পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৪৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


¢ፃbr ब्धॊद्भक्ष्ज्ञछनाब्री হইতে বাহির হইয়া যাইতেছে। কোনদিন রতন, কোনদিন বা দারোয়ান সঙ্গে যাইত, কোনদিন বা দেখিতাম সে একাই চলিয়াছে, ইহাদের কাহারও জনা অপেক্ষা করিবার সময় পর্যন্ত হয় নাই। প্রথমে দুই-চারি দিন আমাকে সঙ্গে যাইতে সাধিয়াছিল। কিন্তু ওই দুই-চারি দিনেই বুঝা গেল, কোন পক্ষ হইতেই তাহাতে সুবিধা হইবে না। হইলও না। অতএব আমি আমার নিরালা ঘরে পুরাতন আলস্যের মধ্যে এবং সে তাহার ধর্ম-কর্ম ও মন্ত্র-তন্ত্রের নবীন উদ্দীপনার মধ্যে নিমগ্ন থাকায় ক্রমশঃই উড়য়ে যেন পৃথক্ হইয়া পড়িতে লাগিলাম। আমার খোলা জানাল দিয়া দেখিতে পাইতাম, সে রৌদ্রতপ্ত শুদ্ধ মাঠের পথ দিয়া দ্রুত পদক্ষেপে মাঠ পার হইয়া যাইতেছে। একাকী সমস্ত দুপুরবেলাটা যে আমার কি করিয়া কাটে, এদিকে খেয়াল করিবার সময় তাহার ছিল না—সে আমি বুঝিতাম। তবুও যতদূর পর্যন্ত তাহাকে চোখ দিয়া অনুসরণ করা যায়, না করিয়া পারিতাম না। পায়ে হাঁটা আঁকাবাক পথের উপর তাহার বিলীয়মান দেহলতা ধীরে ধীরে দূরাগুরালে কোন এক সময়ে তিরোহিত হইয়া যাইত— অনেকদিন সেই সময়টুকুও যেন চোখে আমার ধরা পড়িত না ; মনে হইত ওই একান্ত সুপরিচিত চলনখানি যন তখনও শেষ হয় নাই--সে যেন চলিয়াই চলিয়াছে। হঠাৎ চেতনা হইত। হয়ত চোখ মুছিয়া আর একবার ভাল করিয়া চাহিয়া দেখিয়া তার পরে বিছানায় শুইয়া পড়িতাম। কর্মহীনতার দুঃসহ ক্লাস্তিবশতঃ হয়ত বা কোনদিন ঘুমাইয়া পড়িতাম—নয়ত নিমীলিত চক্ষে নিঃশব্দে পড়িয়া থাকিতাম। অদূরবতী কয়েকটা খর্বাকৃতি বাবলাগাছে বসিয়া ঘুঘু ডাকিত, এবং ৩াহারি সঙ্গে মিলিয়া মাঠের তপ্ত বাতাসে কাছাকাছি ডোমেদের কোন একটা বঁাশঝাড় এমনি একটা একটানা বাথাভরা দীর্ঘশ্বাসের মত শব্দ করিতে থাকিত যে, মাঝে মাঝে ভুল হইত, সে বুঝি-বা আমার নিজের বুকের ভিতর হইতেই উঠিতেছে। ভয় হইত, এমন বুঝি বা আল বেশিদিন সহিতে পারিব না। রতন বাড়ি থাকিলে মাঝে মাঝে পা টিপিযা ঘরে ঢুকিয়া আস্তে আস্তে বলিত, বাবু, একবার তামাক দেব কি ? এমন কতদিন হইয়াছে জাগিয়াও সাড়া দিই নাই, ঘুমানোর ভান কলিমাছি . ভয় হইয়াছে পাছে সে আমার মুখের উপর বেদনার ঘুণাগ্র আভাসও দেখিতে পায়। প্রতিদিনের মত সেদিনও দুপুরবেলায় রাজলক্ষ্মী সুনন্দার বাটীতে চলিয়া গেলে সহসা আমার বর্মাব কথা মনে পড়িয়া বহুকালের পরে অভয়াকে একখানা চিঠি লিখিতে বসিয়াছিলাম। ইচ্ছা ছিল, যে ফার্মে কাজ করিতাম, তাহার লণ্ড সাহেবকেও একখানা পত্র লিখিয়া খবর লইল । কি খবর লইব, কেল সইব, লইয়া কি হইলে, এত কথা তখনও ভাবি নাই। সহসা মনে হইল জানলার সুমুখ দিয়া যে রমণী ঘোমটায় মুখ ঢাকিয় জ্বরিতপপে সরিয়া গেল, সে যেন চেলা—সে যেন মালতীর মত। উঠিয়া উকি মালিয়া দেখিবাল চেষ্টা করিলাম, কিন্তু দেখা গেল না। সেই মুহুর্তেই তাহার আঁচলের বাঙ্গা পাড়টুকু আমাদের প্রাচীবের কোণটায় অম্ভহিত হইল। মাসখানেকের ব্যবধানে ডোমদের সেই শয়তান মেয়েটাকে সবাই একপ্রকার ভুলিয়াছে, আমিই কেবল তাহাকে ভুলিতে পারি নাই। জানি না কেন, আমার মনের একটা কোণে ওই উচ্ছঙ্খল BBB BB BBBBB BBB BBB BB BB BBS BB BBBB BBB L BBB BBBS BBB BB BBS BBB BBBB BB BBS BBB BB BBS BB BBBBBB BBB BBBB ও কুৎসিত ষড়যন্ত্রের বেষ্টনের বাহিরে মেয়েটার স্বামীর কাছে থাকিয়া কিভাবে দিন কাটিতেছে! ইচ্ছা করিতাম, এখানে তাহারা আর যেন শীঘ্র না আসে। ফিরিয়া গিয়া চিঠিটা শেষ করিতে বসিলাম। ছত্রকয়েক লেখার পরেই পদশব্দে মুখ তুলিয়া দেখিলাম, রতন। তাহার হাতে সাজা কলিকা, গুড়গুডির মাথায় বসহিয়া দিয়া নলটি আমার হাতে তুলিয়া দিয়া কহিল, বাবু, তামাক খান। আমি ঘাড় ন ড্রিয়া জানাইলাম, আচ্ছা! রতন কিন্তু তৎক্ষণাৎ গেল না। নিঃশব্দে ক্ষণকাল দাড়াইয়া থাকিয়া পরম গাম্ভীর্যের সহিত কহিল, বাবু, এই রতন পারমাণিক যে কবে মরবে তাই কেবল সে জানে না! তাহার ভূমিকার সহিত আমাদের পরিচয় ছিল ; রাজলক্ষ্মী হইলে বলিত, জানলে লাড় ছিল, কিন্তু কি বলতে এসেচিস বল। আমি কিন্তু শুধু মুখ তুলিয়া হাসিলাম। রতনের গভীর্যের পরিমাপ তাহাতে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ হইল না ; কহিল, মাকে সেদিন বলেছিলাম কিনা ছেটিলোকের কথায় মজবেন না!