প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ অন্নপূর্ণ বলিলেন, আমি নই, তুই তার মা—আমি তোকেই ত দিয়েচি । যখন ছোট ছিল খাইয়েচি পরিয়েচি। এখন বড় হয়েচে, তোমাদের ছেলে তোমরা নাও—আমাকে রেহাই দাও, বলিয়া বিন্দু চলিয়া গেল । রাত্রে কাদ কাদ মুখে অমূল্য অন্নপূর্ণার কাছে শুইতে আসিল । অন্নপূর্ণ ব্যাপার বুঝিয়া বিরক্ত হইয়া বলিল, এখানে কেন ? যা এখান থেকে —যা বলচি । * অমূল্য ফিরিয়া দেখিল, তাহার পিতা ঘুমাইতেছেন সে তখন কথাটি না বলিয়া আস্তে আস্তে চলিয়া গেল । সকালবেলা কদম রান্নাঘরে এটো বাসন তুলিতে আসিয়া দেখিল, বারান্সার এক কোণে কতকগুলো কাঠ-ঘুটের উপর অমূল্য পড়িয়া রহিয়াছে। সে ছুটির গিয়া বিন্দুকে তুলিয়া আনিল। অন্নপূর্ণাও ঘুম ভাঙ্গিয়া বাহিরে আসিয়াছিলেন, কাছে আসিয়া দাড়াইলেন । বিন্দু তীক্ষভাবে বলিল, রাত্রে বড়গিন্নি বুঝি তাড়িয়ে দিয়েছিলে ? ও থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত হয় ? ছেলের অবস্থা দেখিয়া ক্ষোভে দুঃখে ৰ্তাহার নিজের চক্ষে জল আসিতেছিল, কিন্তু বিন্দুর নিষ্ঠুর তিরস্কারে জলিয়া উঠিয়া বলিলেন, নিজের দোষ তুই পরের ঘাড়ে তুলে দিতে পারলেই বাচিস । বিন্দু ছেলেকে তুলিতে গিয়া দেখিল, তাহার গা গরম—জর হইয়াছে। কহিল, সারারাত কাৰ্ত্তিক মাসের হিমে, জর হবেই ত ! এখন ভাল হলে বাচি । অন্নপূর্ণ ব্যস্ত হইয়া ঝুঁকিয়া পড়িয়া বলিলেন, জর হয়েচে–কই দেখি । বিন্দু সজোরে তাহার হাত ঠেলিয়া দিয়া বলিল, থাক আর দেখে কাজ নেই। বলিয়া ঘুমন্ত ছেলেকে সচ্ছদে কোলে তুলিয়া লইয়া অন্নপূর্ণার প্রতি একবার বিষ-দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া নিজের ঘরে চলিয়া গেল । পাঁচ-ছয় দিনেই অমূল্য আরোগ্য হইয়া উঠিল বটে, কিন্তু বড়জায়ের অপরাধটা বিন্দু মার্জনা করিল না। সেইদিন হইতে সে ভাল করিয়া কথা পৰ্য্যন্ত বলিত না । অন্নপূর্ণ মনে মনে সমস্তই বুঝিলেন, অথচ তিনিও মৌন হইয়া রহিলেন। সকলের সম্মুখে সমস্ত অপরাধ বিন্দু যে তাহারি উপর তুলিয়া দিয়াছে, এ অন্যায় তিনিও ভুলিতে পারিলেন না। এইটিই একদিন কি একটা কথার পর তিনি এলোকেশীর কাছে বলিয়া ফেলিলেন, ওর জর ছোটবোঁয়ের জন্তই। ও যে মরেনি; এই ওর ভাগ্যি । কথাটা এলোকেশী বিন্ধুর গোচর করিতে লেশমাত্র বিলম্ব করিলেন না। বিন্দু 及物鲁