পাতা:শিখগুরু ও শিখজাতি.pdf/৮৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఉఫి শিখগুরু ও শিখজাতি ছোটখাটো যুদ্ধে জয়লাভে উৎসাহিত হইয় তাহারা বৃহৎ বিজয়ের জন্য প্রস্তুত হইতে লাগিল। মুসলমানদিগের ভয়ে এতদিন তাহার গোপনে অমৃতসরের মন্দির দর্শন করিতে যাইত। পূৰ্ব্বোক্ত খণ্ডযুদ্ধগুলিতে জয়লাভের পর তাহাদিগের সাহস বাড়িয়া গেল, এই সময় হইতে শিখেরা প্রকাতে দ্রুতগতি অশ্বারোহণে মন্দিরে পূজা অৰ্চনা করিতে যাইত। কেহ কেহ ধৃত হইয় নিহতও হইত, কিন্তু মৃত্যুভয়ে শিখদিগকে মন্দির-গমনে বাধা দিতে পারে নাই । জিকারিয়া খায়ের জ্যেষ্ঠপুত্র খ7 জাহান এই সময়ে পঞ্চনদপ্রদেশের শাসনকৰ্ত্ত ছিলেন । একদল শিখ ইরাবতী নদীর তীরে ফুল্লেওয়াল নামক স্থানে এক দুর্গ নিৰ্ম্মাণ করিয়া নিকটবৰ্ত্তী স্থানগুলি হইতে কর আদায় করিতে আরম্ভ করিল । লাহোরের শাসনকৰ্ত্তার সৈন্সেয়া উক্ত শিখদিগকে আক্রমণ করিয়া পরাজিত হইল। যুদ্ধে সেনাপতি নিহত হইলেন। মুসলমান পক্ষ হইতে দ্বিতীয় একদল সৈন্ত প্রেরিত হইল। এবার শিখেরা পরাজিত হইল। মুসলমানশাসনকৰ্ত্ত । অতি নিষ্ঠুর প্রকৃতির লোক ছিলেন। পরাজিত শিখদিগকে সমূলে ধ্বংস করিবার নিমিত্ত তিনি কয়েকটি নৃশংস আদেশ প্রচার করিয়াছিলেন। প্তাহার শাসনাধীন প্রদেশের অধিকাংশ শিখ ধুত হইয়া বন্দীরূপে লাহোরে আনীত হইল। নগরের যে অংশে এই স্বাধীনতা-পিপাসু শিখদিগকে হত্যা করা হইয়াছিল, সে স্থান তদবধি (Place of Martyrs) “ মুহিদ গঞ্জ ’ নামে খ্যাত হইয়াছে। অন্যান্তের সঙ্গে গুরু গোবিন্দ সিংহের প্রসিদ্ধ ভক্ত-শিষ্য তরুসিংহ বন্দী হইয়াছিলেন । ধৰ্ম্মের প্রতি তাহার প্রগাঢ় অনুরাগ ছিল । তিনি এমন অধ্যাত্মিক বললাভ করিয়াছিলেন যে, যে কোনো পার্থিব অত্যাচার এই ধৰ্ম্মবীরকে সত্যের পথ হইতে রেখামাত্র বিচ্যুত করিতে পারিত না।