প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রই শেষে একখানা পুরাতন খবরের কাগজ সবেগে টানিয়া লইয়া চেঁচাইয়া বলিলেন, আমি এখখুনি হাওনোট লিখে দিচ্ছি— স্বরেশ বলিল, থাক্ থাকৃ, লেখালিখিতে আর কাজ নেই। আপনি ফিরিয়ে যা দেবেন, সে আমি জানি । কিন্তু আমিও ঐ কটা টাকার জন্য নালিশ করে আপনার সঙ্গে আদালতে গিয়ে দাড়াতে পারব না। জবাব দিবার জন্য কেদারবাৰু দুই ঠোট ঘন ঘন নাড়িতে লাগিলেন, কিন্তু গলা দিয়া একটাও কথা ফুটিল না। স্বরেশ অচলার প্রতি ফিরিয়া চাহিল। তাহার একান্ত পাংগু-মুখ ও সজল চক্ষের পানে চাহিয়া তাহার একবিন্দু দয়া হইল না, বরঞ্চ ভিতরের জালা শতগুণে বাড়িয়া গেল। সে পৈশাচিক নিষ্ঠুরতার সহিত বলিয়া উঠিল, কি তোমার গৰ্ব্ব করবার আছে অচলা, ঐ ত মুখের শী, ঐ ত কাঠের মত দেহ, ঐ ত গায়ের রঙ । তবু যে আমি ভুলেছিলাম—সে কি তোমার রূপে ? মনেও ক'রো না। পিতার সমক্ষে এই নিলজ অপমানে অচলা দুঃখ ও ঘৃণায় দুই হাতে মুখ ঢাকিয়া কোচের উপর উপুড় হইয়া পড়িল । স্বরেশ উঠিয়া দাড়াইয়া বলিল, ব্রহ্মদের আমি দু’চক্ষে দেখতে পারিনে। যাদের ছায়া মাড়াতেও আমার ঘৃণা বোধ হ’ত, তাদের বাড়িতে ঢোকামাত্রই যখন আমার আজন্মের সংস্কার—চিরদিনের বিদ্বেষ এক মুহূর্তে ধুয়ে মুছে গেল, তখনি আমার সন্দেহ হওয়া উচিত ছিল—এ যাদুবিদ্যা ! আমার যা হয়েছে, তা হোক, কিন্তু যাবার সময় আপনাদের আমি সহস্রকোটি ধন্যবাদ না দিয়ে যেতে পারছিনে । ধন্যবাদ অচলা ! আচল মুখ না তুলিয়া অবরুৎ-কণ্ঠে বলিয়া উঠিল, বাবা, ওঁকে তুমি চুপ করতে বল। আমরা গাছতলায় থাকি, সে-ও ঢের ভালো, কিন্তু ওঁর যা নিয়েচ, তুমি ফিরিয়ে দাও— স্বরেশ উঠিয়া দাড়াইয়। বলিল, গাছতলায় ! একদিন তাও তোমাদের জুটবে না তা বলে দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সেদিন আমাকে স্মরণ করে, বলিয়া প্রত্যুত্তরের অপেক্ষা না করিয়াই দ্রুতবেগে বাহির হইয়া গেল । কেদারবাবু কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া অবশেষে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, উঃ, কি ভয়ানক লোক ! এমন জানলে আমি কি ওকে বাড়ি ঢুকতে দিতুম ! পিতার কথা অচলার কানে গেল, কিন্তু সে কিছুই বলিল না, উপুড় হইয়া পড়িয়া যেমন করিয়া কাদিতেছিল, তেমনি একভাবে পড়িয়া বহুক্ষণ পৰ্য্যস্ত নীরবে অশ্রজলে বুক ভাসাইতে লাগিল। অদূরে চৌকির উপর বসিয়া কেদারবাবু সমস্ত দেখিতে 岔8