প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কিন্তু প্ৰাণ ত আমি ইচ্ছে করে নষ্ট করতে চাইনে! শুধু পরের বিপদে আমার কাণ্ডজ্ঞান থাকে না—এ যে আমার ছেলেবেলার স্বভাব, অচলা । অচলা তাতার প্রতিবাদ করিল না ; কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সে যে একটা দীর্ঘশ্বাস চাপিয়া ফেলিল, স্বরেশ তাহা টের পাইল । বাধা শেধ হইয়া গেলে সে উঠিয়া দাড়াইয়া ধীরে ধীরে বলিল, কাল কিন্তু এ দীনের বাড়িতে একবার পায়ের ধূলো দিতে হবে—তাহার দু'চক্ষু ছল ছল করিয়া উঠিল ; কিন্তু কণ্ঠস্বরে ব্যাকুলত প্রকাশ পাইল না। অচলা আধোমুখে ঘড়ি মাড়িয়া বলিল, অচ্ছা ! মুয়েশ কেদারবাবুকে নমস্কার করিয়া হাসিয়া বলিল, দেখবেন, আমাকে নিরাশ করবেন না যেন ! বলিয়া অচলার মুখের পানে চাহিয়া, আর একবার তাহার আবেদন নিঃশব্দে জানাষ্টয়া ধীরে ধীরে বাহির হইয় গেল। পরদিন যথাসময়ে স্বরেশেল গাড়ি আসিয়া উপস্থিত হইল। কেদারবাৰু প্রস্তুত হইয়াই ছিলেন, কন্যাকে লইয়। নিমন্ত্রণ রক্ষা করিতে যাত্রা করিলেন । সুরেশের বাটীর গেটের মধ্যে প্রবেশ করিয়া কেদারবাবু অবাস্থ হইয়া গেলেন । সে বড়লোক, ইহা ৩ জানা কথা ; কিন্তু তাহা যে কতখানি—শুধু আন্দাজের দ্বারা নিশ্চয় করা এতদিন কঠিন হইতেছিল ; আজ একেবারে সে-বিষয়ে নি:সংশয় হইয়া বঁচিলেন । সুরেশ আসিয়া অভ্যর্থনা করিয়া উভয়কে গ্রহণ করিল ; হাসিয়া বলিল, মহিমের গে। আজও ভাঙতে পারা গেল না কেদারবাবু কাল দুপুরের আগে এ-বাড়িতে ঢুকতে সে কিছুতেই রাজি হ’লো না। কেদারবাবু সে-কথার কোন জবাবও দিলেন না । তিনজনে বসিবার ঘরে আসিয়া প্রবেশ করিতেই একজন প্রৌঢ়া রমণী দ্বারের অন্তরাল হইতে বাহির হইয়া অচলার হাত ধরিয়া তাহাকে বাড়ির ভিতরে লইয়া গেলেন । র্তাহার নিজের ঘরের মেজের উপর একখানি কার্পেট বিছান ছিল, তাহারই উপর অচলাকে সযত্বে বসাইয়া আপনার পরিচয় দিলেন । বলিলেন, আমি সম্পর্কে তোমার শাশুড়ী হই বেীমা । আমি মহিমের পিসি । অচলা প্রণাম করিয়া পায়ের ধূলা লইয়া সবিস্ময়ে তাহার মুখপানে চাহিয়া কহিল, আপনি এখানে কবে এলেন ? মহিমের যে পিসি ছিলেন, তাহা সে জানিত না । প্রৌঢ় তাহার বিস্ময়ের কারণ অকুমান করিয়া হাসিয়া কহিলেন, আমি এইখানেই থাকি মা, আমি স্বরেশের পিসি ; কিন্তু মহিমও পর নয়, তাই তারও আমি পিসি হই মা । তাহার স্বভাব-কোমল কণ্ঠস্বরে এমনই একটা স্নেহ ও আন্তরিকতা প্রকাশ পাইল స్క్రిని