প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


बैकगल-फूडीब्र नर्थ ●切為 মরিয়া যাইবে। জিজ্ঞাসা করিলাম, কি হইয়াছে তাহার ? লোকটা বলিল, কলেরা। খুশি হইয়া কহিলাম, চল। খুশি তাহার কলেরার জন্য নয়। গৃহের সংস্রব হইতেই কিছুক্ষণের জন্যও যে দুরে যাইবার সুযোগ মিলিল ইহাই পরম লাভ বলিয়া মনে হইল। একবার ভাবিলাম রতনকে ডাকিয়া একটা খবর দিয়া যাই, কিন্তু সময়ের অভাবে ঘটিয়া উঠিল না। যেমন ছিলাম, তেমনি বাহির হইয়া গেলাম, এ বাড়ির কেহ কিছু জানিতে পারিল না। প্রায় ক্রোশ-তিনেক পথ হাঁটিয়া শেষ-বেলায় গিয়া সতীশের ক্যাম্পে পৌছিলাম। ধারণা ছিল, রেলওয়ে কনস্ট্রাকশনের ইনচার্জ এস. সি. বরদাঞ্জের অনেক কিছু ঐশ্বর্য দেখিতে পাইব, কিন্তু গিয়া দেখিলাম হিংসা করিবার মত কিছু নয়। ছোট একটা ছোলদারি তাবুতে সে থাকে, পাশেই তাহার লতাপাত খড়কুটা দিয়া তৈরী কুটীরে রান্না হয়। একটি হৃষ্টপুষ্ট বাউরী মেয়ে আগুন জালিয়া কি একটা সিদ্ধ করিতেছিল, আমাকে সঙ্গে করিয়া তাবুর মধ্যে লইয়া গেল। এ সতীশের প্রণয়িনী। ইতিমধ্যে রামপুরহাট হইতে একজন ছোকরা গোছের পাঞ্জাবী ডাক্তার আসিয়াছিলেন, তিনি আমাকে সতীশের বাল্যবন্ধু জানিয়া যেন বাচিয়া গেলেন। রোগীর সম্বন্ধে জানাইলেন যে কেস সিরিয়াস নয়, প্রাণের আশঙ্কা নাই। তাহার ট্রলি প্রস্তুত, এখন বাহির হইতে না পারিলে হেড কোয়ার্টার্সে পৌছিতে অতিশয় রাত্রি হইয়া যাইবে—-ক্লেশের অবধি থাকিবে না। আমার কি হইবে সে তাহার ভাবিবার বস্তু নয়। কখন কি করিতে হইবে রীতিমত উপদেশ দিলেন, এবং ঠেলাগাড়িতে রওনা হইবার মুখে লি কিয় তাহার ব্যাগ খুলিয়া গোটা দুই-তিন কোটা ও শিশি আমার হাতে দিয়া কহিলেন, কলেরা কতকটা ছোয়াচে রোগের মত। ঐ ডোবার জলটা ব্যবহার করতে মানা করে দেবেন, এই কারও হয়েচে–হতে পারে—এই ঔষধগুলো ব্যবহার করবেন। এই বলিয়া তিনি রোগের কি অবস্থায় কোনটা দিতে হুইবে বলিয়া দিলেন। মানুষটি মন্দ নয়, মায়াদয়া আছে। আমার বাল্যবন্ধু কেমন থাকেন কাল যেন তিনি খবর পান, এবং কুলিদের উপরও যেন দৃষ্টি রাখিতে ভুল না হয়, আমাকে বার বার সাবধান করিয়া চলিয়া গেলেন। এ হইল ভাল। রাজলক্ষ্মী গিয়াছে বক্রেশ্বর দেখিতে, আর রাগ করিয়া আমি বাহির হইয়াছি পথে। পথেই এক ব্যক্তির সহিত সাক্ষাৎ। বাল্যকালের পরিচয়. অতএব বাল্যবন্ধু • বটেই। তবে বছর-পনর খবরাখবর ছিল না, হঠাৎ চিনিতে পারি নাই। কিন্তু দিন-দুয়ের মধ্যেই কৰ্ম্মাৎ এ কি ঘোরতর মাখমখি! তাহার কলেরায় চিকিৎসার ভার, শুশ্ৰুষার ভার, মায় তার শ-দেড়েক মাটিকাটা কুলির খবরদারির ভার গিয়া পড়িল আমার উপর! বাকি রহিল শুধু তাহার সেলার হ্যাট এবং টাটু ঘোড়াটি। আর বোধ হয় যেন ওই কুলি মেয়েটিও তাহার মানভূমের অনির্বচনীয় বাউরী ভাষার অধিকাংশই ঠেকিতে লাগিল, কেবল এটুকু ঠেকিল না যে, মিনিট দশ-পনরর মধ্যেই সে আমাকে পাইয়া অনেকখানি আশ্বস্ত হইয়াছে। যাই, আর ক্রটি রাখি কেন, ঘোড়টিকে একবার দেখিয়া আসি গে। ভাবিলাম, আমার অদৃষ্টই এমনি। না হইলে রাজলক্ষ্মীই বা আসিত কিরাপ, অভয়াই বা আমাকে দিযা তাহার দুঃখের বোঝা প্ৰহাইত কেমন করিয়া? আর এই ব্যাঙ এবং তাহার কুলি গ্যাঙ। কোন ব্যক্তির পক্ষেই ত এসকল ঝাড়িয়া ফেলিতে একমুহূর্তের অধিক স. .গিত না। আর আমিই বা সারাজীবন বহিয়া বেড়াই কিসের জন্য? উবুটা রেল কোম্পনির। সতীশের নিজস্ব সম্প, একটা তালিকা মনে মনে প্রস্তুত করিয়া পইলাম। কয়েকটা এনামেলের বাসন, একটা স্টোভ, একটা লোহার তোরঙ্গ, একটা কেরোসিন তেলের বাক্স, এবং তাহার শয়ন করিবার কাম্বিশের খাট, বহু-ব্যবহারে ডোঙার আকার ধারণ করিয়াছে। সতীশ চালাক লোক, এ খাটে বিছানার প্রয়োজন হয় না, একখানা যা তা হইলেই চলিয়া যায়, তাই চোরাকাটা একখানা শতরঞ্চি ছাড়া আর কিছুই সে কেনে নাই। ভবিষ্যতে কলেরা হওয়ার কোন বাৰম্বাই তাহার ছিল না। কাম্বিশের খাটে শুশ্রুষা করার অত্যন্ত অসুবিধা এবং একমাত্র সতরঞ্চি