পাতা:শিখগুরু ও শিখজাতি.pdf/১৬৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সপ্তদশ অধ্যায় ১৩৫ আক্রান্ত হইলেন। কিছুদিন অচেতন অবস্থায় থাকিয়া সে মাত্র প্রাণে বঁচিলেও তিনি দুষ্ট ব্যাধির আক্রমণ হইতে একেবারে উদ্ধার পাইলেন না । কোনোরূপে তিনি অঙ্গসঞ্চালন করিবার শক্তি লাভ করিলেন । কিছু দিন তাহার বাক্যকথনের ক্ষমতা ছিল না ; ক্রমে অস্পষ্টভাবে বাক্যোচ্চারণশক্তিও জন্মিয়াছিল কিন্তু জিহবার জড়তা আর দূর হইল না । মহারাঞ্জের অনুচর ও বন্ধুবান্ধবের তাহার এই আংশিক আরোগলাভেও পরম আনন্দিত হইলেন। শিখ-সর্দারের বৃদ্ধ ও রুগ্ন মহারাজকে পূৰ্ব্ববৎ সম্মান প্রদর্শন করিতে লাগিলেন । মন্ত্রী ধ্যানসিংহ ও ফকির আজিজুদিন রাজকাৰ্য্য চালাইতেছিলেন। রোগ হইতে আংশিক আরোগ্যলাভের পর কিছুদিন মহারাজের চলচ্ছক্তি ছিল না । দোলায় চড়িয়া তিনি একস্থান হইতে স্থানান্তরে যাইতেন, তাহার বাকাকথনের শক্তি ছিল না, ইঙ্গিত করিয়া অন্যকে নিজ অভিপ্রায় জ্ঞাপন করিতেন । তাহার বলিষ্ঠ বিশাল বপু যখন এমন করিয়া ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছিল তখনে তিনি মদ্যপান সম্পূর্ণ ত্যাগ করিতে পারেন নাই । জিহবার জড়ত হইতে অব্যাহতি লাভের নিমিত্ত তিনি বৈজ্ঞাতিক যন্ত্রদ্বারা চিকিৎসিত হইতেছিলেন । ১৮৩৭ খৃষ্টাব্দের মার্চ মাসে তাহার পৌত্র নিহালসিংহের বিবাহউপলক্ষে সার হেনরি ফেন লাহোরে গমন করেন। উৎসৰানন্দে মহারাজ তথন আত্মহারা হইয়া অতিথির সহিত যপেচ্ছ মদ্যপান করিতে আরম্ভ করিলেন। ১৮৩৮ খৃষ্টাবে তিনি যখন শতদ্রু পার হইয়া ফেরোজপুরে গভর্ণর জেনারেল অকল্যাণ্ডের সহিত দেখা করিতে গমন করেন তখন তাহার মনের বল ও উৎসাহ অক্ষুণ্ণ থাকিলেও শরীর তর্কল হইয়া পড়িয়াছিল। অপরের সাহাষ্যব্যতীত তিনি অশ্বারোহণ করিতে পারিতেন না, অলি ও বন্দুক ধারণের শক্তি র্তাহার ছিল না ।