প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বিষ্ণু বাগ্র হইয়া বলিল, তাই বল মেয়ে। নিশ্চয়ই তাকে ও মারধোর করে ভয় দেখিয়ে রেখেচে । যে একটা রাত আমাকে না হলে ঘুতে পারে না, আজ পাচ দিন চার রাত কেটে গেল! ও মাগীর কি আর মুখ দেখতে আছে! ঐ যে বললুম, শত্রুর দিকে ফিরে চাইব ত ওর দিকে ইহজন্মে আর না ! বামুনঠাকরুণ নিজের কজির কাছে একটা কাল দাগ দেখাইয়া কহিল, এই দেখ ম, এখনো কালশিরে পড়ে আছে। সে-রাত্রে তোমার মূর্ছা হয়েছিল, এসব কথা জান না । অমূল্যধন কোথা থেকে ছুটে এসে তোমার বুকের উপর পড়ে সে কি কান্না ! সে ত আর কখন দেখেনি, বলে, ছোটমা মরে গেল। না দেয় তোমার চোখে জল দিতে, না দেয় বাতাস করতে—আমি টানতে গেলুম, আমাকে কামড়ে দিলে ; বড়মা টানতে গেলেন, তাকে আঁচড়ে-কামড়ে কাপড় ছিড়ে এক করে দিলে। লোকে রুগীর সেবা করবে কি মা, তাকে নিয়েই ব্যতিব্যস্ত। শেষে চার-পাঁচজন মিলে টেনে নিয়ে যায় । বিন্দু নির্নিমেষ-চোখে তাহার মুখের পানে চাহিয়া যেন কথাগুলো গিলিতে লাগিল ; তারপর অতি দীর্ঘ একটা নিশ্বাস ফেলিয়া ধীরে ধীরে উঠিয়া নিজের ঘরে দোর দিয়া শুইল । দিন-চারেক পরে বিন্দুর পিতা, মাতা, পিসি প্রভৃতির ফিরিবার পূর্বের দিন মূৰ্চ্চার পরে বিদুচুপ করিয়া বিছানায় পড়িয়াছিল। কদম বাতাস করিতেছিল, আর কেহ ছিল না। বিন্দু ইঙ্গিতে তাহাকে আরও কাছে ডাকিয়া মৃদু-কণ্ঠে বলিল, কদম, দিদি এসেচেন রে ? কদম বলিল, না দিদি, আমরা এত লোক আছি, তাকে আর কষ্ট দেওয়া কেন ? বিদু ক্ষণকাল স্থির থাকিয়া বলিল, এই তোদের দোষ কদম। সব কাজেই নিজেদের বুদ্ধি খাটাতে যাস। এমনি করেই আমাকে একদিন মেরে ফেলবি দেখচি। পূজোর দিনেও ত তোরা একবাড়ি লোক ছিলি, কি করতে পেরেছিলি, Woe &