প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


{brs *ङ्ग९ज्ञछमाकर्णी আনিয়াছিল, সেদিন এমনি করিয়াই পায়ে হাত বুলাইয়া আমাকে সে ঘুম পাড়াইতে ভালবাসিত। ঠিক এমনিই নীরবে, কিন্তু মনে হইত তাহার দশ অঙ্গুলি যেন দশ ইঞ্জিয়ের সমস্ত ব্যাকুলতা দিয়া নারীহৃদয়ের যাহা কিছু আছে, সমস্ত নিঃশেষ করিয়া আমার এই পা দুটার উপরে উজাড় করিয়া দিতেছে। অথচ, এ আমি চাহি নাই, এই লইয়াই যে কেমন করিয়া কি করিব সেও ভাবিয়া পাই নাই। বানের জলের মত—আসার দিনেও আমার মত চাহে নাই, হয়ত যাবার দিনেও তেমনি মুখ চাহিবে না । চোখ দিয়া আমার সহজে জল পড়ে না, ভালবাসার কাঙালবৃত্তি করিতেও আমি পারি না। জগতে কিছুই নাই, কাহারো কাছে কিছু পাই নাই, দাও দাও বলিয়া হাত বাড়াইয়া থাকিতে আমার লজ্জা করে। বইয়ে পড়িয়াছি এই লইয়া কত বিরোধ, কত জ্বালা, মান-অভিমানের কতই না প্ৰমত্ত আক্ষেপ-স্নেহের সুধা গরল হইয়া উঠার কত না বিক্ষুব্ধ কাহিনী! এ সকল মিথ্যা নয় জানি, কিন্তু আমার মনের মধ্যে যে বৈরাগী তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিল হঠাৎ চমক ভাঙ্গিয়া বলিতে লাগিল, ছিছি ছি! বহুক্ষণ পরে, ঘুমাইয়া পড়িয়াছি মনে করিয়া রাজলক্ষ্মী যখন সাবধানে ধীরে ধীরে উঠিয়া গেল, তখন জানিতেও পারিল না যে, নিদ্রাবিহীন নিমীলিত চোখের কোণ দিয়া আমার অঙ্ক ঝরিয়া পড়িতেছে। অশ্রু পড়িতেই লাগিল, কিন্তু আজিকার আয়ত্তাতীত ধন একদিন আমারই ছিল বলিয়া ব্যর্থ হাহাকারে অশান্তি সৃষ্টি করিয়া তুলিতে আর প্রবৃত্তি হইল না। এগার সকালে উঠিয়া শুনিলাম, অতি প্রত্যুষেই রাজলক্ষ্মী স্নান করিয়া রতনকে সঙ্গে লইয়া চলিয়া গেছে, এবং তিনদিনের মধ্যে যে বাড়ি আসিতে পারিবে না, এ খবরও পাইলাম। হইলও তাহাঁই। সেখানে বিরাট কাণ্ড কিছু যে চলিতে লাগিল তাহা নয়, তবে দু-দশজন ব্রাহ্মণ-সজ্জনের যে গতিবিধি হইতেছে, কিছু কিছু খাওয়া দাওয়ারও আয়োজন হইয়াছে, তাহার আভাস জানালায় বসিয়াই অনুভব করিতাম । কি ব্রত, কিরূপ তাহার অনুষ্ঠান, সম্পন্ন করিলে স্বগের পথ কতখানি সুগম হয়, ইহার কিছুই জানিতাম না, জানার কৌতুহলও ছিল না। রতন প্রত্যহ সন্ধ্যার পরে ফিরিয়া আসিত। বলিত, আপনি একবারও গেলেন না বাৰু ? জিজ্ঞাসা করিতাম, তার কি কোন প্রয়োজন আছে ? রতন একটু মুস্কিলে পড়িত। সে এইভাবে জবাব দিত যে, আমার একেবারে মা যাওয়াট লোকেৰ চোখে যেন কেমন কেমন ঠেকে । হয়ত বা কেউ মনে করে, এতে আমার অনিচ্ছ: কলা যায় না や! না, বলা কিছুই যায় না। প্রশ্ন করিতাম, তোমার মনিব কি বলেন ? রতন বলিত, তার ইচ্ছে ত জানেন, আপনি না থাকলে কিছুই তার ভাল লাগে না। কিন্তু কি করবেন, তাই কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলেন, রোগা শরীর, এতখানি হাঁটলে অসুখ করতে পারে। আর এসে হবেই বা কি ! বলিলাম, সে ত ঠিক। তা ছাড়া তুমি ত জ্ঞান রতন, এইসব পূজা-অৰ্চনা, ধর্ম-কর্মের মাঝখানে స్ధాణాళా శా ব্যাপারে আমার একটু গা-মাড়াল দিয়ে থাকাই ভাল । না ? রতন সায় দিয়া বলিত, সে ঠিক। কিন্তু আমি বুঝিতাম রাঙ্গলক্ষ্মীর দিক দিয়া আমার উপস্থিতি তথায়—কিন্তু থাক সে। হঠাৎ মস্ত একটা সুখবর পাইলাম। মলিবের সুখ-সুবিধার বন্দোবস্তু করিবার অজুহাতে গোমস্ত কাশীনাথ কুশারীমহাশয় সস্ত্রীক গিয়া উপস্থিত হইয়াছেন। বলিস কি রতন, একেবারে সস্ত্রীক ? আঙ্গে হাঁ। তাও আবার বিনা নেমস্তক্সে। বুঝিলাম, ভিতরে রাজলক্ষ্মীর কি একটা কৌশল আছে। সহসা এমনও মনে হইল, হয়ত এইজনাই সে নিজের বাটীতে না করিয়া অপরের গৃহে সমস্ত ব্যবস্থা করিয়াছে।