প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ছেলে,-যত কেন না দুঃখ তার জন্তে পাও—একদিন ভগবানের আশীৰ্ব্বাদে সমস্ত সার্থক হবে। তিনি এত বড় ভালবাসার কিছুতেই অমৰ্য্যাদা করতে পারবেন না, এ আমি তোমাকে নিশ্চয় বলচি । অচলা আর একবার হেট । ইয়া তাহার পায়ের ধূলা লইল । তিনি তাহার চিবুক স্পর্শ করিয়া চুম্বন করিয়া মৃদুকণ্ঠে কহিলেন, আহ, এমনি একটি বোঁ নিয়ে যদি আমি ঘর করতে পেতুম ! 3. সুরেশ আসিয়া উভয়কে গাড়িতে তুলিয়া দিয়া নিঃশব্দে নমস্কার করিয়া ফিরিয়া গেল। যাবার সময় লন্ঠনের আলোকে পলকের জন্য তাহার মুখখান অচলার দৃষ্টি আকর্ষণ করিল। সে মুখে যে কি ছিল তাহা জগদীশ্বর জানেন, কিন্তু অদম্য বাম্পোচ্ছাস তাহার কণ্ঠ পর্য্যন্ত ঠেলিয়া উঠিল, জুড়ী-গাড়ি দ্রুতপদে পথে আসিয়া পড়িল। রাস্তার জনস্রোত তখন মন্দীভূত হইয়াছে, সেইদিকে চাহিয়া তাহার হঠাৎ মনে হইল, এতক্ষণ সে যেন একটা মস্ত স্বপ্ন দেখিতেছিল । তাহা মুখের কিংবা দুঃখের তাহা বলা শক্ত । কেদারবাবু এতক্ষণ মৌন হুইয়াই ছিলেন—বোধকরি স্বরেশের ঐশ্বর্ঘ্যের চেহারাটা তাহার মাথার মধ্যে ঘুরিতেছিল ; সহসা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, ই, বড়লোক বটে ! মেয়ের তরফ থেকে কিন্তু এতটুকু সাড়া পাওয়া গেল না । উৎসাহের অভাবে বাকী পথটা তিনি চুপ করিয়াই রহিলেন । গাড়ি আসিয়া যখন তাহার দ্বারে লাগিল এবং সহিস কবাট খুলিয়া দিয়া সরিয়া দাড়াইল, তখন আর একবার যেন তাহার চমক ভাঙ্গিয় গেল ! আবার একটা নিশ্বাস ফেলিয়া নিজের মনে মনেই বলিলেন, সুরেশকে আমরা কেউ চিনতে পারিনি! একটা দেবতা ! Ꮍ 8 আজ অচলার বিবাহ। বিবাহ-সভার পথে পলকের জন্য স্বরেশকে দেখা গিয়াছিল। তাহার পরে সে যে কোথায় অন্তৰ্দ্ধান হইয়া গেল, সারা রাত্রির মধ্যে কেদারবাবুর বাটতে আর উদ্দেশ পাওয়া গেল না। বিবাহ হইয়া গেল। দুই-একটা দিন অচলার মনের মধ্যে বিপ্লব বহিতেছিল । সেই নিমন্ত্রণের রাত্রে সুরেশের পিসিমার কথা সে কোনমতে ভুলিতে পারিতেছিল না ; আজ তাহার নিবৃত্তি হইল। মহিমের অটল গাম্ভীৰ্য্য আজও অক্ষুন্ন রহিল। আনন্দ-নিরানন্দের লেশমাত্র বাহ প্রকাশ তাহার মুখের উপর দেখা দিল না। তবুও শুভদৃষ্টির সময় এই মুখ tNe