প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৮৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रृंश्लाइ লেখাপড়া না জানা দরিদ্র পল্লী-লক্ষ্মীটিও সর্বপ্রকার সাংসারিক দুঃখ-দারিত্রের ক্রোড়ে অহোরাত্র বাস করিয়াও সমস্ত বেদনা-যন্ত্রণার উপরে অবলীলাক্রমে ভাসিয়া বেড়াইতেছে। না আছে তাহার দেহে ক্লান্তি, না আছে তাহার মুখের শ্রান্তি । সুতরাং অচলাকেও সে যে সকল অনভ্যস্ত কাজের মধ্যে অবিশ্রান্ত টানিয়া লইয়া ফিরিতেছিল, যদিচ তাহার কোনটার সহিত তাহার শিক্ষা-দীক্ষা-সংস্কারের সামঞ্জস্য ছিল না, তথাপি না বলিয়া মুখ ফিরাইয়া দাড়ানটা যেন অতি বড় লঙ্গার কথা, এমনই অচলার মনে হইতেছিল। নিজের ভাগ্যটাকেও যে একবার ধিক্কার দিবার জন্য সে এক মুহূৰ্ত্ত বসিয়া শোক করিবে, এই ছয়টা দিনের মধ্যে সে ফাকটুকু পৰ্যন্ত তাহার মিলে নাই—সমস্ত সময়টা সে কাজ দিয়া, হাসি-গল্প দিয়া এমনি ভরাট করিয়া গাথিয়া আনিতেছিল। তাই তাহার শ্বশুরবাড়ি ফিরিয়া যাইবার ইঙ্গিত মাত্রেই অচলার মনে হইতেছিল, সঙ্গে সঙ্গেই এই সমস্ত মেটে-বাড়িটা তাহার দরজা জানালা-দেয়াল সমেত যেন তাসের ঘরের মত চক্ষের নিমিষে উপুড় হইয়া পড়িয়া যাইবে। মৃণালদিদি চলিয়া গেলে এখানে সে এক দওও তিটিবে কি করিয়া । সন্ধ্যার পর এক সময়ে অচলা কহিল, কেবল যে পালাই পালাই কয়চ মৃণালদিদি, বাপের বাড়ি এসে কে এত শীঘ্র ফিরে যায় বল ত ? তা হবে না—আমি যতদিন না কলকাতায় ফিরে যাব, ততদিন তোমাকে থাকতেই হবে । মৃণাল কহিল, কি করব ভাই সেজদি, শাশুড়ীবুড়ী না নিজে মরবে, না আমাকে একদও ছেড়ে দেবে। আমি বলি, বুড়ী তুই মরু। তোর ছেলের বয়স বাট হতে চলল, শেষে তাকে খেয়ে তবে যাবি ? তা এত যে দিবারাত্র কাসে, দমটা ত একবারও আটকে যায় না ! অচলা হাসিয়া ফেলিয়া বলিল, তোমাকে বুঝি তিনি দেখতে পারেন না ? মৃণাল মাথা নাড়িয়া কহিল, দুটি চক্ষে না । অচলা কহিল, আর তুমি ? মৃণাল বলিল, আমিও না। বুড়ীকে গঙ্গা-যাত্রা করিয়ে আমি পাচ-সিকের হরির-লুট দেব মানত করে রেখেছি যে । অচলা মাথা নাড়িয়া কহিল, বিশ্বাস হয় না মৃণালদিদি, তুমি সংসারে কাকে যে দেখতে পারে, আর কাকে যে পারো না, তা তোমার মুখের কথা শুনে কিছুতেই বলবার জো নেই! হয়ত এই বুড়ীকেই তুমি সবচেয়ে বেশি ভালবাস । মৃণাল হাসিমুখে কহিল, সবচেয়ে বেশি ভালবাসি ? তা হবে। বলিয়া অচলায় গাল টিপিয়া দিয়া কাজে চলিয়া গেল । - যাই যাই করিয়া মৃণালের আবার কিছুদিন গড়াইয়া গেল। একদিন হঠাৎ ግግ