প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রীকান্ত -তৃতীয় পর্ব 登气颚 তাদের চোখের জলে ভুলে দু'দুশ টাকা জলে দেবেন না ; বলুন, বলেছিলাম কি না! আমি জানি, সে বলে নাই। এ সদভিপ্রায় তাহার অস্তরে ছিল বিচিত্র নয়—কিন্তু প্রকাশ করিয়া বলা সে কেন, বোধ হয় আমারও সাহস হইত না। কহিলাম, ব্যাপার কি রতন ? রতন কহিল, ব্যপার যা বরাবর জানি—তাই । কহিলাম, কিন্তু আমি যখন এখনও জানিনে তখন একটু খুলেই বল । রতন খুলিয়াই বলিল। সমস্ত শুনিয়াই মনের মধ্যে যে কি হইল বলা কঠিন। কেবল মনে আছে, ইহার নিষ্ঠুর কদর্যতা ও অপরিসীম বীভৎসতার ভারে সমস্ত চিত্ত একেবারে তিক্ত বিবশ হই। গেল। কি করিয়া যে কি হইল, রতন সবিস্তারে ইহার ইতিবৃত্ত এখনও সংগ্ৰহ করিয়া উঠিতে পারে নাই; কিন্তু যেটুকু সত্য সে ছকিয়া বাহির করিয়াছে, তাহা এই যে, নলীন মোড়ল সম্প্রতি জেল খাটিতেছে এবং মালতী তাহার ভগিনীপতির সেই বড়লোক ছোটভাইকে স্যাঙা করিয়া উভয়ে তাহার পিতৃগৃহে বাস করিতে গঙ্গামাটিতে কাল ফিরিয়া আসিয়াছে! মালতীকে একপ্রকার স্বচক্ষে না দেখিলে বোধ করি বিশ্বাস করাই কঠিন হইত যে রাজলক্ষ্মীর টাকাগুলোর যথার্থই এইভাবে সদগতি হইয়াছে। সেই রাত্রে আমাকে খাওয়াইতে বসিয়া রাজলক্ষ্মী এ সংবাদ শুনিল। শুনিয়া কেবল আশ্চর্য হইয়া কহিল, বলিস কি রতন, সত্যি নাকি? ছুড়িটা সেদিন আচ্ছা তামাশা করলে ত! টাকাগুলো গেল— অবেলায় আমাকে লাইয়ে মারলে :-ও কি, তোমার খাওয়া হয়ে গেল নাকি, তার চেয়ে খেতে না বসলেই ত হয় ? এ সকল প্রশ্নের উত্তর দিবার কোনদিনই আমি বৃথা চেষ্টা করি না—আজও চুপ করিয়া রহিলাম। তবে একটা বস্তু উপলব্ধি করিলাম। আজ নানা কারণে আমার একেবারে ক্ষুধা ছিল না, প্রায় কিছুই পাই নাই--তাই আজ সেটা তাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছে ; কিন্তু কিছুকাল হইতে যে আমার খাওয়া ধীরে ধীরে কমিয়া আসিতেছিল, সে তাহার চোখে পড়ে মাই। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে তাহার নজর এত BBBe gg BS BBB BBB BBS BBB BB BB BBBS B BBBBBBB BBB BBB BBS কিন্তু আজ যে কারণেই হোক একজনের সেই শোনদৃষ্টি ঝাপা হইয়া গেছে বলিয়াই যে অপবের গভীর বেদনাকেও দীর্ঘনিশ্বাস চাপিয়া লইয়া নিরুত্তরে উঠিযা দাড়াইলাম। HBBS BBBB BBBBB BBB BBS BBBB BB BBS SS BBBB BBBS BBBB BBBS BBB কোন দুঃখ-কষ্টের নালিশও নাই। শরীর মোটের উপর ভালই আছে। পরদিন প্রভাত হইল, বেলা গণ্ডিয়া উঠিল, যথারীতি স্নানাহাব সমাপ্ত করিয়া নিজের ঘরে গিয়া বসিলাম, সুমুখের সেই খোলা জ্ঞানাল এবং তেমনি বাধাহীন উন্মুক্ত শুষ্ক মাঠ। পাঁজিসে আজ বোধ হয় শেষ কোন উপবাসের বিধি ছিল ; বাজলক্ষ্মীর তাই আজ সেইটুকু সময় অপব্যয় করিতে হইল না— থাসময়ের কিছু পূর্বেই স সুনন্দার উদ্দেশে বাহির হইয়া গেল। অভ্যাসগত বোধ করি বহুক্ষণ তেমনিই চাহিয়াছিলাম, হঠাৎ স্মরণ হইল কালকার অসমাপ্ত চিঠি দুটা অজ্ঞ শেষ করিয়া বেলা তিনটার পূর্বেই ডাকবাক্সে ফেলা চাই। অতএব আর মিথ্যা কালহরণ না করিয়া অবিলম্বে তাহাতেই নিযুক্ত হইলাম। চিঠি দুখানা সম্পূর্ণ করিফ যখন পড়িতে লাগিলাম, তখন কোথায় যেন ব্যথা বাজিতে লাগিল, কি যেন একটা না পড়িয়াও ধরিতে পারিলাম না। একটা কথা আমার মনে আছে। অভয়ার পত্রে রোহিণী-দাদাকে নমস্কার জানাইয়া শেষের দিকে লিখিয়াছি, তোমাদের অনেকদিন খবর পাই নাই। তোমরা কেমন আছ, কেমন করিয়া তোমাদের দিন কাটিতেছে, কেবলমাত্র কল্পনা কল ছাড়া জানিবার চেষ্টা করি নাই। হয়ত সুখেই আছ, হয়ত নাই, কিন্তু তোমাদের জীবনযাত্রার এহ দিকটাকে সেই যে একদিন ভগবানের হাতে ফেলিয়া দিয়া স্বেচ্ছায় পর্দা টানিয়া দিগছিলাম, আজও সে তেম’ কুলানো আছে; তাহাকে কোনদিন তুলিবার ইচ্ছা পর্যন্তও করি নাই। তে,ণার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আমার দীর্ঘকালের নয়, কিন্তু যে অত্যন্ত দুঃখের ভিতর দিয়া একদিন আমাদের পরিচয় আরম্ভ এবং আর একদিন সমাপ্ত হয়, তাহাকে সময়ের মাপ দিয়া মাপিবার চেষ্টা আমরা কেহই করি নাই। যেদিন নিদারুণ রোগাক্রান্ত হই, সেদিন সেই আশ্রয়হীন সুদূর বিদেশে তুমি ছাড়া আমার যাইবার স্থান ছিল না। তখন একটি মুহুর্তের জন্য তুমি দ্বিধা কর নাই—সমস্ত হৃদয় দিয়া পীড়িতকে গ্রহণ করিয়াছিলে। অথচ তেমনি রোগে,