প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ শেষ দিম আজ অনুপমার শেষ দিন। এ-সংসারে সে আর থাকিবে না। জ্ঞান হইয়া অবধি সে মুখ পায় নাই। ছেলেবেলায় ভালবাসিয়াছিল বলিয়া নিজের শান্তি নিজে ঘুচাইয়াছিল ; অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করিয়াছিল বলিয়া বিধাতা তাহাকে একতিলও মুখ দেন নাই। যাহাকে ভালবাসিত মনে করিত, র্তাহাকে পাইল না ; যে ভালবাসিতে আসিয়াছিল, তাহাকে তাড়াইয়া দিল । পিতা নাই, মাতা নাই, দাড়াইবার স্থান নাই, স্ত্রীলোকের একমাত্র অবলম্বন সতীত্বের স্বযশ, তাহাও ঈশ্বর কাড়িয়া লইতে বসিয়াছেন। তাই আর সে সংসারে থাকিবে না। বড় অভিমানে তাহার হৃদয় ফাটিয়া উঠিতেছে। নিস্তন্ধ নিদ্রিত কৌমুদি-রজনীতে খিড়কীর দ্বার খুলিয়া, আবার-বার বার তিনবার—পুষ্করিণীর সেই পুরাতন সোপানে আসিয়া উপবেশন করিল। এবার অনুপমা চালাক হইয়াছে। আর বার সন্তরণ-শিক্ষাটা তাহাকে মরিতে দেয় নাই, এবার তাহা বিফল করিবার জন্ত কঁাকে কলসী লইয়া আসিয়াছে। এবার পুষ্করিণীর কোথায় ডুবন-জল আছে, তাহ বাহির করিয়া লইবে—এবার নিশ্চয় ডুবিয়া মরিবে! মরিবার পূৰ্ব্বে পৃথিবীকে বড় মুন্দর দেখায়। ঘর-বাড়ি, আকাশ, মেঘ, চন্দ্র, তারা, জল, ফুল, লতা, বৃক্ষ—সব মুন্দর হইয়া উঠে, যেদিকে চাও সেইদিকেই মনোরম বোধ হয়। সব যেন অঙ্গুলি তুলিয়া বলিতে থাকে, মরিও না, দেখ আমরা কত মুখে আছি—তুমিও সহ্য করিয়া থাক, একদিন স্বৰী হইবে। না হয়, আমাদের কাছে এস, আমরা তোমাকে স্বর্থী করিব ; অনর্থক বিধাতৃদত্ত আত্মাকে নরকে নিক্ষেপ করিও না। মরিতে আসিয়াও মানুষ তাই অনেক সময়ে ফিরিয়া যায়। আবার যখন ফিরিয়া দেখে, জগতে তাহার একতিলও স্বথ নাই, অসীম সংসারে দাড়াইবার একবিন্দু স্থান নাই, আপনার বলিতে একজনও নাই, তখন আবার মরিতে চাহে, কিন্তু পরক্ষণেই যেন ভিতর হইতে বলিতে থাকে, ছিছি! ফিরিয়া যাও—এমন কাজ করিও না । মরিলেই কি সকল দুঃখের অবসান হইল ? কেমন করিয়া জানিলে ইহা অপেক্ষা আরও গভীর দুঃখে পতিত হুইবে না ? মানুষ অমনি সঙ্কুচিত হইয়া পশ্চাতে হাটিয়া দাড়ায়। অনুপমার কি এ-সব কথা মনে হইতেছিল না ? কিন্তু অনুপমা তবুও মরিবে, কিছুতেই আর বঁাচিবে না। পিতার কথা মনে হইল, মাতার কথা মনে হইল, সঙ্গে সঙ্গে আর একজনের কথা মনে হইল। যাহার কথা মনে হইল, সে ললিত। যাহারা তাহাকে ভালবাসিত, তাহারা সকলেই একে একে চলিয়া গিয়াছে। শুধু একজন এখনও জীবিত আছে। NB8 še