প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৫৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(tyQ श्रृङ्गाद् ब्रघ्नाब्री অতিশয় নোংরা হইয়া উঠিয়াছে। অতএব তাহাকে নীচে শোয়ানো ছাড়া উপায় নাই। আমি যৎপরোনাস্তি চিন্তিত হইয়া উঠিলাম। মেয়েটির নাম কালীদাসী ; জিজ্ঞাসা করিলাম, কালী, কারও দু-একখানা বিছানা পাওয়া যাবে? কালী কহিল, না। কহিলাম, দুটি খড়-টড় যোগাড় করে আনতে পারে? কালী ফিক করিয়া হাসিয়া ফেলিয়া যাহা বলিল তাহার অর্থ এই যে, এখানে কি গরু আছে ? কহিলাম, বাবুকে তা হলে শোয়াই কোথায় ? কালী নিৰ্ভয়ে মাটি দেখাইয়া কহিল, হেথাকে। উ কি বাঁচবেক! তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া মনে হইল, এমন নির্বিকল্প প্রেম জগতে সুদুলঙ। মনে মনে বলিলাম, কালী, তুমি ভক্তির পাত্ৰ। তোমার কথাগুলি শুনলে আর শঙ্করের মোহমুদগর-পাঠের আবশ্যকতা থাকে না ; কিন্তু আমার সেরূপ বিজ্ঞানময় অবস্থা নয়, লোকটা এখনও বঁচিয়া ; কিছু একটা পাতা চাই । জিজ্ঞাসা করিলাম, বাবুর পরনের একখানা কাপড়চোপড়ও কি নেই? কালী ঘাড় নাড়িল। তাহার মধ্যে দ্বিধা-সঙ্কোচ ছিল না। সে 'বোধ হয়’ বলে না। কহিল, কাপড নেই, পেন্টুলুন আছে। পেন্টুলুন সাহেবী জিনিস, মূলাবান বস্তু, কিন্তু তাহার দ্বারা শয্যারচনার কাজ চলে কি না ভাবিয়া পাইলাম না। সহসা মনে পড়িল, আসিবার সময় অদূরে একটা ছিন্ন জীর্ণ ত্রিপল দেখিয়াছিলাম . কহিলাম, চল না যাই, দু’জনে ধরাধরি করে সেটা নিয়ে আসি। পেন্টুলুন পাতার চেয়ে সে ভাল হবে। কালী রাজী হইল। সৌভাগ্যবশতঃ তখনও তাহা পড়িয়া ছিল, আনিয়া তাহতেই সতীশ ভরদ্বাজকে শোয়াইয়া দিলাম। তাহারই একধাবে কালী অত্যস্ত সবিনয়ে স্থান লইল, এবং দেখি৩ে দেখিতে সে ঘুমাইয়া পড়িল । ধারণা ছিল, মেয়েদের নাক ডাকে না। কালী তাহাও অপ্রমাণ কবিয়া দিল । আমি একাকী সেই কেরোসিমের বাক্সের উপর বসিয়া। এদিকে সতীশের হাতে পায়ে ধন খম খিল ধরিতেছে, সেক-তাপের প্রয়োজন, বিস্তর ডাকাডাকি করিয়া কালীকে তুলিলাম, সে পাশ ফিলিয়া শুইয়া জানাইল, কাঠকুটা নাই, সে আগুন জুলিবে কি দিয়া ? নিজে চেষ্টা করিয়া দেখিতে পারিতাম, কিন্তু আলোর মধ্যে সম্বল এই হ্যারিকেন লণ্ঠনটি। তথাপি একবার তাহার রান্নাঘরে গিয়া খোঞ্জ করিয়া দেখিলাম, কালী মিথ্যা বলে নাই। এই কুটীরটা ছাড়া অগ্নিসংযোগ করিতে পারি এরূপ দ্বিতীয় বস্তু নাই। কিন্তু সাহস হইল না, পাছে প্রাণ বাহির হইবার পূর্বেই সতীশের সৎকার করিয়া ফেলি! কাম্প খাট এবং কেরোসিনের বাক্স বাহিরে আনিয়া দেশলাই জ্বলিয়া তাহাতে আগুন ধরাইলাম, নিঞ্জের জামা খুলিয়া পুটুলির মত করিয়া কিছু কিছু সেক দিবার চেষ্টা করিলাম, কিন্তু নিজেকে সাস্তুনা দেওয়া ছাড়া রোগীর কোন উপকারই তাহাতে হইল না। রাত্ৰি দুটাই হইবে কি তিনটাই হইবে, খবর আসিল জন-দুই কুলির ভেদ-বমি হইতেছে। তাহারা আমাকে ডাক্তারবাবু বলিয়া মনে করিয়াছিল। তাহাদেরই আলোর সাহায্যে ঔষধপত্র লইয়া কুলি লাইনে গিয়া উপস্থিত হইলাম। মালগাড়িতে তাহারা থাকে। ছাদবিহীন খোলা ট্রাকের সারি লাইনের উপর দাড়াইয়া আছে, মাটি কাটার প্রয়োজন হইলে ইঞ্জিন জুড়িয়া দিয়া তাহাদেৱ গমস্থানে টানিয়া লইয়া যাওয়া হয়। বঁশের মই দিয়া ট্রাকের উপরে উঠিলাম। একধারে একজন বুড়াগোছের লোক গুইয়া আছে, তাহার মুখের পরে আলো পড়িতেই বুঝা গেল রোগ সহজ নয়, ইতিমধ্যেই অনেকদূর অগ্রসর হইয়া গেছে। অন্যধারে জনপাঁচ-সাত লোক, স্ত্রী-পুরুষ দুই-ই আছে, কেহ বা ঘুম ভাঙ্গিয়া উঠিয়া বসিয়াছে, কাহারও বা তখন পর্যন্ত সুনিপ্রার ব্যাঘাত ঘটে নাই। ইহাদের জমাদার আসিয়া উপস্থিত হইল। সে বেশ বাঙ্গালা বলিতে পারে, জিজ্ঞাসা করিলাম, আর একজন রোগী কি ?