প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৯৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মিনিট-দশেক পরে চায়ের সরঞ্জাম সঙ্গে লইয়া অচলা পুনরায় যখন প্রবেশ করিল তখন সুরেশ আপনাকে সংবরণ করিয়া লইয়াছিল। চা খাইতে খাইতে সুরেশ কহিল, কৈ তুমি চ খেলে না ? অচলা হাসিয়া কহিল, আমি খাইনে । কেন খাও না ? আর ভাল লাগে না। তা ছাড়া, এ জায়গাট গরম কি না, খেলে ঘুম হয় না। কাল ত প্রায় সারারাত ঘুমোতে পারিনি। হাসিয়া বলিল, একটা রাত ঘুম না হলে চোখ-মুখের কি যে শ্ৰী হয়—পোড়া মুখ যেন আর লোকের সামনে বার করা যায় না। বলিয়া লজ্জিত-মুখে হাসিতে লাগিল । স্বরেশ ক্ষণকাল চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, কিন্তু এ তোমার ছেলেবেলার অভ্যাস, চা খেতে মহিম অনুরোধ করে না ? অচলা হাসিয়া বলিল, আমুরোধ করলেই বা শুনবে কে ? ত৷ এ আর এমন কি জিনিস যে, না খেলেই নয় ? এ-হাসি যে শুষ্ক হাসি সুরেশ তাহা স্পষ্ট দেখিতে পাইল। আবার ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া কহিল, তুমি ত জানই, ভূমিকা করে কথা বলা আমার অভ্যাসও নয়, পারিওনে। কিন্তু স্পষ্ট করে দু একটা কথা জিজ্ঞাসা করলে কি তুমি রাগ করবে ? অচলা হাসি-মুখে কহিল, শোন কথা। রাগ করব কেন ? মুরেশ কহিল, বেশ। তা হলে জিজ্ঞাসা করি, তুমি এখানে স্বখে আছ কি ? অচলার হাসি-মুখ আরক্ত হইয়া উঠিল ; বলিল, এ-প্রশ্ন আপনার করাই উচিত নয় । কেন নয় ? অচলা মাথ নাড়িয়া বলিল, না । আমি স্বখে নেই—এ কথা আপনার মনে হওয়াই অষ্ঠায় । মুরেশ একটুখানি মান-হাসি হাসিয়া বলিল, মনটা কি ন্যায় অন্যায় ভেবে নিয়ে তবে মনে করে অচলা ? কেবল মাস-দুই পূৰ্ব্বে এ ভাবনা শুধু যে আমার উচিত ছিল, তাই নয়, এ ভাবনায় অধিকার ছিল। আজ দু'মাস পরে সব অধিকার যদি ঘুচে থাকে ত থাক, সে নালিশ করিনে, এখন শুধু সত্যি কথা জেনে যেতে চাই ৷ এসে পৰ্য্যন্ত একবার মনে হচ্ছে জিতেচ, একবার মনে হচ্ছে হেরেচ । আমার মনটা ত তোমার অজানা নেই—একবার সত্যি করে বল ত অচলা, কি ? দুৰ্নিবার অশ্রর ঢেউ অচলার কণ্ঠ পৰ্য্যস্ত ফেনাইয়া উঠিল ; কিন্তু প্রাণপণে তাদের শক্তি প্রতিহত করিয়া অচলা প্রবলবেগে মাথা নাড়িয়া বলিল, আমি বেশ আছি !