প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


-শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ পরদিন সকালবেলা মাধব বাহিরের ঘরে বসিয়া কাজ করিতেছিল, অকস্মাৎ বিন্দু ঘরে ঢুকিয়াই কান্না চাপিয়া বলিল, উনি চাকরি করচেন, না ? মাধব চোখ তুলিয়াই বলিল, ছ। ছ কি ? এই কি তার চাকরির বয়স ? মাধব পূর্বের মত কাগজে চোখ রাখিয়া বলিল, চাকরি কি মানুষ বয়সের জন্য করে, চাকরি করে অভাবে ! * র্তার অভাবই বা হবে কেন ? আমরা পর, ঝগড়া করেচি, কিন্তু তুমি ত র্তার ভাই । মাধব বলিল, বৈমাত্রেয় ভাই—জ্ঞাতি । বিন্দু স্তম্ভিত হইয়া ধীরে ধীরে বলিল, তুমি বেঁচে থেকে তাকে কাজ করতে দেবে ? মাধব এবার মুখ তুলিয়া স্ত্রীর দিকে চাহিল, তার পর সহজ শান্তকণ্ঠে বলিল, কেন দেব না ? সংসারে যে যার অদৃষ্ট নিয়ে আসে, তেমনি ভোগ করে, তার জীবন্ত সাক্ষী আমি নিজে। কবে বাপ-মা মরেচেন জানিওনে ; বড়বোঁঠানের মুখে শুনি আমরা বড় গরীব, কিন্তু কোনোদিন দুঃখকষ্টের বাষ্পও টের পেলাম না। কোথা থেকে চিরকাল পরিষ্কার ধপধপে কাপড়-জামা এসেচে, কোথা থেকে ইস্কুল-কলেজের মাইনে, বইয়ের দাম, বাসাখরচ এসেচে, তা আজও বলতে পারিনে । তার পরে উকিল হয়ে মন্দ টাকা পাইনে। ইতিমধ্যে কোথা থেকে কেমন করে তুমি একরাশ টাকা নিয়ে ঘরে এলে—এমন অট্টালিকাও তৈরী হ’ল—অথচ দাদাকে দেখ, চিরকালটা নিঃশবে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেচেন, ছেড়া সেলাই-করা কাপড় পরেচেন-শীতের দিনে তার গায়ে কখন জামা দেখিনি—একবেলা একমুঠো খেয়ে কেবল আমাদের জন্তে—সব কথা আমার মনেও পড়ে না, পড়বার দরকারও দেখিনে—শুধু দিন-কতক আরাম করছিলেন, তা ভগবান স্বদস্তুদ্ধ আদায় করে নিচ্চেন। বলিয়া সহসা সে মুখ ফিরাইয়া একটা দরকারী কাগজ খুজিতে লাগিল । বিন্দু নিৰ্ব্বাক, স্তব্ধ। স্বামীর কত বড় তিরস্কার যে এই অতীত দিনের সহজ কাহিনীর মধ্যে প্রচ্ছন্ন ছিল, সে-কথা বিন্দুর প্রতি রক্তবিন্দুটি পৰ্য্যন্ত অনুভব করিতে লাগিল, সে মাথা হেঁট করিয়া রহিল। মাধব কাগজ খুজিতে খুজিতে কতকটা নিজের মনেই বলিল, চাকরি বলে চাকরি । রাধাপুরের কাছারিতে যেতে আসতে প্রায় পাঁচ ক্রোশ—ভোর চারটেয় বেরিয়ে সমস্তদিন অনাহারে থেকে রাত্রে ফিরে এসে দুটি খাওয়া, মাইনে বার টাকা । vo e bo