প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রই আমাকে দিয়ে এসেচে, বোধ করি তার সীমা নেই। নিষ্ঠুর ! দিনের পর দিন নিজে উপোস করে, আমার প্রতিদিনের খাওয়া-পরা তিক্ত বিষাক্ত করেচে–কিন্তু কখনো কোনদিন আমার মুখ চেয়েও আমার হাত থেকে কিছু নেয় নি। আমার ভয় হয়, যে-পাষাণকে নিয়ে আমি কখনো মুখ পায়নি, তাকে নিয়ে আপনিই কি মুখী হতে পারবেন ? বলিতে বলিতেই অকস্মাৎ তাহার চোখ দুটো অশ্রজলে ঝকৃ বক্‌ করিয়া উঠিল । তাড়াতাড়ি মুছিয়া ফেলিয়া, জোর করিয়া একটুখানি হাসিয়া বলিল, দেখুন, আমার বাইরেট ভারি শক্ত দেখতে, কিন্তু ভিতরটা তেমনি দুৰ্ব্বল । মহিমের ঠিক তার উন্টে।--তবু আমাদের মত বন্ধুত্ব সংসারে বোধ করি খুব কমই ছিল । অচলা নত মুখে মৃদুকণ্ঠে বলিল, সে আমি জানি সুরেশণাৰু, এবং আরও জানি যে সে বন্ধুত্ব আজও তেমনি অক্ষয় হয়ে আছে । শৈশবের সমস্ত পূৰ্ব্বস্তৃতি সুরেশের বুকের ভিতর আলোড়িত হইয়া উঠিল, সে অশ্রু-রুদ্ধ কণ্ঠে বলিয়া উঠিল, যখন জানেনই, তখন এই ভিক্ষ আজ আমাকে দিন যে, অজ্ঞানে যে শক্ৰতা আপনাদের করেচি, সে অপরাধ আর যেন আমার বুকে না বেঁধে । তাহার কণ্ঠস্বর আবেগে পুনরায় রুদ্ধ হইয়। আসিল এবং এই একান্ত ব্যাকুলতায় অচলার নিজের অন্তরটাও যেন দুলিয়া উঠিল । সে উদগত অশ্রু গোপন করতে অকস্মাৎ মুখ ফিরাইয়া দেখিল, তাহার পিতা দ্বারের সম্মুখে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছেন । কেদারবাবু স্বরেশকে দেখিয়া খুশী হইয়া বলিয়া উঠিলেন, এই যে সুরেশবাবু! সুরেশ দাড়াইয়া নমস্কার করিল। কেদারবাবু আসন গ্রহণ না করিয়াই জিজ্ঞাসা করিলেন, মহিমের খবর কি ? তাকে ত দেখচিনে । সুরেশ বলিল, মহিম অত্যন্ত প্রয়োজনে সকালের গাড়িতেই বাড়ি চলে গেল—এই খবর জানাবার জন্যেই আমি এলুম। কেদারবাবু বিস্ময়াপন্ন হইয়া কহিলেন, বাড়ি চলে গেল ! বলিয়াই সহসা জলিয়া উঠিয়া কহিতে লাগিলেন, সে বাড়ি যাক্, থাকৃ, আমাদের তাতে আর কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু তুমি বাবা স্বরেশ যখন সময় পাবে বাড়ির ছেলের মত এখানে এসো, যেয়ে—আমার বড় আনন্দ হবে—কিন্তু তোমার সেই মিথ্যাচারী বন্ধুরত্বটি যেন আর কখন এ-বাড়িতে মুখ না দেখায়। দেখা হলে বলে দিও তার আর কোন লজ্জা না-থাকে—অন্তত: অপমানের ভয়টা যেন থাকে । স্বত্বেশ ঘাড় হেঁট করিয়া রহিল, তাহার মনের ভাব অনুমান করিবার চেষ্ট આ 8