প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৬৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাই জানে কে ? কি লিখেচে ওইখানটায় আর একবার পড় দেখি মা ! আগুনের ভেতর থেকে তাকে নিরাপদে বার করে নিয়ে এল ? উঃ কি মহৎ প্রাণ ! দেবতা আর বলে কাকে ! বলিয়া তিনি দীর্ঘশ্বাস মোচন করিলেন। অচলা তেমনি নিরুত্তর অধোমুখে বসিয়া রহিল। কেদারবাবু ক্ষণকাল স্তব্ধভাবে থাকিয়া হঠাৎ বলিয়া উঠিলেন, আচ্ছ, আমাদের একখানা টেলিগ্রাফ করে কি তার খবর নেওয়া উচিত নয় ? তার এ বিপদের দিনেও কি আমাদের অভিমান করা সাজে ? এবার অচলা মুখ তুলিয়া কহিল, কিন্তু আমরা ত তার ঠিকানা জানিনে বাবা । কেদারবাবু বলিলেন, ঠিকানা ! ফয়জাবাদ সহরে এমন কেউ কি আছে যে আমাদের স্বরেশকে আজ চেনে না ? তার ওপর আমার রাগ খুবই হয়েছিল, কিন্তু এখন আর আমার কিছু মনে নেই ! একখানা টেলিগ্রাম লিখে এখখুনি পাঠিয়ে দাও মা ; আমি তার সংবাদ - জানবার জন্যে ব্যাকুল হয়ে উঠেচি । এখুনি দিচ্চি বাবা, বলিয়া সে একখান টেলিগ্রাফের কাগজ আনিতে ঘরের বাহির হইয়া একেবারে মুরেশের সম্মুখেই পড়িয়া গেল । অম্বরে গভীর দুঃখ বহন করার ক্লান্তি এত শীঘ্র মাইযের মুখকে যে এমন শুষ্ক, এমন শ্ৰীহীন করিয়া দিতে পারে, জীবনে আজ অচলা এই প্রথম দেখিতে পাইয়া চমকাইয়া উঠিল। খানিকক্ষণ পর্য্যন্ত কাহারও মুখ দিয়া কথা বাহির হইল না। তার পরে সে-ই কথা কহিল । বলিল, বাবা বসে আছেন ; আম্বন, ঘরে আস্থন । ফয়জাবাদ থেকে কবে এলেন ? ভাল আছেন আপনি ? অজ্ঞাতসারে তাহার কণ্ঠস্বরে যে কতখানি স্নেহের বেদনা প্রকাশ পাইল, তাহা সে নিজে টের পাইল না ; কিন্তু স্বত্বেশ একেবারে ভাঙ্গিয়া পড়িবার মত হইল ; কিন্তু তবুও আজ সে তাহার বিগত দিনের কঠোর শিক্ষাকে নিষ্ফল হইতে দিল না । সেই দুটি আরক্ত পদতলে তৎক্ষণাৎ জামু পাতিয়া বসিয়া পড়িয়া, তাহার অগাধ দুষ্কৃতির সমস্তটুকু নিঃশেষে উজাড় করিয়া দিবার দুর্জয় স্পৃহাকে আজ সে প্রাণপণ বলে নিবারণ করিয়া লইয়া, সসন্ত্রমে কহিল, আমার ফয়জাবাদে থাকবার কথা আপনি কি করে জানলেন ? অচলা তেমনি স্নেহার্ডশ্বরে বলিল, খবরের কাগজে এইমাত্র দেখে বাবা আমাকে টেলিগ্রাফ করতে বলছিলেন । আপনার জন্তে তিনি বড় উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন— আস্বন, একবার তাকে দেখে যাবেন, বলিয়া সে ফিরিবার উপক্রম করিতেই স্বরেশ বলিয়া উঠিল, তিনি হয়ত পারেন ; কিন্তু তুমি আমাকে কি করে মাপ করলে অচলা ? - 载初