পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৫৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


बैकनख-कृऔन्न नर्द &lూ4 উত্তরে ভালমানুষের মত মুখ করিয়া কছিল, কি জানি মা, তুমি গেরাহ্যি করলে না দেখে ভাবলুম ভাল দামী বি বোধ হয় আর চাইনে। নইলে পাঁচ-ছদিন ধরে রোগামানুষকে আমি ভাত খেতে দিই! রাজলক্ষ্মীর বলিবার কিছুই ছিল না, তাই ভূত্যের কাছে এতবড় খোঁচা খাইয়াও সে কিছুক্ষণ নিরুত্তরে বসিয়া থাকিয়া ধীরে ধীরে উঠিয়া গেল। রাত্রে বিছানায় শুইয়া অনেকক্ষণ পর্যন্ত ছটফট করিয়া বোধ করি সেইমাত্র তন্দ্রা আসিয়াছিল, রাজলক্ষ্মী দ্বার ঠেলিয়া ঘরে ঢুকিল এবং আমার পায়ের কাছে আসিয়া বহুক্ষণ পর্যন্ত নিঃশব্দে বসিয়া থাকিয়া ডাকিল, তুমি কি ঘুমোলে ? বলিলাম, না। রাজলক্ষ্মী কহিল, তোমাকে পাবার জন্যে আমি যা করেচি, তার অর্ধেক করলেও বোধ হয় ভগবানকে এতদিনে পেতুম। কিন্তু তোমাকে পেলুম না। বলিলাম, হতে পারে মানুষকে পাওয়া আরও শক্ত। মানুষকে পাওয়া? রাজলক্ষ্মী একমুহূর্ত স্থির থাকিয়া বলিল, যাই হোক, ভালবাসাটাও ত একরকমের বাঁধন, বোধ হয় এও তোমার সয় না—গায়ে লাগে। এ অভিযোগের জবাব নাই, এ অভিযোগ শাশ্বত ও সনাতন। আদিম মানব-মানবী হইতে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এ কলহের মীমাংসক কেহ নাই—এ বিবাদ যেদিন মিটিবে, সংসারের সমস্ত রস, সমস্ত মাধুর্য সেদিন তিক্ত বিষ হইয়া উঠিবে। তাই উত্তর দিবার চেষ্টামাত্র না করিয়া নীরব হইয়া রহিলাম । কিন্তু আশ্চর্য এই যে, উত্তরের জন্য রাজলক্ষ্মী পীড়াপীড়ি করিল না। জীবনের এতবড় সর্বব্যাপী প্রশ্নটাকেও শে যেন এক নিমিষে আপনা-আপনিই ভুলিয়া গেল। কহিল, ন্যায়রত্ন ঠাকুর বলছিলেন একটা ব্রতের কথা,—কিন্তু একটু কঠিন বলে সবাই নিতে পারে না, আর এত সুবিধাই বা ক জনের ভাগো জোটে ? অসমাপ্ত প্রস্তাবের মাঝখানে মৌন হইয়া রছিলাম ; সে বলিতে লাগিল, তিনদিন একরকম উপোস করেই থাকতে হয়, সুনন্দারও ভারি ইচ্ছে —দু’জনের একসঙ্গেই তা হলে হয়ে যায়, কিন্তু— এই বলিয়া সে নিজেই একটু হাসিয়া বলিল, তোমার মত না হলে ত আর— জিজ্ঞাসা করিলাম, আমার মত না হলে কি হবে ? রাজলক্ষ্মী বলিল, তা হলে হবে না। কহিলাম, তবে এ মতলব ত্যাগ কর, আমার মত নেই। যাও--তামাশা করতে হবে না । তামাশা নয়, সত্যি আমার মত নেই-আমি নিষেধ করচি। কথা শুনিয়া রাজলক্ষ্মীর মুখ মেঘাচ্ছন্ন হইয়া উঠিল। ক্ষণকাল স্তৰভাবে থাকিয়া বলিল, কিন্তু আমরা যে সমস্ত স্থির করে ফেলেটি। জিনিসপত্র কিনতে লোক গেছে,-কাল হৰিষি করে পরশু থেকে যে—বাঃ! এখন বারণ করলে হবে কেন ? সুনন্দার কাছে আমি মুখ দেখাব কি করে ? ছোটঠাকুর-বাঃ! এ কেবল তোমার চালাকি। আমাকে মিছিমিছি রাগাবার জন্যে—না, সে হবে না, তুমি বল তোমার মত আছে। বলিলাম, আছে। কিন্তু তুমি কোনদিনই ত আমার মতামতের অপেক্ষ কর না লক্ষ্মী, আজই বা হঠাৎ কেন তামাশা করতে লে? আমার আদেশ মানতে হবে এ দাবি আমি ত কখনো তোমার কাছে করিনি! রাজলক্ষ্মী আমার পায়ের উপর হাত রাখিয়া কছিল, আর কখনও হবে না, এইবারটি শুধু প্ৰসন্ন মনে আমাকে হুকুম দাও। কহিলাম, আচ্ছা। কিন্তু ভোরেই তোমাকে হয়ত যেতে হবে, আর, রাত করে না শুতে যাও। রাজলক্ষ্মী গেল না, আস্তে আঙে আমার পায়ের উপর হাত বুলাইয়া দিতে লাগিল। যতক্ষণ না ঘুমাইয়া পড়িলাম ঘুরিয়া ঘুরিয়া বার বার কেবলি মনে হইতে লাগিল, সে স্নেহস্পর্শ আর নাই। সেও ও বেশিদিনের কথা নয়, আরা রেলওয়ে স্টেশন হইতে আমাকে যেদিন সে কুড়াইয়া বাড়ি