প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আহারাদির পর কোনমতেই কেদারবাবু এই রৌদ্রের মধ্যে স্বরেশকে ছাড়িয়া দিলেন না । বিশ্রামের নামে সমস্ত দুপুরটা একটা ঘরে কয়েদ করিয়া রাখিলেন। সে চোখ বুজিয়া কোঁচের উপর পড়িয়া রহিল, কিন্তু কিছুতেই ঘুমাইতে পারিল না। ঘরের বাহিরে মধ্যাহ্নস্থৰ্য্য আকাশে জলিতে লাগিল, ভিতরে আত্মসংযমের আত্মপ্লানি ততোধিক ভীষণ তেজে স্কুরেশের বুকের ভিতর প্রজলিত হইয়া উঠিল। এমনি করিয়া সমস্ত বেলাটা অন্তরে-বাহিরে পুড়িয়া আধমরা হইয়া যখন সে উঠিয়া বসিয়া স্বমুখের জানালাটা খুলিয়া দিল, তখন বেলা পড়িয়া গিয়াছে। কেদারবাবু প্রসন্নমুখে ঘরে ঢুকিয়া জোর করিয়া একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, আঃ–গরমট একবার দেখেচ সুরেশ ! আমার এতটা বয়সে কলকাতায় কস্মিনকালেও এমন দেখিনি । বলি, ঘুমটুম একটু হয়েছিল কি ? সুরেশ ঘাড় নাড়িয়া কহিল, না, দিনের-বেলায় আমি ঘুমোতে পারিনে । কেদারবাবু তৎক্ষণাৎ বলিলেন, আর পারা উচিতও নয়। ভয়ানক স্বাস্থ্যহানি হয়। তবুও আমি তিন-চারবার উঠে উঠে দেখি, তোমার পাখাওয়ালা টানচে, না ঘুমোচ্চে। এরা এত বড় শয়তান যে, যে মূহূর্তে তুমি একটু চোখ বুজবে, সেই মুহূর্তে সেও চোখ বুজবে। যা হোক, একটু সুস্থ হতে পেরেচ ত? আমি নিশ্চয় জানতুম —এ রোদে বাইরে বেরুলে আর তুমি বঁাচতে না । সুরেশ চুপ করিয়া রহিল। কেদারবাবু ঘরের অন্যান্য জানালাগুলো একে একে খুলিয়া দিয়া, বসিবার চৌকিখানা কাছে টানিয়া কহিলেন, আমি ভাবচি সুরেশ, আর গড়ি-মসির প্রয়োজন নেই। সমস্ত স্পষ্ট করে মহিমকে একখানা চিঠি লিখে দিই। কি বল ? প্রশ্নটা স্কুরেশের পিঠের উপর যেন মৰ্ম্মান্তিক চাবুকের বাড়ি মারিল । সে এমনি চমকিয়া উঠিল যে, কেদারবাৰু দেখিতে পাইয়া বলিলেন, নিষ্ঠুর কর্তব্য যে কি করে করতে হয়, সে শিক্ষা ত তুমিই আমাকে এতকাল পরে দিলে সুরেশ ; এখন তোমার ত পেছুলে চলবে না বাবা । এ ত ঠিক কথা। স্বরেশ কিছুক্ষণ মৌন থাকিয়া বলিল, কিন্তু আপনার কন্যারও এ সম্বন্ধে মতামত নেওয়া চাই । কেদারবাবু অল্প হাসিয়া কহিলেন, চাই বই কি । তিনি কি স্পষ্ট করে চিঠি লিখে দিতেই বলেন ? কেদারবাবু ইহার সোজা জবাব না দিয়া কহিলেন, তা একরকম তাই বই কি । ३*