প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৭৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপ্রকাশিত রচনাবলী গিয়াছেন, তাহার সহিত ভববিভূতিবাবুর এই মন্তব্য খাপ খায় না। আমার ঠিক স্মরণ হইতেছে না (এবং বইখানাও হাতের কাছে নাই), কিন্তু মনে যেন পড়িতেছে, fêf Kant to Critique of the Pure Reason ag of wootosh ভূমিকায় লিখিয়াছেন–জগতে আসিয়া যদি কিছু শিথিয় থাকি ত সে ঋকবেদ ও এই Critique হইতে। একটা গ্রন্থের ভূমিকায় আর একটা গ্রন্থের উল্লেখ এমন অযাচিতভাবে করা সহজ প্রদ্ধার কথা নয়। তবে যে কেন তিনি ইহাকেই খাটো করিয়া দিবার প্রয়াস করিয়া “আশাতীত সঙ্কীর্ণ অন্তঃকরণের পরিচয় দিয়াছেন", তাহ ভববিভূতিবাবু বলিতে পারেন। যাই হউক, এই “হিন্দুজাতির প্রাণস্বরূপ” ১০ম মণ্ডলের ৯• স্থত্তটি অপৌরুষেয় ঋকবেদেরই অন্তর্গত থাকা সত্ত্বেও পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণের পদাঙ্কাকুসারী বঙ্গীয় অনুবাদক তাহাকে প্রক্ষিপ্ত বিবেচনা করায় ভববিভূতি মহাশয় “বড়ই কাতরকণ্ঠে দেশের আশা-ভরসাস্থল ছাত্রবৃন্দ ব্রাহ্মণ তনয়গণ”কে ডাকাডাকি করিতেছেন, সেই যুক্তটি সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ আলোচনা আবশ্যক । ব্রাহ্মণ ভিন্ন আর কাহাকেও ডাক দেওয়া উচিত নয় । ইতিপূৰ্ব্বেই এই ১০ম মণ্ডলেরই ৮৫ যুক্ত সম্বন্ধে আলোচনা হইয়া গিয়াছে ; তাহার পুনরুল্লেখ নিম্প্রয়োজন। কিন্তু এই প্রখ্যাত ৯০ হুক্তটি কি ? ইহা পরমপুরুষের মুখ-হাত-পা দিয়া ব্রাহ্মণ প্রভৃতির তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু ইহা জটাপাট, পদপাঠ, শাকল, বাস্কল দিয়া যতই যাচাই হইয়া গিয়া থাকুক না কেন, বিশ্বাস করিতে হইলে অন্ততঃ আরও শ-চারেক বৎসর পিছাইয়া যাওয়া আবশ্যক। কিন্তু সে যখন সম্ভব নহে, তখন আধুনিককালে সংসারের চোঁদ আনা শিক্ষিত সভ্য লোক যাহা বিশ্বাস করেন—সেই অভিব্যক্তির পর্যায়েই মানুষের জন্ম হইয়াছে বলিয়া মানিতে হইবে। তার পর কোটি কোটি বৎসর নানাভাবে তাহার দিন কাটিয়া, শুধু কাল, না হয় পরস্ত সে সভ্যতার মুখ দেখিয়াছে। এ-পৃথিবীর উপর মানবজন্মের তুলনায় চাতুৰ্ব্বৰ্ণ ঋগ্বেদে থাকুক আর না-থাকুক, সে কালকের কথা । অতএব হিন্দু-জাতির প্রাণস্বরূপ এই স্বক্তটিতে চাতুৰ্ব্বর্ণ্যের স্বষ্টি যেভাবে দৃষ্টি করা হইয়াছে, তাহা প্রক্ষিপ্ত না হইলেও খাটি সত্য জিনিস নয়—ব্ধপক। কিন্তু ভয়ানক মিথ্যা, তদপেক্ষ ভয়ানক সত্য-মিথ্যায় মিশাইয়া দেওয়া । কারণ, ইহাতে না পারা যায় সহজে মিথ্যাকে বর্জন করা, না যায় নিষ্কলঙ্ক সত্যকে পরিপূর্ণ শ্রদ্ধায় গ্রহণ করা। অতএব, এই রূপকের মধ্য হইতে নীর ত্যজিয়া ক্ষীর শোষণ করা বুদ্ধির কাজ। সেই বুদ্ধির তারতম্য-অনুসারে একজন যদি ইহার প্রতি অক্ষরটিকে অত্রাস্ত সত্য বলিয়া মনে করে এবং আর একজন সমস্ত যুক্তটিকে মিথ্যা বলিয়। ত্যাগ করিতে উষ্ঠত হয়, তখন অপৌরুষেয়ের দোহাই দিয়া তাহাকে ঠেকাইবে কি করিয়া ? সে যদি কহিতে থাকে, ইহাতে ব্রাহ্মণের ধৰ্ম্ম, ক্ষত্রিয়ের ধৰ্ম্ম, Wool