প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপ্রকাশিত রচনাবলী এই মহতের আশ্রয় ধরিতে গিয়া অনুরূপ একস্থানে লিখিলেন, “ভূমার সঙ্গে ভূমির, ক্ষুত্রের সঙ্গে মহতের এই যে যোগ " অর্থাৎ, ছোট্ট ভূমিটি মহৎ ভূমির সঙ্গে যুক্ত হইতেছে। ‘ভূম কথাটা যে ব্যবহার করা আবশ্বক, আমি তাহ অস্বীকার করি না, কিন্তু কোনটি ক্ষুদ্র, কোনটি মহৎ সে সংবাদটাও কি বই লেখার পূৰ্ব্বে অনুসন্ধান করা আবগুক ছিল না ? ১৩১৭ সালের আষাঢ়ের ভারতীতে ‘প্রাচীন ভারতের পূজায়’ শ্ৰীমতী ঘোষজ্ঞাষা লিখিয়াছেন—“আত্মসম্মানের সহিত আত্মাদরের একটা সাদৃশ্য আছে, এই সাদৃশু-সঙ্কট এড়াইবার জন্য ভারতবর্ষের ধর্থনীতি আত্মসম্মানকে দূরে রাখিয়া আসিয়াছে। ফল যখন পাকে, তখন আপনা হইতেই বোট ছাড়িয়া পড়ে, পাকাইবার জন্য তাহাকে বৃন্তহীন করিলে তাহা বিকৃতই হয়, পরিণত হয় না।” আমি আজ পর্যন্ত বুঝিতে পারিলাম না, এই ‘বোটাছাড়ার’ উপমাটির যোগ কাহার সঙ্গে । মৌলিক না হইলেও স্বতন্ত্রভাবে উপমাটি খুব ভাল তাহা স্বীকার করি, কিন্তু এই আগাগোড়া পরিপূর্ণ স্বখ্যাতির মধ্যে ভাল যে এখানে সে কাহার করিতেছে তাহা বুদ্ধির অগোচর। “বাবলার মত সৰ্ব্ববিসারি গুল্ম'টার ন্যায়” অহং জিনিসটাকে বারংবার নিন্দা করিয়া তাহাকে পরিবর্জন করিয়া প্রাচীন ভারতবর্ষ যেদিন বিরাট ব্যাপার করিয়াছিল, এবং তাহার প্রত্যেক জাতি ; প্রত্যেক বর্ণ তাহার বিরাট রাজছত্রতলে স্থান পাইতেছিল, সেই সময়ে এই জোর করিয়া বোটাছাড়া অপরিণত ফলটি যে কোন শ্রেণীর মধ্যে ঢুকিতে গিয়া অন্যায় করিয়াছিল তাহ বুঝিয়া লইবার কোন পথই লেখিকা রাখেন নাই। সেদিন এই প্রাচীন ভারতের মুখ্যাতি ধরিতেছিল না ; হঠাৎ এই বৎসর-দুয়েকের মধ্যে সে কি অপরাধ করিয়াছে যে, ঘোষজায়া মহাশয়া মনুষ্যত্বের সাধনার ছুতা তুলিয়া এমন করিয়া তাহাকে আজ ভৎসনা শুরু করিয়া দিয়াছেন ? বলিতেছেন, “কিছুমাত্র না বুঝিয়া শুক ও তোতার মত কণ্ঠস্থ করা যে বিদ্যাধ্যয়ন নহে, তাহা বলা নিশ্চয়ই বাহুল্যোক্তি, অধুনা শিশু-শিক্ষাতেও এরূপ মূঢ় নীতি প্রযুক্ত হয় না। কিন্তু, আমাদের এই প্রদ্ধেয়, পূজ্যপাদ, জ্ঞানগরিষ্ঠ ভারতবর্ষ এখনও তাহার ত্রিশ কোট নর-নারীকে সেই প্রাথমিক যুগের প্রথম পাঠ পড়াইতেছে, গম্ভীর-মুখে মাথা নাড়িয়া সে বলিতেছে, “জিজ্ঞাসা করিবার তোমাদের অধিকার নাই, আজ্ঞাবহের মত তোমরা কেবল আজ্ঞা পালন করিবে, ইহাই তোমাদের মুক্তির মূল্য !" জ্ঞানগরিষ্ঠ ভারতবর্ষের এই জ্ঞানের পরিচয় দিয়া পরে লিখিতেছেন “কিন্তু প্রাচীন ভারত এই আপেক্ষিকতাকে একেবারেই আমল দেয় নাই। নেশার কোকে অসাধ্য-সাধনের পরম উল্লাসকে সে এমন বড় করিয়া দেখিয়াছিল যে, জীবনের ছোটখাট কৰ্ত্তব্যগুলি একান্তভাবে সে অবজ্ঞা করিয়াছে।” প্রাচীন ভারতবর্ষ নেশা খাইয়া কি করিয়াছিল, এবং জীবনের ছোটখাট কর্তব্যগুলি একান্তভাবে অবজ্ঞা করিয়াছিল কিংবা করে নাই, এ তর্ক তুলিব না। 9ፃ¢