প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৫১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাহ এই আলোচনাই বোধ করি চলিতেছিল। কেদারবাবু বায়স্কোপে নূতন মাডিয়াছিলেন ; কথা ছিল, চা-খাওয়ার পরই তাহারা আজ বাহির হইয়া পড়িবেন। স্বরেশের গাড়ি দাড়াইয়াছিল—এমনি সময়ে দুগ্রহের মত ধীরে ধীরে মহিম আসিয়া অকস্মাৎ দ্বারের কাছে দাড়াইল । সকলেই মুখ তুলিয়া চাহিল এবং সকলের মুখের ভাবেই একটা পরিবর্তন দেখা দিল। কেদারবাবু বিরস-মুখে, জোর করিয়া একটু হাসিয়া অভ্যর্থনা করিলেন, এস মহিম । সব খবর ভাল ? মহিম নমস্কার করিয়া ভিতরে আসিয়া বসিল । বাড়িতে এতদিন বিলম্ব হইবার কারণ জিজ্ঞাসার প্রত্যুত্তরে শুধু জানাইল যে, বিশেষ কাজ ছিল। সুরেশ টেবিলের উপর হইতে সেদিনের খবরের কাগজটা হাতে লইয়া পড়িতে লাগিল এবং অচলা পাশের চৌকি হইতে তাহার সেলাইট তুলিয়া লইয়া তাহাতে মনোনিবেশ করিল। স্বতরাং কথাবার্তা এক কেদারবাবুর সঙ্গেই চলিতে লাগিল । হঠাৎ এক সময়ে অচলা বাহিবে উঠিয়া গিয়া মিনিট-খানেক পরেই ফিরিয়া আসিয়া বসিল এবং ক্ষণেক পরেই মাথার উপরে টানা-পাখাটা নড়িয়া জুলিয়া ধীরে ধীরে চলিতে লাগিল। হঠাৎ বাতাস পাইয়া কেদারবাবু খুনী হইয়া বলিয়া উঠিলেন, তৰু ভাল। পাখাওয়াল ব্যাটার এতক্ষণে দয়া হ’ল । 多 স্বত্বেশ তীক্ষ, বক্র দৃষ্টতে দেখিয়া লইল, মহিমের কপালে বিদু বিদু ঘাম দিয়াছে। কেন অচল উঠিয়া গিয়াছিল, কেন পাখাওয়ালার অকারণে দয়া প্রকাশ পাইল, সমস্ত ইতিহাসট। তাহার মনের মধ্যে বিদ্যুদ্বেগে থেলিয়া গিয়া, যে বাতাসে কেদারবাৰু খুশী হইলেন, সেই বাতাসেই তাহার সৰ্ব্বাঙ্গ পুড়িয়া যাইতে লাগিল। সে হঠাৎ ঘাড় তুলিয়া তিক্তকণ্ঠে বলিয়া উঠিল, পাচটা বেজে গেছে—আর দেরি করলে চলবে না কেদারবাবু। কেদারবাবু আলাপ বন্ধ করিয়া চায়ের জন্য ইকো-হুঁকি করিতেই বেয়ার সমস্ত সরঞ্জাম আনিয়া হাজির করিয়া দিল। সেলাই রাখিয়া দিয়া অচলা পেয়ালা-দুই চা তৈরি করিয়া মুরেশ ও পিতার সম্মুখে আগাইয়া দিতেই, তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি খাবে না মা ? অচলা ঘাড় নাড়িয়া বলিল, না বাবা, বড় গরম । হঠাৎ তাহার মহিমের প্রতি দৃষ্টি পড়ায় ব্যস্ত-সমস্ত হইয়া বলিয়া উঠিলেন, ও কি, মহিমকে দিলে না যে ! তুমি কি চা খাবে না মহিম ? সে জবাব দিবার পূৰ্ব্বেই অচলা ফিরিয়া দাড়াইয় তাহার মুখপানে চাহিয়া স্বাভাবিক মৃদুকণ্ঠে কহিল, না, এত গরমে তোমার খেয়ে কাজ নেই। তা ছাড়া ত তোমার চা সহ হয় না । - 8○