প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বিন্দু ক্লাস্তদৃষ্টিতে একবারটি তাহার দিকে চাহিয়া লজ্জায় স্বশায় চোখ নীচু করিল। এলোকেশী পুনরায় কহিলেন, তুমি ছেলে ভালবাস ছোটবোঁ, আমার নরেন্দ্রনাথকে নাও-ওকে তোমায় দিলুম। মেরে ফেল কেটে ফেল কোনদিন কথাটি বলবার ছেলে ও নয়—তেমন সন্তান আমরা পেটে ধরিনে। o বিন্দু নিঃশব্দে বসিয়া রহিল। বিন্দুর মা জবাব দিলেন। তাহার বয়স হইয়াছে, জমিদারের মেয়ে, জমিদারের গৃহিণী, তিনি পাকা লোক। হাসিয়া বলিলেন, ও কি একটা কথা গা ! অমূল্য ওর হাড়ে মাংসে জড়িয়ে আছে—ন না, ওকে তোমরা অমন করে উতলা করে দিও না । বিন্দু, তোদের ঝগড়া দু’দিনের মা, তাই বলে ছেলে কি তোর পর হয়ে যাবে ? · বিন্দু ছল ছল চোখে মায়ের মুখের দিকে চাহিয়া চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। সন্ধ্যার সময় সে কদমকে ডাকিয়া বলিল, আচ্ছা কদম, তুই ত ছিলি, তুই বল, আমার এত কি দোষ হয়েছিল যে, উনি অতবড় দিব্যি করে ফেললেন ? বিন্দু তাহাকে এ আলোচনা করিতে আহবান করিয়াছে, সহসা কদম তাহা বিশ্বাস করিতে পারিল না। সে অত্যন্ত সঙ্কুচিত হইয়া মৌন হইয়া রহিল। তথাপি বিন্দু বলিল, না না, হাজার হোক তোরা বয়সে বড়, তোদের দুটো কথা আমাকে শুনতেই হয়, তুই বল না, এতে দোষ আমার কি হয়েছিল। কদম ঘাড় নাড়িয়া বলিল, না দিদি, দোষ আর কি ? বিন্দু কহিল, তবে যা না একবার ও-বাড়িতে। দু’কথা বেশ করে গুনিয়ে দিয়ে আয় না—তোর আর ভয় কি ? কদম সাহস পাইয়া বলিল, ভয় কিছু নয় দিদি, কিন্তু কাজ কি ঝগড়া-বিবাদ করে ? যা হবার তা হয়ে গেছে । বিন্দু কহিল, না না, কদম, তুই বুঝিসনে—সত্যি কথা বলা ভাল। না হলে ও মনে করবে, আমারি যেন সব দোষ, তার কিছুই নেই। বার করে দেব, দূর করে দেব , এ-সকল কথা বলেনি ও ? আমি কোনদিন তাতে রাগ করেচি ? কেন ও লুকিয়ে টাকা দিলে ? কেন একবার জানালে না ? কদম বলিল, আচ্ছা কাল যাব, আজ সন্ধ্যা হয়ে গেছে । বিন্দু অপ্রসন্ন হইয়া বলিল, সন্ধ্য আবার কোথায় কদম, তুই বড় কথা কাটিল। শীতকালের বেলা বলেই অমন দেখাচ্চে ; না হয় কাউকে সঙ্গে নে না—ওরে ও ভৈরব শোনু, হেবোকে ডেকে দে ত, কদমের সঙ্গে যাক । ভৈরব বলিল, হেবোকে দিয়ে বাৰু বাতি পরিষ্কার করাচ্চেন। \be g