প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপ্রকাশিত রচনাবলী মধ্যেই নয়। কি ধর্তব্যের মধ্যে সেইটা নিশ্চয়ই যেটা না জানা সত্বেও লেখ৷ হইয়াছে। যেখানে সতী আফিং এবং বেলেডোনা দুই খাইয়াছে। একটা বিষ জার একটা প্রতিষেধক। বেলেডোনা দিয়ে ডাক্তারের “মরফিন ইনজেকট করেন। দুইটা বিষ একসঙ্গে সেবন করিলে দুর্ভাগা যে অনেক সময়ে শুধু মরে না, তা নয়, মরিলেও অত শীঘ্র অত আরামে মরে না ; অনেক বিলম্বে অনেক কষ্টে মরে । সেটা নিশ্চয়ই লেখিকার অভিপ্রায় ছিল না। তাছাড়া, দুর্ঘটনার আশঙ্কা যথেষ্ট ছিল । হয়ত মরিতই না, হয়ত পোড়াইবার সময় চোখ চাহিয়া ফেলিত। যাহা হউক, যখন নির্বিঘ্নে কার্ধ্যোদ্ধার হইয়াছে, তখন আর আলোচনার প্রয়োজন নাই। কিন্তু বেলেডোনা যোগাড় করিবার জন্ত মালিশের ঔষধ, ডাক্তার, ডাক্তারখানা, বাত ইত্যাদি অনেক অবাস্তর কথার অবতারণা করিতে হইয়াছে। সুতরাং, একটুখানি জানিয়া লিখিলে আর এই বাজে মেহমতগুলো করিতে হইত না । আর না। এইবার সমাপ্ত করি । অপ্রিয় কথা অনেক লিখিলাম। আশা করি ইহাতে স্বফল ফলিবে। আর যদি প্রচলিত নিয়মানুসারে লেখক-লেখিকার এই বলিয়া সাত্বনা লাভ করিবার চেষ্টা করেন যে, সমালোচকেরা নিজেরা লিখিতে পারে না বলিয়াই হিংসা করিয়া গ্লানি করে, তাহা হইলে আমি নিরুপায় । কিন্তু সমালোচক মাত্রেই যে লিখিতে পারে না, এবং পারে না বলিয়াই দোষ দেখাইয়া বেড়ায়, এ-কথাটার উপরেও তত আস্থা রাখা ঠিক নয়। —শ্ৰীঅনিলা দেবী