পাতা:শিখগুরু ও শিখজাতি.pdf/৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সপ্তম অধ্যায় *; এক পাঠান-নায়ক সিরহিন্দের শাসনকৰ্ত্তার প্রধান সহায় ছিলেন । শিখেরা এই বিশ্বাসঘাতক স্বদেশদ্রোহীর প্রতি ক্রুদ্ধ হইল । খালসা সৈন্ত অমৃতসর তীর্থে সমবেত হইয়া পবিত্র সরোবর পরিষ্কৃত করিল। বিশ্বাপী সৈন্তদল তথায় স্নান করিল। অতঃপর সমবেত শিখগণ স্বদেশদ্রোহী হিস্কুন খাঁর অধিকৃত প্রদেশ লুণ্ঠন করিয়া সিরহিনী অভিমুখে অগ্রসর হইল । শিখেরা যখন উল্লিখিতরূপে আপনাদের ক্ষমতা বাড়াইয়া তুলিবার নিমিত্ত চেষ্টা করিতেছিল, তখন স্বীয় অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখিবার নিমিত্ত আমেদ সাহ আবার সসৈন্তে উপস্থিত হইলেন। ১৭৬২ খৃষ্টাব্দের শেষ ভাগে তিনি লাহোর নগরে উপনীত হন। ঐ সময়ে শিখেরা শতক্রর দক্ষিণ তীরে মিলিত হইয়া সিরহিন্দ আক্রমণের উদ্যোগ করিতেছিল । আমেদ সাহ লুধিয়ানার পথে দ্রুতগতি অগ্রসর হইয়া শিখদিগকে আক্রমণ করিলেন। লুধিয়ানার বিশমাইল দক্ষিণে গুজরানওয়াল ও বারনল জনপদদ্বয়ের মধ্যবৰ্ত্তী স্থানে এক ভীষণ যুদ্ধ সংঘটিত হইল । অসংখ্য শিখ যুদ্ধক্ষেত্রে জীবনদান করিল। কেহ কেহ বলেন, এই ভীষণ আহুৰে পাঁচশ সহস্ৰ শিখ মৃত্যু-মুখে পত্তিত হইয়াছিল । যে স্থানে এই অসম্ভাবিত বিপদ ঘটিছিল আজপৰ্য্যন্ত শিখেরা ঐ স্থানটাকে ঘুলঘর বা বিপদ ক্ষেত্র বলিয়া থাকে। বৰ্ত্তমান পাতিয়াল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বল সিংহ এই যুদ্ধে বন্দী হইয়াছিলেন । তঁহার বীরজনোচিত ব্যবহার সহিকে মুগ্ধ করিয়াছিল । তিনি তাহাকে রাজা উপাধি প্রদানপু কি পাতিয়ালা প্রদেশের শাসনকার্যে নিযুক্ত করিলেন। কেহ কেহ মনে করেন ‘মাল’ব’ ও ‘মঞ্চ শিদিগের মধ্যে বিরোধ ৰাড়াইয়া তুলিবার নিমিত্ত সাহ বীর প্রতি অনুকম্প দেখাইয়াছিলেন।