প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাহ প্রথমটা মৃণাল হতবৃদ্ধির মত স্তন্ধ হইয়া রহিল । খানিক পরে সে ভাব কাটিয়া গেলেও সে কথা কহিল না, অধোমুখে নিৰ্ব্বাক হইয়া বসিয়া রহিল। অচলা পুনরায় খোচা দিয়া কহিল, কি বল ? মৃণাল আঁচলে চোখ মুছিয়া মূছকণ্ঠে শুধু কহিল, এখন থাক । অচলা আরও কিছুক্ষণ চুপ করিয়া দাড়াইয় থাকিয় ধীরে ধীরে চলিয়া গেল। মৃণাল মুখও তুলিল না, কথাও কহিল না। বুভা শাশুড়ীকে তাহার রাধিয়া দিতে হয়, তিনি অতিশয় শুচিবাই-প্রকৃতির লোক ; এ-কথা শুনিলে কোনকালে যে তাহার জলস্পর্শ করিবেন না, নিদারুণ অভিমানে এ-কথা সে আভাসেও অচলার কাছে প্রকাশ করিল না । অচলা রান্নাঘরে গিয়া সেখানকার কাজ-কৰ্ম্ম সারিয়া হাত ধুইয়া নিজের ঘরে গিয়া শুইয়া পড়িল । কিন্তু আর যে কোন কারণেই হোক, কেবল ঘৃণায় যে তাহার প্রস্তুত অন্ন-ব্যঞ্জন মৃণাল স্পর্শ করে নাই এ কথা মিথ্যা বলিয়াই অচলা মনে মনে জানিত বলিয়া অমন করিয়া আজ আঘাত করিয়াছিল। সত্য বলিয়া বুঝিলে মুখ দিয়া উচ্চারণ করিতেও অচলা পারিত না । অথচ যে প্রভাত আজ কলহের দ্বারাই আরম্ভ হইয়াছিল, তাহার মধ্যাহ্নে ভগবান কাহারও অদক্টই যে প্রস্তুত অল্প মাপান নাই, তাহ উভয়েই মনে মনে বুঝিল । অপরাহ্নবেলায় গরুর গাডি আসিয়া সদরে উপস্থিত হইল। - মৃণাল অচলার ঘরের ভিতর প্রবেশ করিয়া কহিল, নমস্কার করতে এসেচি—সেজদি, বাড়ি চললুম। যদি কখনো ইচ্ছে হয়, একটা ডাক দিয়ে, আবার এসে হাজির হব। একটুখানি থামিয়া কহিল, কিন্তু যাবার সময় একটা কথাও কবে না ভাই ! বলিয়া ক্ষণকাল উৎসুক-চক্ষে চাহিয়া রহিল। কিন্তু অচলা একটা কথাও কহিল না, যেমন বসিয়াছিল, তেমনি মাথা ইেট করিয়া বসিয়া রহিল । তাহার ঘর হইতে বাহির হইয়াই মৃণাল দেখিতে পাইল, মহিম বাড়ি ঢুকিতেছে। কহিল, একটু দাড়াও সেজদা, তোমাকেও একটা নমস্কার করি । মহিম মুখ তুলিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কিছু না খেয়েই বাড়ি চললি মৃণাল ? না হয়, রাত্রিটা থেকে সকালেই যাস্নে ? মৃণাল শুধু একটুখানি হাসিয়া মাথা নাড়িয়া বলিল, না সেজদ, যন্থ গাড়ি ডেকে এনেচে, আজ যাই –কিন্তু আর একদিন নিয়ে এসো । বলিয়া গলায় আঁচল দিয়া নমস্কার কবিয়া পায়ের ধূলা লইল । বলিল, মাথা খাও সেজদাদামশাই, আর একদিন আনতে যেন স্কুলো না ভাই । আজ মহিম হাসিয়া ফেলিল। কহিল, পোড়ারমুখি, তোর স্বভাব কি কোনদিন যাবে না রে ? b"> لا لاس ۹