প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৪৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাহ অচলা চুপ করিয়া রহিল। কেদারবাবু উৎসাহভরে বলিতে লাগিলেন, জান ত, আমি চিরকাল স্পষ্ট কথা ভালবাসি। মুখে এক, ভিতরে আর, আমার দ্বারা হবার নয়। কাজেই খুলে বলে দিলাম যে, এখন সমস্ত জেনে শুনে মহিমের হাতে মেয়ে দেবার চেয়ে তাকে জলে ফেলে দেওয়া ভাল। স্বরেশেরও যখন তাই মত, তখন বলতেই হ'ল যে, তার বন্ধুর সঙ্গে বিয়ের কথাটা অনেক দূর জানাজানি হয়ে গেছে, তখন সম্বন্ধ ভাঙলেই চলবে না—একটা গড়ে তুলতেও হবে ; না হলে সমাজে মুখ দেখানো যাবে না । কিন্তু যাই বলো, ছেলে বটে এই স্বত্বেশ ! আমি মঙ্গলময়কে তাই বার বার প্রণাম জানাচ্চি । পিতার প্রণাম জানানো আর একবার নির্বিঘ্নে সমাধা হইবার পর অচলা ধীরে ধীরে কহিল, এর কাছ থেকে এত টাকা না নিলেই কি নয় বাবা ? কেদারবাবু শঙ্কায় চকিত হইয়া উঠিলেন ; বলিলেন, না নিলেই যে নয় মা ! বেশ ! কিন্তু আমরা ত শোধ দিতে পারব না । শোধ দেবার কথা কি সুরেশ–কথাটা উদ্বিগ্ন-সংশয়ে বৃদ্ধ শেষ করিতেই পারিলেন না । তাহার সমস্ত মুখ শাদা হইয়া গেল। অচলা সে চেহার দেখিয়া হৃদয়ে ব্যথা পাইল । তাড়াতাড়ি বলিল, তিনি বলছিলেন, পরশু এসে টাকা দিয়ে যাবেন । শোধ দেবার কথা— না, তিনি বলেননি । লেখাপড়া-টড়া— না, সে ইচ্ছে বোধ হয় তার একেবারেই নেই । ঠিক তাই ! বলিয়া পরিতৃপ্তির রুদ্ধশাস বৃদ্ধ ফোস করিয়া ত্যাগ করিলেন এবং চেয়ারে হেলান দিয়া পড়িয়া চক্ষু মুদিয়া পা দুটা স্বমুখের টেবিলের উপর তুলিয়া দিলেন । আনন্দে এবং আরামে তাহার সর্বাঙ্গ যেন ক্ষণকালের জন্য শিথিল হইয়া গেল। কিছুক্ষণ এইভাবে থাকিয়া পা নামাইয় উদ্দীপ্ত-স্বরে কহিলেন, একবার ভেবে দেখ দিকি মা, কোথেকে কি হ’ল ! এই সৰ্ব্বশক্তিমানের হাত কি এতে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে না ? অচলা নীরবে পিতার মুখপানে চাহিয়া রহিল। তিনি উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করিয়া বলিতে লাগিলেন, আমি চোখের উপর দেখতে পাচ্চি, এ শুধু তার দয়া । তোমাকে বলব কি মা, এই দুটাে বংসর একটা রাত্রিও আমি ভাল করে ঘুমোতে পারিনি —শুধু তাকে ডেকেচি। আর স্বরেশকে দেখবামাত্রই মনে হয়েচে, সে যেন পূৰ্ব্বজন্মে অামার সন্তান ছিল । অচলা চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। পিতার সাংসারিক দুরবস্থার কথা সে বেশ ויט