প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


शृंश्नांई স্থায়ী হইতে পারিল না। তাহার মুখের প্রতি দৃষ্টিপাতমাত্রেই সে ভাব তাহার চক্ষের নিমিষে নিৰ্ব্বাপিত হইল। কিন্তু, তবুও সে চোখ ফিরাইয়া লইতে পারিল না, নির্নিমেনেত্ৰে চাহিয়া স্তন্ধ হইয়া বসিয়া রহিল। অচলার মুখের উপর আকাশের আলো পড়ে নাই বটে, কিন্তু স্বমুখের দেওয়াল হইতে প্রতিফলিত আরক্ত আভায় সমস্ত মুখখানা স্বরেশের চোখে কঠিন ব্রোঞ্জের তৈরি মূৰ্ত্তির মত বোধ হইল। সে স্পষ্ট দেখিতে পাইল, কি যেন একটা নিবিড় বিতৃষ্ণায় এই নারীর সমস্ত মাধুৰ্য, সমস্ত কোমলতা, নিঃশেষে শুষিয়া ফেলিয়া মুখের প্রত্যেক রেখাটিকে পৰ্যন্ত অবিচলিত দৃঢ়তায় একেবারে ধাতুর মত শক্ত করিয়া ফেলিয়াছে। সহসা কেদারবাবুর প্রবল নিশ্বাসের চোটে সুরেশের চমক ভাঙ্গিতেই সোজা হইয়া বসিল । কেদারবাবু আর একবার তাহার পুরাতন মন্তব্য প্রকাশ করিয়া কহিলেন, যত সব পাগলামি কাগু—কাকে যে কি বলি, আমি ভেবে পাইনে— স্বরেশ অচলাকে উদ্দেশ করিয়া নিরতিশয় গম্ভীর-কণ্ঠে প্রশ্ন কুরিল, আপনি যা বলে গেলেন, তাই ঠিক ? অচল ঘাড় নাড়িয়া কহিল, ই । এর আর কোন পরিবর্তন সম্ভব নয় ? অচলা মাথা নাড়িয়া বলিল, না । রক্তের উচ্ছ্বাস এক ঝলক আগুনের মত স্বরেশের চোখ-মুখ প্রদীপ্ত করিয়া দিল ; কিন্তু সে কণ্ঠস্বর সংযত করিয়াই কহিল, আমার প্রাণটার পর্য্যন্ত যখন কোন দাম নেই, তখনি আমি জানতুম। তাহার বুকের ভিতরটা তখন পুড়িয়া যাইতেছিল। একটুখানি স্থির থাকিয়া বলিল, আচ্ছা, জিজ্ঞাসা করি, আমিই কি আপনাদের প্রথম শিকার, না, এমন আরও অনেকে এই ফাদে পড়ে নিজেদের মাথা মুড়িয়ে গেছে ? অসহ বিস্ময়ে অচলা দুই চক্ষু বিস্ফারিত করিয়া চাহিল। স্বরেশ কেদারবাবুর প্রতি চাহিয়া কহিল, বাপ-মেয়েতে ষড়যন্ত্র করে শিকার ধরার ব্যবসা বিলাতে নতুন নয় শুনতে পাই ; কিন্তু এ-ও বলচি আপনাকে, কেদারবাবু, একদিন আপনাদের জেলে যেতে হবে । কেদারবাবু চীৎকার করিয়া উঠিলেন, এ সব তুমি কি বলচ স্বরেশ ! স্বরেশ অবিচলিত-স্বরে জবাব দিল, চুপ করুন কেদারবাবু ; থিয়েটারের অভিনয় অনেকদিন ধরে চলচে । পুরানো হয়ে গেছে—আর এতে আমি ভুলব না। টাকা আমার যা গেছে, তা যাক—তার বদলে শিক্ষাও কম পেলুম না। কিন্তু এই যেম শেষ হয় । - আচল কাদিয়া উঠিল—তুমি কেন এর টাকা নিলে বাবা ? কেদারবাবু পাগলের মত একথও সাদা কাগজের সন্ধানে এদিকে-ওদিকে হাত বাড়াইয়া, &\e