প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অৰ্জুপমার প্রেম ধক্ করিয়া জলিয়া উঠিল ; দেখিতে দেখিতে অঞ্চলখানা কোমরে জড়াইয়া গাছকোমর বাধিয়া ফেলিল। ব্যাপার দেখিয়া বড়বন্ধু তিন হাত পিছাইয়া গেল। নিমেষে অনুপম পার্শ্ববৰ্ত্তী খাটের খুরো বেশ করিয়া জড়াইয়া ধরিয়া উদ্ধনেত্রে চীৎকার করিয়া কহিতে লাগিল, প্রভু, স্বামী, প্রাণনাথ, জগৎসমীপে আজ আমি মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করব, তুমিই আমার প্রাণনাথ ; প্রভু ; তুমি আমার, আমি তোমার! এ খাটের খুরো নয়, এ তোমার পদযুগল—আমি ধৰ্ম্ম সাক্ষী করে তোমাকে পতিত্বে বরণ করেচি, এখনও তোমার চরণ স্পর্শ করে বলচি—এ জগতে তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমাকে স্পর্শও করতে পারবে না ; কার সাধ্য প্রাণ থাকতে আমাদিগকে বিচ্ছিন্ন করে ! মা গো, জগৎ জননী— বড়বধু চীংকার করিয়া ছুটিয়া বাহিরে আসিয়া পড়িল—ও গো দেখ গে, ঠাকুরবি কেমনধারা কচ্ছে ! দেখিতে দেখিতে গৃহিণী ছুটিয়া আসিলেন। বৌঠাকরুণের চীংকার বাহির পৰ্য্যন্ত পহুছিয়াছিল—কি হয়েচে–হ’ল কি ? কৰ্ত্ত ও তাহার পুত্র চন্দ্রবাবু ছুটিয়া আসিলেন। কর্তা-গিন্নিতে, পুত্র-পুত্রবধূতে, দাস-দাসীতে মুহূর্তে ঘরে ভিড় হইয়া গেল । অনুপমা মূৰ্ছিত হইয়া খাটের কাছে পড়িয়া আছে। গৃহিণী কাদিয়া উঠিলেন, অম্বর আমার কি হ’লে ? ডাক্তার ডাক্‌! জল অনি! বাতাস কর! ইত্যাদি চীৎকারে পাড়ার অৰ্দ্ধেক প্রতিবাসী বাড়িতে জমিয়া গেল । অনেকক্ষণ পরে চক্ষুরুন্মীলন করিয়া অনুপমা ধীরে ধীরে বলিল, আমি কোথায় ? তাহার জননী মুখের নিকট মুখ আনিয়া সস্নেহে বলিলেন, কেন মা, তুমি যে আমার কোলে শুয়ে আছ । অনুপমা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া মৃদু মৃদু কহিল, ও, তোমার কোলে ! তাবছিলাম আমি আর কোথাও কোন স্বপ্নরাজ্যে র্তার সঙ্গে ভেসে যাচ্ছি। দরবিগলিত অশ্রু তাহার গও বহিয়া পড়িতে লাগিল ৷ জননী তাহা মুছাইয়া কাতর হইয়া বলিলেন, কেন কাদচ মা ? কার কথা বলচ ? অনুপমা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া মৌন হইয়া রহিল। বড়বন্ধু চন্দ্রবাবুকে একপাশে ডাকিয়া বলিল, সবাইকে যেতে বল, আর কোনও ভয় নেই ; ঠাকুরবি ভাল হয়েচে । ক্রমশঃ সকলে প্রস্থান করিলে রাত্রে বড়বে অনুপমার কাছে বসিয়া বলিল, ঠাকুরবি, কার সঙ্গে বিয়ে হলে তুই মুখী হ’ল ? - Øîፃ