়া রহিল। বিন্দু টানিতে গেল সে হাত সরাইয়া দিয়া শক্ত হইয়া পডিয়া রহিল। তার পর কিছুক্ষণের নিমিত্ত সকলেই বোধ করি একটু ঘুমাইয়া পড়িয়াছিল। বাহিরের বড় ঘড়ির শব্দে অমূল্যর উখিয় নিদ্রা ভাঙ্গিয়া গেল, সে উৎকৰ্ণ হইয়া গনিতে লাগিল। একটা—দুটো—তিনটে—চারটে—ধড়ফড় করিয়া সে উঠিয়া বসিয়া বিন্দুকে সজোরে সাড়া দিয়া তুলিয়া দিয়া বলিল, ওঠ ওঠ ছোটমা, তিনটে চারটে বেজে গেলে— বাহিরের ঘড়িতে বাজিতে লাগিল—পাচটা—ছটা সাতটা—আটট-অমূল্য কাদিয়া ফেলিয়া বলিল, সাতটা বেঙ্গে গেল, কখন যাব ? বাহিরের ঘড়িতে তখনও বাজিতে লাগিল—নটা—দশটা—এগারটা—বারটা ; বাজিয়া থামিল। অমূল্য নিজের ভুল বুঝিতে পারিয়া অপ্রতিভ হইয়া চুপ করিয়া শুইল। ঘরের ওধারের খাটের উপর মাধব শয়ন করিত, চেঁচামেচিতে তাহার ঘুম ভাঙিয়া গিয়াছিল । - Հն»Պ