প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩০৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বিন্দুর কণ্ঠরোধ হইয়া গেছে। যাদব চলিয়া গেলেন। সে নিভৃতে ঘরের মধ্যে মুখে আঁচল গুজিয়া ফুলিয়া ফুলিয়া কাদিতে লাগিল—চারিদিকে লোক, পাছে কেহ শুনিতে পায় । পরদিন সকালবেল বিন্দু স্বামীকে ডাকাইয়া আনিয়া বলিল, বেলা হচ্চে ; পুরুত বসে আছেন—বঠ ঠাকুর এখনো ত এলেন না । মাধব বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, তিনি কেন ? : বিন্দু ততোধিক বিস্মিত হইয়া বলিল, তিনি কেন ? তিনি ছাড়া এসৰ করবে কে ? মাধব কহিল, আমি, না হয় ভগ্নীপতি প্রিয়বাবু করবেন। দাদা আসতে পারবেন না । • বিন্দু ক্রুদ্ধ হইয়া বলিল, আসতে পারবেন না বললেই হ’ল ; তিনি থাকতে কি কারো অধিকার আছে ? না না, সে হবে না—তিনি ছাড়া আমি কাউকে কিছু করতে দেব না | - মাধব বলিল, তবে বন্ধ থাকু । তিনি বাড়ি নেই, কাজে গেছেন। এ সমস্ত বড়গিল্পীর মতলব ! তা হলে সেও আসবে না দেখছি। বলিয়া বিন্দু কাদ কঁাদ হইয়া চলিয়া গেল। তাহার কাছে পূজা-অৰ্চনা, উৎসব-আয়োজন, খাওয়ান-দাওয়ান, সমস্ত একমুহূৰ্ত্তে একেবারে মিথ্যা হইয়া গেল। তিনদিন ধরিয়া অমৃক্ষণ সে এই চিন্তা করিয়াছে, আজ বঠ ঠাকুর আসিবেন, দিদি আসিবেন, অমূল্য আসিবে । আজিকার সমস্ত দিনব্যাপী কাজকর্থের উপর সে যে মনে মনে তাহার কতখানি নির্ভর করিয়া নিশ্চিস্ত হইয়া বসিয়াছিল, সে-কথা সে ছাড়া আর কেহই জানিত না । স্বামীর একটা কথায় সে সমস্ত মরীচিকার মত অস্তহিত হইয়া যাইবামাত্রই উৎসবের বিরাট পণ্ডশ্রম পাষাণের মত তাহার বুকের উপর চাপিয়া বসিল । এলোকেশী আসিয়া বলিলেন, ভাড়ারের চাবিটা একবার দাও ছোটবোঁ, ময়রা সন্দেশ নিয়ে এসেচে । বিন্দু ক্লান্তভাবে বলিল, ঐখানে কোথাও এখন রাখ ঠাকুরবি, পরে হবে । কোথায় রাখব বেী, কাকে-টাকে মুখ দেবে ষে । তবে ফেলে দাও গে, বলিয়া বিন্দু অন্যত্র চলিয়া গেল । পিসিমা আসিয়া বলিলেন, ই বিন্দু, এ-বেলা কতখানি ময়দা মাখবে একবার যদি দেখিয়ে দিতিস । বিন্দু মুখ ভার করিয়া বলিল, কতখানি মাখবে তার আমি কি জানি ? তোমরা গিল্পী-বান্ধী, তোমরা জান না ? Va.e.