পাতা:শিখগুরু ও শিখজাতি.pdf/৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


"ు শিখগুরু ও শিথঞ্জাতি তিনি এখন আপনার অসাধারণ ধৰ্ম্মবল, গভীর পাণ্ডিত্য ও অতুলনীয় বীরত্ব লইয়া নিৰ্ভয়ে কৰ্ম্মক্ষেত্রে প্রবেশ করিলেন । র্তাহার ধৰ্ম্মপ্রাণত, বৈরাগ্য ও স্বার্থহীনতা শিখসম্প্রদায়ের মধ্যে নূতন শক্তির সঞ্চার করিল। শিখেরা তাহকে আপনাদের নেতা বলিয়া বরণ করিয়া লইল । অতি অল্পসংখ্যক শিখ রামরায়ের অনুগত রছিল। একটি শক্তিশালী সম্প্রদায় গড়িয়া তুলিতে হইলে যে সকল সদগুণে ভূষিত হইতে হয়, মহাত্মা গুরুগোবিন্দ সেই সমুদায় গুণের অধিকারী হইয়াছিলেন। পিতৃবৈরী ধৰ্ম্মান্ধ মোগলদিগের প্রতি তিনি বিদ্বেষপরায়ণ হইলেও তাহার হৃদয় উদার ছিল । তিনি একদেশদশী ছিলেন না । সংকীর্ণ সংস্কার দ্বারা তিনি কখনো পরিচালিত হইতেন না । মোগল-রাজশক্তি যখন শিখধৰ্ম্মের উচ্ছেদসাধনের নিমিত্ত উঠিয়া পড়িয়া চেষ্টা করিতেছিল, ভগবানের ইঙ্গিতে ঠিক সেই সংঘর্ষের সময়ে গুরুগোবিন কঠোর সাধনা শেষ করিয়া কৰ্ম্মক্ষেত্রে প্রবেশ করিলেন । অধৰ্ম্ম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি ধৰ্ম্মযুদ্ধ ঘোষণা করিবামাত্র বিচ্ছিন্ন শিখেরা আসিয়া তাহার পার্থে দণ্ডায়মান হইল। গুরুর জীবনে জীবন লাভ করিয়া সকলেই জাগিয়া উঠিল । গুরুর স্পর্শে শিষ্যদের হৃদয়ে বিস্ময়কর ধৰ্ম্মানুরাগ প্ৰজলিত হইল। তাহারা প্রাণ হইতেও প্রিয় ধৰ্ম্মরক্ষার জন্ত জপের মালা ও লাঙ্গল ছাড়িয়া অসি ধারণ করিল । মোগলশাসনে উচ্ছেদসাধন ভিন্ন স্বধৰ্ম্মরক্ষার উপায়াস্তুর নাই দেখিয়া শিখেরা মোগলদে সহিত যুদ্ধ করিবার নিমিত্ত প্রস্তুত হইতে লাগিল । শিখধৰ্ম্মের প্রতিষ্ঠাতা বাবা নানক জাতিভেদ স্বীকার করিতে না, তথাপি শিখসম্প্রদায় ব্রাহ্মণ্যধৰ্ম্মের প্রভাব এড়াইয়া উঠিতে পাে নাই। উচ্চবর্ণের শিখেরাই সম্প্রদায়ে প্রাধান্ত লাভ করিতে পারিত জাতিগত পার্থক্য এই ক্ষুদ্র সম্প্রদায়টিকে দুৰ্ব্বল করিয়া রাখিয়াছিল