প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


बैकगड-कृ€ीब्र नव Qbr為 বিপরীত তাহারই বিশদ বিবরণ অন্যপক্ষের বিরুদ্ধে আরোপ করিয়া সন, তারিখ, মাস, প্রতিবেশী সাক্ষীদের নামধাম-সমেত আবৃত্তি করা ভিন্ন তাহার এই বলার মধ্যে আর কিছুই থাকিবে না। প্রথমটা ছিলও না—কিন্তু হঠাৎ একসময়ে আমার মনোযোগ আকৃষ্ট হইল কুশারীগৃহিণীর কণ্ঠস্বরের আকস্মিক পরিবর্তনে। একটু বিস্মিত হইয়াই জিজ্ঞাসা করিলাম, কি হয়েচে? তিনি ক্ষণকাল একদৃষ্টে আমার মুখের প্রতি চাহিয়া রহিলেন, তার পরে ধরা-গলায় বলিয়া উঠিলেন, হবার আর কি বাকী রইল বাৰু? শুনলাম, কাল নাকি ঠাকুরপে গ্রটের মধ্যে নিজের হাতে বেগুন বেঁচতেছিলেন। কথাটা ঠিক বিশ্বাস হইল না, এবং মন ভাল থাকিলে হয়ত হাসিয়াই ফেলিতাম। কছিলাম, অধ্যাপক মানুষ তিনি হঠাৎ বেগুনই বা পেলেন কোথায়, আর বেচতেই বা গেলেন কেন ? কুশারিগুহিণী বলিলেন, ওই হতভাগীর জ্বালায়। বাড়ির মধ্যেই নাকি গোটাকয়েক গাছে বেগুন করে ? বলিলাম, কিন্তু একে শক্রতা করা বলচেন কেন? তারা ত আপনাদের কিছুর মধ্যেই নেই। অভাব হয়েছে, নিজের জিনিস বিক্রি করতে গেছেন, তাতে আপনার নালিশ কি ? আমার জবাব শুনিয়া কুশারীগৃহিণী বিহুলের মত চাহিয়া থাকিয়া শেষে কহিলেন, এই বিচারই যদি ణాళా శా శ్వాశా কাছে নালিশ জানাবারও কিছু নেই—আমি - | শেষের দিকে তাহার গলা একেবারে ধরিয়া গেল দেখিয়া, ধীরে ধীরে কহিলাম, দেখুন, এর চেয়ে বরঞ্চ কান : মনিব-ঠাকরুলকে জানাবেন, তিনি হয়ত সকল কথা বুঝতেও পারবেন, আপনার উপকার করতেও পারবেন। তিনি মাথা নাড়িয়া বলিয়া উঠিলেন, আর আমি কাউকে বলতেও চাইনে, অামাব উপকার করেও কারও কাজ নেই। এই বলিয়া তিনি সহসা অঞ্চলে চোখ মুছিয়া বলিলেন, আগে আগে কর্তা বলতেন, দু'মাস যাক, আপনিই ফিরে আসবে। তারপরে সাহস দিতেন, থাকো না আরও মাস-দুই চেপে, সব শুধরে যাবে—কিন্তু এমনি করে মিথ্যে আশায় আশায় প্রায় বছর ঘুরে গেল। কিন্তু কাল যখন শুনলাম সে উঠানে দু’টো বেগুন পর্যন্ত বেচতে পেরেচে, তখন কারও কথায় আর আমার কোন ভরসা নেই। হতভাগী সমস্ত সংসার ছারখার করে দেবে, কিন্তু ও-বাড়িতে আর পা দেবে না। বাবু, মেয়েমানুষ যে এমন শক্ত পাষাণ হতে পারে, আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। তিনি কহিতে লাগিলেন, কর্তা ওকে কোনদিন চিনতে পারেন নি, বি-এ আমি চিনেছিলাম। প্রথম প্রথম এর-ওর-তার নাম করে লুকিয়ে লুকিয়ে জিনিসপত্র পাঠাতা- ; উনি বলতেন, সুনন্দা জেনেশুনেই নেয়-কিন্তু অমন করলে তাদের চৈতন্য হবে না। আমিও ভাবতাম হবে ও বা! কিন্তু একদিন সব ভুল ভেঙ্গে গেল। কি করে সে জানতে পারে, যতদিন যা-কিছু দিয়েচি, একটা লোকের মাথায় সমস্ত টান মেরে আমাদের উঠানের মাঝখানে ফেলে দিয়ে গেল। তাতে কর্তার তবুও চৈতনা হ’ল না—হ’ল আমার। এতক্ষণে আমি তার মনের কথাটা ঠিক বুঝিতে পারিলাম। সদয়কষ্ঠে কহিলাম, এখন আপনি কি করেত চান ? আচ্ছা, তারা কি আপনাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বা কোনপ্রকার শক্রতা করবার চেষ্টা করেন ? কুশারীগৃহিণী আর একদফা কাদিয়া ফেলিয়া কপালে করাঘাত করিয়া কহিলেন, পোড়াকপাল। তা হলে ত একটা উপায় হত। সে আমাদের এমনি ত্যাগ করেচে যে, কোনন্দন যেন আমাদের চোখেও দেখেনি, নামও শোনেনি, এমনি কঠিন, এ•, পাষাণ মেয়ে! আমাদের দু’জনকে সুনন্দা তার বাপ-মায়ের বেশি ভালবাসত; কিন্তু যেদিন থেকে শুনেচে তার ভাণ্ডরের বিষয় পাপের বিষয়, সেই দিন থেকে তার সমস্ত মন যেন একেবারে পাথর হয়ে গেছে। স্বামী-পুত্র নিয়ে সে দিনের পর দিন শুকিয়ে মরবে, তবু এর কড়াক্রাত্তি ছোবে না। কিন্তু এতবড় সম্পত্তি কি আমরা ফেলে দিতে পারি বাব? সে যেমন দয়ামায়াহীন-ছেলেপূলে নিয়ে না খেয়ে মরতেও পারে, কিন্তু আমরা ত তা পারিনে।