পাতা:শিখগুরু ও শিখজাতি.pdf/৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


& s শিখগুরু ও শিখঞ্জাতি প্রতিহিংস গ্রহণের বাসনা হৃদয়ে পোষণ করিয়! সুযোগের প্রতীক্ষী করিতেছিল । এইরূপ প্রকাশ, একদিন রাত্রিকালে গোপনে গুরু গোবিনের শয়ন-কক্ষে প্রবেশ করিয়া তাহারা নিদ্রিত গুরুর বক্ষে ছোরা বসাইয়া দিয়া তাহাকে নিহত করে । আহত হইবামাত্র গুরু গোবিনী লম্ফপ্রদান-পূর্বক দাড়াইয়া উঠিয়াছিলেন এবং হত্যাকারীরা ধরা পড়িয়াছিল। পূৰ্ব্বকৃত ছক্কার্যের কথা স্মরণ করিয়া,মৃত্যুকালে গুরু গোবিন্দ প্রতিহিংসাপরায়ণ পাঠান যুবকদ্বয়কে ক্ষমা করিয়াছিলেন। তিনি যুবকদ্বয়কে সম্বোধন করিয়া বক্সিয়াছিলেন :-“ তোমরাই পিতার যোগ্যপুত্র ; তোমাদের জীবন সার্থক ; তোমরা পিতৃহত্যার উপযুক্ত প্রতিশোধ দিয়াছ ; আমার আদেশে কেহ তোমাদিগের কেশাগ্রও স্পর্শ করিবে না। তোমরা নিরাপদে গৃহে ফিরিয়া যাও।” গুরু গোবিনের মৃত্যুসম্বন্ধে সাধারণে আর একরূপ আখ্যান প্রচলিত আছে। তাহাতে প্রকাশ পিতৃহীন যুবকদ্বয়ের প্রতি তিনি আকৃষ্ট হইয়াছিলেন। স্বয়ং যুবকদ্বয়ের শিক্ষার ভার গ্রহণ করিয়া তাহাদের মনে প্রতিহিংসাবৃত্তি জাগাইয়া তুলিতে চেষ্টা করিতেছিলেন। একদা যুবকের দাবাখেলায় যখন আত্মহারা তখন কৌশলে গুরু তাহাদিগকে উত্তেজিত করিয়া তুলিলেন এবং তাহদের হস্তে নিহত হইয়া স্বীয় অজ্ঞানকৃত পাপের প্রায়শ্চিত্ত গ্রহণ করিয়া প্রফুল্লচিত্তে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করিলেন। - গুরু গোবিন্দ সিংহ নিঃসন্তান মৃত্যুমুখে পতিত হন। মৃত্যুশয্যায় শোকমুগ্ধ শিষ্ণের তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল-“ আপনার অবর্তমানে কে আমাদিগকে সত্যধন্মের উপদেশ দিবেন, আমরা কাহার আশ্রয়ে দাড়াইব, কে আমাদিগকে যুদ্ধক্ষেত্রে চালনা করিবেন?” গুরু তাহাদিগকে উৎসাহিত করিয়া বলিলেন—“ তোমরা হতোগুম হইও না, একে