প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ সুরেশ সংক্ষেপে কহিল, না, জানিনে । তিনি বাড়ি থেকে ফিরে এসেছেন কি না, জানেন ? না । তাও জানিনে । অচলা গাড়ির বাহিরে পুনরায় দৃষ্টি নিবদ্ধ কবিয়া মৃদুকণ্ঠে কহিল, তা হলে খোজ নিয়ে একখানা চিঠিতে র্তাকে সমস্ত কথা জানানো বাবার উচিত । হঠাৎ কোনদিন আবার না এসে উপস্থিত হন । - আবার কিছুক্ষণের জন্য উভয়ে নীরব হইয়া রহিল। মুরেশ আর একবার তাহার শিথিল হাতখনি নিজের হাতের মধ্যে লইয়া ধীরে ধীরে বলিতে লাগিল, আমার সবচেয়ে কষ্ট হয় অচলা, যখন মনে হয়, আমাকে কোনদিন শ্রদ্ধা পৰ্য্যস্ত করতে পারবে না ! তোমার চিরকাল মনে হবে শুধু টাকার জোরেই তোমাকে ছিড়ে এনেচি । আমার দোষ । অচলা তাড়াতাড়ি মুখ ফিরাইয়া বাধা দিয়া বলিল, এমন কথা আপনি বলবেন না—আপনার কোন দোষ দিতে পারিনে। একটু থামিয়া বলিল, টাকার জোর সংসারে সৰ্ব্বত্রই আছে, এ ত জানা কথা ; কিন্তু সে জোরে আপনি ত জোর খাটাননি। বাবা না জানতে পারেন, কিন্তু আমি সমস্ত জেনে-শুনে যদি আপনাকে অশ্রদ্ধা করি, ত আমার নরকেও স্থান হবে না । চিরদিন সামান্য একটু করণ কথাতেই সুরেশ বিগলিত হইয়া যায় । অচলার এইটুকু প্রিয়-বাক্যেই তাহার চোখে জল আসিয়া পড়িল । সে-জল সে অচলার হাত দুখানি তুলিয়া ধরিয়া তাহাতেই মুছিয়া ফেলিয়া বলিল, মনে করে না, এ অপরাধ, এ অন্যায়ের পরিণাম আমি বুঝতে পারিনে। কিন্তু আমি বড় দুৰ্ব্বল । বড় দুৰ্ব্বল । এ আঘাত মহিম সইতে পারবে-কিন্তু আমার বুক ফেটে যাবে। বলিয়া একটা কঠিন ধাক্কা যেন সামলাইয়া ফেলিয়া রুদ্ধস্বরে কহিল, তুমি যে আমার নও, আর একজনের, এ কথা আমি ভাবতেও পারিনে । তোমাকে পাব না মনে হলেই আমার পায়ের নীচে মাটি পর্য্যন্ত যেন টলতে থাকে । সেইমাত্র পথের ধারে গ্যাস জালা হইতেছিল। গাড়ি তাহদের গলিতে ঢুকিতেই একটা উজ্জ্বল আলো স্কুরেশের মুখের উপর পড়িয়া তাহার দুই চক্ষের টলটলে জল অচলার চোখে পড়িয়া গেল। মুহূর্তের করুণায় সে কোনদিন যাহা করে নাই, আজ তাহাই করিয়া বসিল! সম্মুখে ঝুকিয়া পড়িয়া হাত দিয়া তাহার অশ্রু মুছাইয়া দিয়া বলিয়া ফেলিল, আমি কোনদিনই বাবার অবাধ্য নই। তিনি আমাকে ত তোমার হাতেই দিয়েচেন । স্বরেশ অচলার সেই হাতটি নিজের মুখের উপর টানিয়া লইয়া বারংবার চুম্বন করিতে করিতে বলিতে লাগিল, এই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার অচলা, এর বেশি