প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৯৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ উচ্চ হাস্ত করিয়া মাধব বলিল, অমূল্য, কি হ’ল য়ে ! অমূল্য লজ্জায় সাড়া দিল না। বিন্দু হাসিয়া বলিল, ও যে করে আমাকে তুলেচে, ঘরে-দোরে আগুন ধরে গেলেও মাস্থ্য আমন করে তোলে না । অমূল্য নিস্তব্ধ হইয়া আছে দেখিয়া তাহার দয়া হইল ; সে বলিল, আচ্ছা বা কিন্তু কারো সঙ্গে ঝগড়া-ঝাটি করিসনে । তার পর ভৈরবকে ডাকিয়া আলো দিয়া, পাঠাইরা দিল। পরদিন বেলা দশটার সময় যাত্রা শুনিয়া হৃষ্টচিত্তে অমূল্য ঘরে ফিরিয়া আসিয়া কাকাকে দেখিয়াই বলিল, কৈ গেলেন না আপনি ? বিন্দু জিজ্ঞাসা করিল, কেমন দেখলি রে ? বেশ যাত্রা ছোটমা। কাঁক, আজ সন্ধ্যার সময় আবার চমৎকার খ্যাস্ট নাচ হবে। কলকাতা থেকে দু’জন এসেচে, নরেনদী তাদের দেখেচে, ঠিক ছোটমার মত— খুব ভাল দেখতে—তারা নাচবে, বাবাকেও বলচি । বেশ করেচ, বলিয়া মাধব হে হো করিয়া হাসিয়া উঠিল । রাগে বিন্দুর সমস্ত মুখ আরক্ত হইয়া উঠিল—তোমার গুশধর তারের কথা শোন । অমূল্যকে কহিল, তুই একবারও আর ওখানে যাবি না—হাৱামজাদা বজাত। কে বললে আমার মত, নরেন ? অমূল্য ভয়ে ভয়ে বলিল, ই সে দেখেচে যে। কৈ নরেন ? আচ্ছা, আস্থক সে । মাধব হাসি দমন করিয়া বলিল, পাগল তুমি। দাদা শুনেছেন, আর গোলমাল করে না। কাজেই বিন্দু কথাটা নিজের মধ্যে পরিপাক করিয়া রাগে পুড়িতে লাগিল । সন্ধ্যার প্রাক্কালে অমূল্য আসিয়া অন্নপূর্ণাকে ধরিয়া বসিল, দিদি, পূজা-বাড়িতে নাচ দেখতে যাব । দেখে, এখনি ফিরে আসব । অন্নপূর্ণ কাজে ব্যস্ত ছিলেন, বলিলেন, তোর মাকে জিজ্ঞেস কর গে। অমূল্য জিদ করিতে লাগিল, না দিদি, এখনি ফিরে আসব, ভূমি বল যাই। অন্নপূর্ণ বলিলেন, না রে না, সে রাগী মাহুষ, তাকে বলে যা। অমূল্য কাদিতে লাগিল, কাপড় ধরিয়া টানাটানি করতে লাগিল—তুমি ছোটমাকে বলে না। আমি নরেনদার সঙ্গে যাই—এখনি ফিরে আসব। অন্নপূর্ণ বলিলেন, সঙ্গে যদি যাস ত— অমূল্য কথাটা শেষ করিবারও সময় দিল না, এক দৌড়ে বাহির হইয়া গেল। ঘন্ট-খানেক পরে অন্নপূর্ণার কানে গেল, বিন্দু খোজ করিতেছে। তিনি চুপ &υν