প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


बैकनख-फूडीब्र नर्व GłGłół বটে। সাধুজী, তুমি যেই হও, এই অল্প বয়সেই আমার এই কাণ্ডাল দেশটিকে তুমি ভাল করিয়াই দেখিয়াছ। না হইলে ইহার যথার্থ রূপটির খবর আজ এমন সহজেই এই কয়টি কথায় দিতে পারিতে না। জানি, অনেক দিনের অনেক ক্রটি অনেক বিচ্যুতি আমার মাতৃভূমির সর্বাঙ্গ ব্যাপিয়া পঙ্ক লেপিয়াছে, তবুও, এ সত্য যাচাই করিবার যাহার সুযোগ মিলিয়াছে, সে-ই জানে ইহা কত বড় সত্য! এইভাবে নীরবে মিনিট দশ-পনের কাটিয়া গেলে রাজলক্ষ্মী মুখ তুলিয়া কহিল, এই উদ্দেশ্যই যদি তার মনে থাকে, একদিন আবার তাকে ঘরে ফিরতেই হবে আমি বলে দিচ্চি। এদেশে নিছক পরের ভাল করতে যাওয়ার যে দুৰ্গতি হয়তো সে আজও জ্ঞানে না। এর স্বাদ কতক আমি জানি। আমরাই মত একদিন যখন সংশয়ে, বাধায়, কটু কথায় তার সমস্ত মন তিক্তরসে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে, তখন সে পালিয়ে আসার পথ পাবে না। আমি সায় দিয়া কহিলাম, অসম্ভব নয়, কিন্তু আমার মনে হয় এসব দুঃখের কথা যেন সে বেশ জানে। রাজলক্ষ্মী বারংবার মাথা নাড়িয়া বলিতে লাগিল, কথখনো না, কখখনো না। জানলে সে পথে কেউ যাবে না আমি বলচি । wh একথার আর জবাব ছিল না। বস্তুর মুখে শুনিয়াছিলাম, একদিন ইহার অনেক সাধু সঙ্কল্প, অনেক পুণ্যকর্ম, তাহার শ্বশুরবাড়ির দেশে অত্যন্ত অপমানিত হইয়াছিল। সেই নিষ্কাম পরোপকারের ব্যথা অনেকদিন ইহার মনে লাগিয়াছিল। যদিচ, আরও একটা দিক দেখিবার ছিল, কিন্তু সেই অবলুপ্ত বেদনার স্থানটা চিহ্নিত করিয়া তুলিতেও আর প্রবৃত্তি হইল না, তাই চুপ করিয়া বসিয়া রহিলাম। অথচ রাজলক্ষ্মী যাহা বলিতেছিল তাহা মিথ্যা নয়। মনে মনে ভাবিতে লাগিলাম, কেন এমন হয় ? কেন একের শুভচেষ্ট অপরে এমন সন্দেহের চক্ষে দেখে? কেন এগুলি বিফল করিয়া দিয়া মানুষ সংসারের দুঃখের ভার লঘু করিতে দেয় না ? মনে হইল সাধুজী যদি থাকিতেন, কিংবা যদি কখনো ফিরিয়া আসেন, এই জটিল সমস্যার মীমাংসার ভার তাকেই দিব । সেদিন সকাল হইতে নিকটেই কোথা হইতে মাঝে মাঝে সানাইয়ের শব্দ পাওয়া যাইতেছিল, এই সময়ে জনকয়েক লোক রতনকে অগ্রবর্তী করিয়া প্রাঙ্গণের মধ্যস্থলে আসিয়া দাড়াইল। রতন সম্মুখে আসিয়া কহিল, মা, এরা আপনাকে রাজবরণ দিতে এসেছে—এসো না হে, দিয়ে যাও না। বলিয়া সে একজন প্রৌঢ় গোছের লোককে ইঙ্গিত করিল লোকটির পরিধানে হরিদ্রারঙে ছোপান একটি কাপড়, গলায় নুতন কাঠের মালা ! অত্যন্ত সঙ্কোচের সহিত অগ্রসর হইয়া আসিয়া বারান্দার নীচে হইতেই নূতন শালপাতায় একটি টাকা ও একটি সুপরি রাজলক্ষ্মীর পদতলের উদ্দেশে রাখিয়া মাটিতে BB BBBB BB BBB BBB BBBS BBBBS BB BBB BBS SB BBBS রাঞ্চলক্ষ্মী উঠিয়া আসিয়া তাহা গ্রহণ করিল এবং পুলকিতচিত্তে কহিল, মেয়ের বিয়েতে এ বুঝি দিতে হয় । রতন কহিল, না মা, তা নয়, যার যেমন সাধা সে তেমনি জমিদারকে দেয়, এরা ছোটজাত ডোম, এর বেণী আর কোথায় কি পাবে বলুন, এই কত কষ্টে— কিন্তু নিবেদন সমাপ্ত হইবার পূর্বেই টাকাটা ডোমের শুনিয়া রাজলক্ষ্মী তাড়াতাড়ি রাখিয়া দিয়া বলিল, তবে থাক থাক এ-ও দিতে হবে না—তোমরা এমনিই মেয়ের বিয়ে দাও গে— এই প্রত্যাখানে কমাব পিতা এবং ততোধিক রতন নিজে বিপদগ্ৰস্ত হইয়া উঠিল ; সে নানা প্রকারে বুঝাইবার চেষ্টা করিতে লাগিল যে, এই রাজবরণের স’লন গ্ৰহণ না করিলে কোনমতেই চলিবে না। রাজলক্ষ্মী কেন যে ঐ সুপারিশুদ্ধ টাকাটা লইতে কিছুতেই চাহে না, ঘরের ভিতরে বসিয়া আমি তাছা বুধিয়াছিলাম এবং রতনই বা কি জনা সনির্বন্ধ অনুরোধ করিতেছিল তাহাও আমার অবিদিত ছিল না। খুব সত্তৰ দেয় টাকাটা আরও বেশি, এবং গোমস্ত কুশারীমহাশয়ের হাত হইতে মিত্তায় পাইবার জুলাই ইছারা এই কৌশল করিয়াছে এবং রতন হজুর’ ইত্যাদি সম্ভাষণের পরিবর্তে তাহদের মুখপাত্র হইয়া আজি পেশ করিতে আসিয়াছে। সে যে যথেষ্ট আশ্বাস দিয়াই আনিয়াছে, তাহাতে সন্দেহমাত্র নাই। তাহার এই সঙ্কট অবশেষে আমিই মোচন করিলাম। উঠিয়া আসিয়া টাকাটা তুগিয়া লইয়া কছিলাম, আমি নিলাম, তোমরা বাড়ি গিয়ে বিয়ের উদ্যোগ করে গে।