প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


♚करड-फूडीन्न नर्व ('te চোখে পড়িয়ছিল তাহা ভুলিবার জো কি জন-তিনেক ব্ৰহ্মাসুন্দরী প্রকাশ্য রাজপথে দাঁড়াইয়া একটা যগুমোক পুরুষকে আখপেটা করিতেছেন দেখিয়া পুলকে রোমাঞ্চিত ও স্বৰ্মাণ্ড-কলেবর হইয়া উঠিয়ছিলাম। অভয়া মুন্ধচক্ষে নিরীক্ষণ করিয়া বলিয়ছিল, ‘শ্ৰীকান্তবাবু, আমাদের বাঙ্গালী মেয়েরা যদি এমনি—'। আমার খুড়ামশাই একবার জন-দুই মারোয়াড়ী রমণীর নামে নাটিশ করতে গিয়েছিলেন, তাহার রেলগাড়িতে নাকি খুড়ার নাক ও কান প্রবল পরাক্রমে মলিয়া দিয়াছিল। শুনিয়া খুড়ীমা আমায় দুঃখ করিয়া বলিয়ছিলেন, আচ্ছা, আমাদের বাঙ্গালীর ঘরে ঘরে যদি ওর চলন থাকত! থাকিলে আমার খুড়ামশাই নিশ্চয় ঘোরতর আপত্তি করিতেন, বলা যায় না। ইহাই যে কোথায় এবং কিরাপে হয়, শুনার ভগ্ন-গৃহের ছিন্ন আসনখানিতে বসিয়া আজ নিঃশঙ্গে এবং নিঃসন্দেহে অনুভব করিতেছিলাম। কেবল একটা আসুন' বলিয়া অভ্যর্থনা করা ছাড়া সে আমার সহিত দ্বিতীয় বাক্যালাপ করে নাই, রাজলক্ষ্মীর সঙ্গেও যে কোন বড় কথার আলোচনায় প্রবৃত্ত হইয়াছিল তাহীও নয়, কিন্তু সেই যে অজয়ের মিথ্যা আড়ম্বরের প্রত্যুত্তরে হাসিমুখে জানাইয়াছিল, এ বাড়িতে পান নাই ; কিনিবার মত সামর্থ্য মাই,—এখানে উছা দুর্লভ বস্তু! তাহার সকল কথার মাঝে এই কথাটা যেন আমার কানে বাজিতেই ছিল। তাহার সঙ্কোচলেশহীন এইটুকু পরিহাসে দারিদ্র্যের সমস্ত লজ্জা কোথায় যে লজ্জায় মুখ লাকাইল, সারাক্ষণের মধ্যে আর তাহার দেখাই মিলিল না। এই মুহুর্তেই জানা গেল এই ভাঙ্গা বাড়ি, এই জীর্ণ গৃহসজ্জা, এই দুঃখ দৈন্য অনটন—এই নিরাভরণ মেয়েটি তাহাদের অনেক উপরে। অধ্যাপক পিতা দিবার মধো তাহার কন্যাকে তাহার অশেষ যত্নে ধর্ম ও বিদ্যাদান করিয়া শ্বশুরকুলে পাঠাইয়াছিলেন , তৎপরে সে জুতা-মোজা পরিবে কি ঘোমটা খুলিয়া পথে বেড়াইবে, কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে স্বামী-পুত্র লইয়া ভাঙ্গা বাড়িতে বাস করিবে, তথায় মুড়ি ভজিবে, কি যোগবিশিষ্ট পড়াইবে, সে চিন্তু নিতান্তই অকিঞ্চিৎকর। মেয়েদের আমরা ইন করিয়াছি কি না এ তর্ক নিম্প্রয়োজন, কিন্তু এই দিয়া যদি তাহদের বঞ্চিত করিয়া থাকি ত সে কর্মের ফলভোগ অনিবার্য। অজয়েৰ উৎপত্তি প্রকরণ’ উঠিয়া না পড়িলে সুনন্দার লেখাপড়ার কথা আমরা জানিতেও পারিতাম না। তাহার মুড়ি-ভাঙ্গ হইতে আরম্ভ করিয়। সরল ও সামান্য হাসি-তামাশার মধ্যে দিয়া যোগবশিষ্ঠের বঁাজ কোথাও উকি মারে নাই। অথচ স্বামীর আবর্তমানে অপরিচিত অতিথির অভ্যর্থনা করিতেও তাহার কোনখানে বাধিল না। নির্জন গৃহের মধ্যে একটা সতেরো-আঠারো বছরের ছেলের সে এতই সহজে ও অবলীলাক্রমে মা হইয়া গিয়াছে যে, শাসন ও সংশয়ের দড়ি-সড়া দিয়া তাহাকে র্যাধিকার কল্পনাও বোধ করি কোনদিন তাহার স্বামীর মনে উঠে নাই। অশচ ইহারই প্রহরা দিতে ঘরে ঘরে কত প্রহরীই না সৃষ্টি হইয়া গিয়াছে: তর্কালঙ্কার মহাশয় ছেলেটিকে সঙ্গে করিয়া হাটে গিয়াছিলেন। তাহার সহত দেখা করিয়া যাইবার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু এদিকে বেলাও পড়িয়া আসিতেছিল। এই দরিদ্র গৃহ-লক্ষ্মীর কত কাজই না পড়িয়া আছে মনে করিয়া রাজলক্ষ্মী উঠিয়া পড়িল এবং বিদায় লইয়া কহিল, আজ চললুম, যদি বিরক্ত না হও ত আবার আসব। আমিও উঠিয়া দঁাড়াইয়া বলিলাম, আমারও কথা কইবার লোক কেউ নেই, যদি অভয় দেন ত মাঝে মাঝে আসব। সুনন্দা মুখে কিছু কহিল না, কিন্তু হাসিয়া ঘাড় নাড়িল। পথে আসিতে আসিতে রাজলক্ষ্মী কহিল, মেয়েটি চমৎকার ক্ষেত্ৰ স্বামী তেমনি স্ত্রী। ভগবান এদের বেশ মিলিয়েছেন । আমি কহিলাম, হী। রাজলক্ষ্মী কহিল, এদের ও-বাড়ির কথাটা আজ আর তুললুম না। কুশারীমহাশয়কে আজও ভাল চিনতে পারিনি, কিন্তু এরা দুটি জাই বড় চমৎকার। বসিলাম, খুব সম্ভব তাই ; কিন্তু তোমার ত মানুষ বশ করবার অদ্ভূত ক্ষমতা, দেখ না চেষ্টা করে যদি এদের আবার মিল করে দিতে পার। রাজলক্ষ্মী মুখ টিপিয়া একটু হাসিয়া বলিল, ক্ষমতা থাকতে পারে, কিন্তু তোমাকে বশ করাটা