প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তাই চারিদিকে বলে বেড়াবে। কোনদিন ব্রাহ্মদের সঙ্গে না মিশেই ও ভেবে নিলে, তাদের ও ভারি ঘূণা করে । এই নিয়ে মহিমের সঙ্গেও ওর কতদিন ঝগড়া হবার উপক্রম হয়ে গেছে। কিন্তু আমি ত তাকে একরকম মানুষ করেচি, আমি জানি সে কাউকে ঘৃণা করে না-করবার সাধ্যও ওর নেই। এই দেখ না মা, যেদিন থেকে সে তোমাদের দেখলে, সেদিন থেকে— কিন্তু কথাটা শেষ করিতে পারিলেন না, অচলার মুখের প্রতি দৃষ্টি পড়ায় হঠাৎ মাঝখানেই থামিয়া গেলেন। তিনি তাহাদের সম্বন্ধে কতদূর জানিয়াছেন, তাহ বুঝিতে ন পরিলেও অচলার সন্দেহ হইল যে, অন্ততঃ কতকটা পিসিমার অবিদিত নাই। ক্ষণকালের জন্য উভয়েই মৌন হুইয়া রহিল ; অচলা নিজের লজ্জাটাকে কোনমতে দমন করিয়৷ অন্য কথা পীড়িল । জিজ্ঞাসা করিল, পিসিমা, আপনিই কি তবে স্বরেশবাবুকে মানুষ করেছিলেন ? পিসিমা আবেগে পরিপূর্ণ হইয়া বলিলেন, ই মা, আমিই তাকে মানুষ করেচি। দু’বছর বয়সে ও মা-বাপ চারিয়েছিল । আজও আমার সে কাজ সারা হয়নি-- আজও সে বোঝা মাথা থেকে নামেনি, কারুর দুঃখ-কষ্ট কারুর আপদ-বিপদ ও সহ করতে পারে না, প্রাণের আশা-ভরস ত্যাগ করে তার বিপদের মাঝখানে ঝাপিয়ে পড়ে। কত ভয়ে ভয়ে যে দিন-রাত থাকি বেীমা, সে তোমাকে বলতে পারিনে । অচলা আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, ফয়জাবাদের ঘটনাটা শুনেছেন ? পিলিমা ঘাড় নাড়িয়া বলিলেন, শুনেছি বৈকি মা ! ভগবানকে তাই সদাই বলি, ঠাকুর, আমি বেঁচে থাকতে যেন আমাকে আর সে দেখা দেখিয়ো না-মাথায় পা দিয়ে একেবারে আমাকে রসাতলে ডুবিয়ে দিয়ে না। এ আমি কোনমতে সহ করতে পারব না । বলিতে বলিতেই তাহার গলা ধরিয়া গেল। র্তাহার সেই মাতৃস্নেহমণ্ডিত মুখের সকাতর প্রার্থনা শুনিয়া অচলার নিজের চোখ দু'টি সজল হইয়৷ উঠিল, করুণকণ্ঠে কহিল, আপনি নিষেধ করে দেন না কেন পিসিমা ? পিসিমা চোখের জলের ভিতর দিয়া ঈষৎ হাসিয়া বলিলেন, নিষেধ ! আমার নিষেধে কি হবে মা ? যার নিষেধে সত্যি সত্যি কাজ হবে, আমি তাকেই ত আজ কত বছর থেকে খুজে বেড়াচ্চি। কিন্তু সে ত যে-সে মেয়ের কাজ নয় । ওকে বাচাতে পারে, তেমন মেয়ে ভগবান না দিলে আমি কোথায় পাব মা ? : অচলা কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয় আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, আপনার মনের মত মেয়ে কি কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না | পিসিমা কহিলেন, ঐ যে তোমাকে বললুম মা, ভগবান না দিলে কোনদিন কেউ পায় না। যে স্বরেশ কখখনো এ-কথায় কান দেয় না, সে নিজে এসে যেদিন

  • 8