পাতা:শিখগুরু ও শিখজাতি.pdf/৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৃতীয় অধ্যায় ২৯, বকালার সোড়িশিখেরা অভিলষিত পদলাভ করিতে ন পারিয়া গুরু তেগবাহাদুরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করিতেছিল । গুরু তথা হইতে কৰ্ত্তারপুরের নিকটবৰ্ত্তী মাখোয়াল গ্রামে আসিয়া বাস করিতে লাগিলেন । তিনি এইখানে একটি দুর্গ নিৰ্ম্মাণ করেন । মাখোয়াল এই সময় হইতে আনন্দপুর নামে খ্যাত হইল । ধৰ্ম্মপ্রাণ তেগবাহাদুরের অনুরক্ত শিষ্যের সংখ্যা কম ছিল না, ভীষণ শক্ররও অভাব ছিল না । তাহার বিরুদ্ধে ক্রমাগত ষড়যন্ত্র চলিতেছিল। পার্থিব সুখভোগে সম্পূর্ণ উদাসীন হইয়াও তিনি বিদ্রোহী বলিয়া সম্রাট আরংজীবের বিষনয়নে পতিত হইলেন। তাহার শিষ্যদিগের প্রতি এই সময়ে ঘোর নির্য্যাতন আরম্ভ হইল। ধাৰ্ম্মিক তেগবাহাদুর স্বচক্ষে শিষ্যদের ভীষণ দুৰ্গতি দেখিয়া মৰ্ম্মপীড়িত হইতেন । জীবনপাত করিয়াও তিনি ধৰ্ম্মের গৌরব রক্ষানিমিত্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ इंझेय्जन । একদিন গুরু তাহার কয়েকজন শিষ্যের মুখে শিখদিগের দুর্দশাকাহিনী শ্রবণ করিয়া অধীর হইয় উঠেন । তিনি তখন সম্মিলিত শিষ্ণুদিগকে বলিলেন,—“ অত্যাচারের হাত হইতে স্বজাতীয়দিগকে উদ্ধার করিবার নিমিত্ত তোমরা তোমাদের সর্বাপেক্ষ প্রিয় সামগ্ৰী উৎসর্গ কর।” গুরুর পঞ্চদশ বর্ষীয় পুত্র গোবিদ বলিয়া উঠিলেন— “শিখেরা আপনাকেই সৰ্ব্বাপেক্ষ প্রিয় সামগ্ৰী বলিয়া মনে করে। ” তেগবাহাদুর পুত্রের বাক্যে প্রত হইলেন এবং স্বধৰ্ম্ম ও স্বজাতির কল্যাণকামনায় আস্ত্রোংসর্গের নিমিত্ত প্রস্তুত হইলেন। - প্রবল মোগল-রাজশক্তির ভয়ে বিন্দুমাত্র ভীত না হইয়া তেগবাহাদুর শিখধৰ্ম্মের মাহাত্ম্য কীৰ্ত্তন করিতেছিলেন। তাহার স্বধৰ্ম্মনিষ্ঠ ও রাম রায়ের চক্রান্ত অচিরে তাহাকে বিপন্ন করিল। বিদ্রোহী