প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৪৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ জানিত, কিন্তু তাহা এতটা দূর পর্যন্ত ভিতরে ভিতরে অগ্রসর হইয়া পড়িয়াছিল, ইহাই জানিত না । আজ দুই বৎসরের একাগ্র আরাধনায় তাহার দুঃখের সমস্ত যদি বা মঙ্গলময়ের আশীৰ্ব্বাদে অকস্মাৎ লঘু হইয়া গেল বটে, কিন্তু তাহার নিজের সমস্ত একেবারে ভীষণ জটিল হইয়া দেখা দিল । স্কুরেশের কাছে টাকা লওয়া সম্বন্ধে সে এইমাত্র মনে মনে যে-সকল সঙ্কল্প করিয়াছিল, তাহ আবার তাহাকে পরিত্যাগ করিতে হইল । লেশমাত্র বাধা দিবার কথা সে আর মনে করতে পারিল না। যাই হোক, টাকাটা তাদের গ্রহণ করিতেই হইবে । সান্ধ্য-উপাসনার জন্য কেদারবাবু উঠিয়া গেলেন । অচলা সমস্ত ব্যাপারটা গোড়া হইতে শেষ পর্য্যন্ত মনের মধ্যে স্পষ্ট করিয়া উপলব্ধি করিবার জন্য সেখানেই স্তব্ধ হইয়া রহিল। - যে দুই বন্ধু আজ অকস্মাৎ তাহার জীবনের এই সন্ধিস্থলে এমন পাশাপাশি আসিয়া দাড়াইয়াছে, তাহাদের একজনকে যে আজ যাও বলিয়া বিদায় দিতেই হইবে, তাহাতে বিন্দুমাত্র সংশয় নাই ; কিন্তু কাহাকে ? কে সে ? যে মহিম তাহার অসন্দিগ্ধ বিশ্বাসে, কে জানে কোন কর্তৃব্যের আকর্ষণে, নিশ্চিন্ত নিরুদ্বেগে বসিয়া আছে, তাহার শাস্ত স্থির মুখখান মনে করিতেই একটা প্রবল বাপোচ্ছাসে অচলার দুই চক্ষু পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল । কোনদিন যে কোন অপরাধ করে নাই, অথচ, 'যাও’ বলিতেই সে নি:শব্দে বাহির হইয়া যাইবে । এ-জীবনে, কোন সূত্র, কোন ছলেই আর তাহাদের পথে আসিবে না। অচলা স্পষ্ট দেখিতে লাগিল, সেই অভাবনীয় চির-বিদায়ের ক্ষণে ও তাহার অটল গাম্ভীৰ্য্য এক তিল বিচলিত হইবে না, কাহাকেও দোষ দিবে না, হয়ত কারণ পর্যন্তও জানিতে চাহিবে না—নিগৃঢ় বিস্ময় ও তীব্র বেদনার একটা অস্পষ্ট রেখা হয়ত বা মুখের উপর দেখা দিবে, কিন্তু সে ছাড়া আর কাহারে তাহা চোখে ও পড়িবে না ! তাহার পরে একদিন মুরেশের সঙ্গে বিবাহের কথা তার কানে উঠিবে । সেই মুহূর্তের অসতর্ক অবসরে হয়ত বা একটা দীর্ঘশ্বাস পড়িবে, না হয়, একটু মুচকিয়া হাসিয়াই নিজের কাজে মন দিবে। ব্যাপারটা কল্পনা করিয়া এই নির্জন ঘরের মধ্যেও তাহার চোখ-মুখ লজ্জায়, ঘৃণায় রাঙা হইয়া উঠিল । సి দিন দশ-বার কাটিয়া গিয়াছে। কোরবাবুর ভাবগতিক দেখিয়া মনে হয়, এত ফুৰ্ত্তি বুঝি তাহার যুবা বয়সেও ছিল না, আজ সন্ধ্যার প্রাক্কালে বায়স্কোপ দেখিয়া "לכ\