পাতা:শিখগুরু ও শিখজাতি.pdf/১৪৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চতুৰ্দশ অধ্যায় ১১৭ শেষ গুরু গোবিনসিংহের সময় হইতেই শিখেরা রণ-নৈপুণ্য লাভ করিতেছিল । খালস সৈন্যদল তিনিই গঠন করিয়াছিলেন । স্বধৰ্ম্মরক্ষা ও গুরুর প্রতি ঐকাস্তিক অনুরাগ তাহাদিগকে একই ব্রতসাধনে নিরত রাখিত। গুরুর মৃত্যুর পরে ক্রমে তাহদের এই ঐক্যস্বত্র ছিন্ন হইয়। যায়। উপযুক্ত নায়কের অভাবে শিখ-বীরের স্বস্বপ্রধান ও লুণ্ঠনপরায়ণ হইয় উঠে। খালসা নামে একটি সৈন্যদল ছিল বটে কিন্তু সে দলটি সুচালিত কিংবা সুশিক্ষিত ছিল না । খালসা সৈন্যদলের অধিকাংশই ছিল অশ্বারোহী ! অনভিজ্ঞ ও অক্ষসেরাই পদাতিকের কার্য্য করিত । যুদ্ধকালে অশ্বারোহীরা শক্রদের সম্মুখীন হইত, পদাতিকের দূরে থাকিয়া শিশু ও রমণীদিগকে রক্ষা করিত অথবা দুর্গের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত থাকিত। অশ্বারোহীদের প্রধান অস্ত্র ছিল অসি, পদাতিকের তীরধনুক এবং কথনে কখনো সাধারণ পলিতাবন্দুক ব্যবহার করিত । অতি অল্প সময়েই বারুদের ব্যবহার করা হইত, এই জন্ত খালসা সৈন্তের বন্দুক-যুদ্ধে নৈপুণ্য লাভ করিতে পারে নাই এবং তাহাদের যথেষ্ট আগ্নেয় অস্ত্র ছিল না । কৰ্ম্মক্ষেত্রে প্রবেশ করিয়া অল্পদিনমধ্যেই তিনি থালসা সৈন্তদলের দুৰ্ব্বলতার কারণ বুঝিতে পারিলেন । বীরোচিত গুণগ্রামের অধিকারী হইয়াও সুশিক্ষা ও শৃঙ্খলার অভাবে শিথসৈন্তের প্রতিদ্বন্দ্বী আফগানদিগের সহিত প্রকাগুযুদ্ধে সাহসী হইত না । যুরোপীয় যুদ্ধপ্রণালী রণজিৎকে মুগ্ধ করিয়াছিল। তিনি শিখদের প্রাচীনযুদ্ধপ্রণালী আমূল পরিবৰ্ত্তিত করিয়া তাহাদিগকে অভিনব যুরোপীয় প্রণালীতে শিক্ষাপ্রদানে অভিলাষী হইলেন। সৈন্যদল গড়িয়া তুলিবার নিমিত্ত তিনি ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর কর্তৃপক্ষদের নিকট কয়েকজন সমরনিপুণ সেনানায়ক চাহিয়াছিলেন । র্তাহারা লাকপ্রদানে অসমর্থ হওয়ায়