পাতা:শিখগুরু ও শিখজাতি.pdf/১৭৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উনবিংশ অধ্যায় እ 8ፃ গবর্ণর জেনারেল বাহাদুর লিখিয়াছিলেন ---“ ২১এ ডিসেম্বরের রাত্রি আমার জীবনের বিশেষ স্মরণীয় রাত্রি। ঐ দিন রাত্রিকালে অনাহারে অনাবৃত অঙ্গে দুঃসহ শীতে আমি সৈগুদিগের সহিত বিনিদ্রভাবে ইতস্ততঃ বিচরণ করিয়াছি। সমস্ত রাত্রি আমার চক্ষুর সম্মুখে ভীষণ যুদ্ধ চলিতেছিল এবং আমার সাহসী সঙ্গীর বিপক্ষের গুলির আঘাতে ধরাশায়ী হইতেছিল। শিখদের অবিশ্রান্ত কামানগর্জনের সহিত উভয় পক্ষের জয়োল্লাস ও মৃতকল্প সৈনিকগণের আর্ন্তনাদ শোনা যাইতেছিল। সৈন্তগণের মনের অবস্থা জানিবার জন্ত এবং তাহাদিগকে উৎসাহিত করিবার অভিপ্রায়ে আমি বিভিন্নদলে ঘুরিয়া বেড়াইতেছিলাম এবং সকলকে এই বলিয়া উত্তেজিত করিলাম যে, প্রত্যুষে আমরা শত্রুসৈম্ভের উপর ভীষণবেগে পতিত হইয় তাহাদিগকে পরাভূত করিব কিংবা প্রকাগু যুদ্ধক্ষেত্রে বীরের ন্যায় মৃত্যুকে বরণ করিব।” সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ভীষণ সংগ্রাম ভীষণতর হইয়া উঠিল । শিখসৈন্তের বিস্ময়কর বীরত্ব দেখাইলেও সুপরিচালিত ইংরাজসেনার আক্রমণের তীব্রতা সহ্য করিতে পারিতেছিল না । আনন্তোপায় হইয়া তাহার পলায়ন করিয়া আত্মরক্ষার চেষ্টা করিতে লাগিল। শিখদের ৭৩টি কামান ইংরাজের হস্তগত হইল। বিদেশী ঐতিহাসিকদের মতে এই ভীষণ যুদ্ধে শিখপক্ষের অনুন পাচ সহস্র সৈনিক প্রাণত্যাগ করিয়াছিল। ইংরাজপক্ষীয় ৩৭ জন যুরোপীয় ও ১৭ জন দেশীয় কৰ্ম্মচারী এবং ৬৪০ জন সৈনিক সহিস প্রভৃতি হত হইয়াছিল । আহত কৰ্ম্মচারী ও সৈনিকের সংখ্যা আঠারো শতের কাছাকাছি । ফেরোজসাহ-ক্ষেত্রের যুদ্ধান্তে বিজয়ী ইংরাজ সৈন্য শতদ্রুতীরে শিবির সন্নিবেশ করিয়া নুতন নুতন সৈন্যদলের আগমন প্রতীক্ষা করিতে লাগিল ।