প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


●88 भग्नएङ्गल्लमाबळी দর্শকের পক্ষে ধৈর্য রক্ষণ করা অসম্ভব হইয়া উঠে। সুতরাং রাজলক্ষ্মী আরও গোটা-কয়েক পেড়া এবং বরফি সাধুজীর পাতে দিতেই অজ্ঞাতসারে আমার নাক এবং মুখ দিয়া একসঙ্গে এতবড় একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস বাহির হইয়া আসিল যে, রাজলক্ষ্মী এবং তাহার নূতন কুটুম্ব দু’জনেই চকিত হইয়া উঠিলেন। রাজলক্ষ্মী আমার মুখের পানে চাহিয়া তাড়াতাড়ি বলিয়া উঠিল, তুমি রোগা মানুষ, তুমি উঠে হাত-মুখ ধোও গে না। আমাদের সঙ্গে বসে থাকবার দরকার কি? সাধুজী একবার আমার প্রতি, একবার রাজলক্ষ্মীর প্রতি এবং তাহার পরে হাড়িটার দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া সহস্যে কহিলেন, দীর্ঘশ্বাস পড়বার কথাই বটে, কিছুই যে আর রইল না। রাজলক্ষ্মী কহিল, আরও অনেক আছে। বলিয়া আমার প্রতি ক্রুদ্ধ দৃষ্টি নিক্ষেপ করিল। ঠিক এমনি সময় রতন পিছনে আসিয়া বলিল, মা চিড়ে ত ঢ়ের পাওয়া যায়, কিন্তু দুধ কি দই কিছুই তোমার জন্যে পাওয়া গেল না। - সাধু বেচারা আতিশয় অপ্রতিভ হইয়া কহিলেন, আপনাদের আতিথ্যের উপর ভয়ানক অত্যাচার করলুম, বলিয়া সহসা উঠিবার উপক্রম করিতেই রাজলক্ষ্মী ব্যাকুল হইয়া বলিয়া উঠিল, আমার মাথা খাবে ঠাকুরপো যদি ওঠে। মাইরি কলচি আমি সমস্ত ছড়িয়ে ফেলে দেব। সাধু ক্ষশকাল বিস্ময়ে বোধ হয় ইহাই চিন্তা করিলেন যে, এ কেমন স্ত্রীলোক যে এক-দণ্ডের পরিচয়েই এত বড় ঘনিষ্ঠ হইয়া উঠিল । রাজলক্ষ্মীর পিয়ারীর ইতিহাসটা না জানিলে বিস্ময়ের কথাই বটে। তার পরে তিনি একটুখানি হাসিয়া বলিলেন, আমি সন্ন্যাসী মানুষ, খেতে আমার কিছুই বাধে না, কিন্তু আপনারও ত কিছু খাওয়া চাই। আমার মাথা খেয়ে ত আর সত্যিসত্যি পেট ভরবে না। রাজলক্ষ্মী জিভ কাটিয়া গম্ভীর হইয়া কহিল, ছিছি, অমনি কথা মেয়েমানুষকে বলতে নেই ভাই, আমি এ-সব খাইনে, আমার সহ্য হয় না। চাকরদের খাবার ঢের আছে। আজ রাতটা বৈ ত নয়, যা হোক একমুঠো চিড়ে-টিড়ে খেয়ে একটু জল খেলেই আমার চলে যাবে। কিন্তু ক্ষিদে থাকতে তুমি যদি উঠে যাও, তা হলে তাও আমার খাওয়া হবে না ঠাকুরপো। বিশ্বাস না হয় ওঁকে জিজ্ঞেস কর । বলিয়া সে আমাকে আপীল করিল। কাজেই এতক্ষণে আমাকে কথা কহিতে হইল। বলিলাম, এ যে সত্যি সে আমি হলফ নিয়ে বলতে রাজী আছি সাধুজী। মিথ্যে তর্ক করে লাভ নেই ভায়া, পার হাড়িটা উপুড় না হওয়া পর্যন্ত সেবাটা যেমন চলচে চলুক, নইলে ও আর কোন কাজেই আসবে না। খাবারটা ট্রেনে এসেচে, সুতরাং অনাহারে মারা গেলও ওঁকে তার একবিন্দু খাওয়ান যাবে না। এটা ঠিক কথা। সাধু কহিলেন, কিন্তু এ-সব খাবার ত গাড়িতে ছোয়া যায় না! আমি বলিলাম, সে মীমাংসা আমি এতদিনে শেষ করে উঠতে পারিলাম না ভায়া, আর তুমি কি এক আসনেই নিম্পত্তি করতে পারবে? তার চেয়ে বরঞ্চ কাজ সেরে উঠে পড়, নইলে সুবি ডুব দিলে হয়ত চিড়ে জলও গলা দিয়ে গলবার পথ পাবে না। বলি, ঘণ্টা-কয়েক আরও ত তুমি সঙ্গে আছ, শাস্ত্রের বিচার পর ত পথে যেতে যেতেই বুঝিয়ে, তাতে কাজ না হোক অন্ততঃ অকাজ বাড়বে না। এখন যা হচ্ছে তাই চলুক। সাধু জিজ্ঞাসা করিলেন, তা হলে সমস্ত দিনই উনি কিছুই খাননি ? বলিলাম, না। তা ছাড়া কালও কি নাকি একটা ছিল, শুনচি দুটো ফলমূল ছাড়া কালও আর কিছু ওঁর মুখে যায়নি। রতন পিছনেই ছিল, ঘাড় নাড়িয়া কি যেন একটা বলিতে গিয়া-বোধ হয় মনিবের গোপন চোখের ইঙ্গিতে--হঠাৎ বামিয়া গেল। সাধু রাজলক্ষ্মীর প্রতি চাহিয়া কহিলেন, এতে আপনার কষ্ট হয় না? প্রত্যুভরে সে শুধু হাসিল ; কিন্তু আমি কহিলাম, সেটা প্রত্যক্ষ এবং অনুমান কোনটাতেই জানা যাবে না। তবে চোখে যাঁ দেখেচি তাতে আরও দু-একটা দিন বোধ হয় যোগ করা যেতে পারে। রাজলক্ষ্মী প্রতিবাদ করিয়া কহিল, তুমি দেখেচ চোখে? কখনো না। DD DBBB BBB BDD DS BBBB BB BB BB BBB BS BB BB DD DBB