প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ দেশেরই নিয়ম স্বামী-স্ত্রীর সম্বন্ধ সৰ্ব্বত্রই প্রায় একরূপ ; আতিথ্য সৰ্ব্বদেশেই গৃহস্থের ধর্ম। প্রভেদ শুধু খুঁটিনাটিতে। মৃতদেহ কেহ-ব গৃহ হইতে গাড়ি-পাকী করিয়া, ফুলের মালায় আবৃত করিয়া গোরস্থানে লইয়া যায়, কেহ-বা ছেড়া মাদুরে জড়াইয়া, ধংশখণ্ডে বিটালির দড়ি দিয়া বাধিয়া, গোবরজলের সৌগন্ধ চড়াইয়া ঝুলাইতে ঝুলাইতে লই চলে ; বিবাহ করিতে কোথাও বা বরকে তরবারি প্রভৃতি পাচ হাতিয়ার বাধিয়া যাইতে হয়, আর কোথাও বা জাতিটি হাতে করিয়া গেলেই পাঁচ হাতিয়ারের কাজ হইতেছে মনে করা যায়। বস্তুত, এইসব ছোট জিনিস লইয়াই মানুযে মানুষে ৰাজ-বিতণ্ডা কলহ-বিবাদ । এবং যাহা বড়, প্রশস্ত, সমাজে বাস করিবার পক্ষে যাহা একান্ত প্রয়োজনীয়, সে সম্বন্ধে কাহারও মতভেদ নাই, হইতেও পারে না। আর পারে না খলিয়াই এখনও ভগবানের রাজ্য বজায় রহিয়াছে ; মানুষ সংসারে আজীবন বাস করিয়া জীবমান্তে র্তাহারই পদাশ্রয়ে পৌঁছিবার ভরসা করিতেছে। অতএব, মৃতদেহের সৎকার করিতে হয়, বিবাহ করিয়া সস্তান প্রতিপালন করিতে হয়, প্রতিবেশীকে স্ববিধ পাইলেই খুন করিতে নাই, চুরি করা পাপ, এইসব স্থল, অথচ অত্যাবগুক সামাজিক ধৰ্ম্ম সবাই মানিতে বাধ্য ; তা তাহার বাড়ি আফ্রিকার সাহারাতেই হউক, আর এশিয়ার পাইবিরিয়াতেই হউক। কিন্তু, এইসকল আমার প্রধান আলোচ্য বিষয় নয় । অথচ, এমন কথাও বলি নাই,—মনেও করি না যে, যাহা কিছু ছোট, তাহাই তুচ্ছ এবং জালোচনার অযোগ্য। পৃথিবীর যাবতীয় সমাজের সম্পর্কে ইহার কাজে না জালিলেও বিচ্ছিন্ন এবং বিশেষ সমাজের মধ্যে ইহাদের যথেষ্ট কাজ আছে এবং সে কাজ তুচ্ছ নহে। সকল ক্ষেত্রেই এই সকল কৰ্ম্মসমষ্টি—যা দেশাচাররূপে প্রকাশ পায় তাহার যে অর্থ আছে, কিংবা সে অর্থ স্থম্পষ্ট, তাহাও নহে ; কিন্তু, ইহারাই যে বিভিন্ন স্থানে সৰ্ব্বজনীন সামাজিক ধর্মের বাহক, তাহাও কেহ অস্বীকার করিতে পারে না । বহন করিবার এই সকল বিচিত্র ধারাগুলিকে চোখ মেলিয়া দেখাই আমার লক্ষ্য । - সামাজিক মাহুবকে তিন প্রকার শাসন-পাশ আজীবন বহন করিতে হয়। প্রথম রাজ-শাসন, দ্বিতীয় নৈতিক শাসন এবং তৃতীয় যাহাকে দেশাচার কহে তাহারই শাসন। রাজ-শাসন –আমি স্বেচ্ছাচারী দুৰ্ব্বত্ত রাজার কথা বলিতেছি না-যে রাজা স্বসত্য, প্রজাবৎসল—র্তাহার শাসনের মধ্যে র্তাহার প্রজাবৃন্দেরই সমবেত ইচ্ছা প্রচ্ছন্ন হইয়া থাকে। তাই খুন করিয়া যখন সেই শাসনপাশ গলায় বাধিয়া ফাসিকাঠে গিয়া উঠি, তখন সে র্যাসের মধ্যে আমার নিজের ইচ্ছা যে প্রকারাস্তরে মিশিয়া নাই, এ-কথা বলা যায় না । অথচ মানবের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিবশে আমার নিজের বেলা সেই নিজের ইচ্ছাকে যখন ফাকি দিয়া আত্মরক্ষা করিতে চাই তখন ষে জাসিয়া জোর করে, সে-ই রাজশক্তি। শক্তি ব্যতীত শাসন হয় না। এমনি . ets