প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শেষ প্রশ্ন.djvu/২২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন । ২১৮ বহুদিন ধরিয়া যেখানে বাক্যালাপ বন্ধ ছিল, সহসা পথে দেখা হইতে উভয়ের চোখেই জল ছল ছল করিয়া আসিয়াছে,—কাহারও ভাই, কাহারও পুত্ৰ-কন্যা, কাহারও বা স্ত্রী ইতিমধ্যে মরিয়াছে—রাগ করিয়া মুখ ফিরাইবার মত জোর আর মনে নাই—কখনও কথা হইয়াছে,—কখনও তাহাও হয় নাই—নিঃশব্দে পরস্পরের কল্যাণ কামনা করিয়া বিদায় লইয়াছে। মুচীদের পাড়ায় লোক আর বেশি নাই। যত বা মরিয়াছে তত বা পলাইয়াছে। অবশিষ্টদের জন্য রাজেন একাই যথেষ্ট । তাহাদের গতিমুক্তির ভার সে-ই গ্রহণ করিয়াছে। সহকারিণী হিসাবে কমল যোগ দিতে আসুিয়াছিল। ছেলে বয়সে চা বাগানে সে পীড়িত কুলীদের সেবা করিয়াছিল, সেই ছিল তাহার ভরসা। কিন্তু, দিন দুই তিনেই বুঝিল সে সম্বল এখানে চলেনা। মুচীদের সে কি অবস্থা! ভাষায় বর্ণনা করিয়া বিবরণ দিতে যাওয়া বৃথা । কুটীরে পা দেওয়া অবধি সৰ্ব্বাঙ্গে কাটা দিয়া উঠিত, কোথাও বসিবার দাড়াইবার স্থান নাই, এবং আবর্জন যে কিরূপ ভয়াবহ হইয়া উঠিতে পারে এখানে আসিবার পূৰ্ব্বে কমল জানিতনা। অথচ, এই সকলেরই মাঝখানে অহরহ থাকিয়া আপনাকে সাবধানে রাখিয়া কি করিয়া যে রোগীর সেবা করা সম্ভব এ কল্পনা সে মনে স্থান দিতেও পারিলনা । অনেক দৰ্প করিয়া সে রাজেনের সঙ্গে আসিয়াছিল, দুঃসাহসিকতায় সে কাহারও স্থান নয়, জগতে কোন কিছুকেই সে ভয় করেন, মৃত্যুকেও না। নিতান্ত মিথ্যা সে বলে নাই, কিন্তু আসিয়া বুলি ইহারও সীমা আছে। দিনকয়েকেই ভয়ে তাহার দেহের রক্ত শুকাইয়া উঠিবার উপক্রম করিল , তথাপি, সম্পূর্ণ দেউলিয়া হইয়া ঘরে ফিরিবার প্রাক্কালে রাজেন্দ্র তাহাকে আশ্বাস দিয়া বারবার বলিতে লাগিল, এমন নিৰ্ভীকতা আমি জন্মে দেখিনি।