প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


डीकाख-क्लर्डीग्न अव «ሕ> সে অন্ধকারে অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া আর-একখানা ট্রাক দেখাইয়া কহিল, উখানে । পুনরায় মই দিয়া উপরে উঠিয়া দেখিলাম, এবার একজন স্ত্রীলোক। বয়স পাঁচশ-ত্রিশের অধিক নয়, গুটি-দুই ছোট ছেলেমেয়ে তাহার পাশে পড়িয়া ঘুমাইতেছে। স্বামী নাই, সে গত বৎসর আড়কাঠির পাল্লায় পড়িয়া অপর একটি অপেক্ষাকৃত কম বয়সের স্ত্রীলোক লইয়া আসামে চা-বাগানে কাজ করিতে গিয়াছে। এ গাড়িতেও আরও জনপাঁচ-ছয় স্ত্রী-পুরুষ ছিল, তাহার একবাক্যে উহার পাষণ্ড স্বামীর নিন্দা কবা ছাড়া আমার বা রোগিণীর কোন সাহায্যই করিল না। পাঞ্জাবী ডাক্তারের শিক্ষামত উভয়কেই ঔষধ দিলাম, শিশুদুটাকে স্থানান্তরিত করিবার চেষ্টা করিলাম, কিন্তু কাহাকেও তাহাদের ভার লইতে স্বীকার করাইতে পারিলাম না। সকাল নাগাদ আর-একটি ছেলের ভেদ-লমি শুরু হইল, ওদিকে সতীশ ভরদ্ধাজের অবস্থা উত্তরোত্তর মন্দ হইয়াই আসিতেছে। বহু সাধ্যসাধনার একজনকে পাঠাইলাম সাঁইথিয়া স্টেশনে পাঞ্জাবী ডাক্তারকে খবর দিতে। সে সন্ধ্যা নাগাদ ফিরিয়া আসিয়া জানাইল, তিনি আর কোথায় গিয়াছেন রোগী দেখিতে । অামাল সবচেয়ে মুস্কিল হইয়াছিল সঙ্গে টাকা ছিল না। নিজে ত কাল হইতে উপবাসে আছি। নিদ্রা নাই, বিশ্রাম নাই, কিন্তু সে না হয় হইল, কিন্তু জল না খাইয়া বঁচি কিরূপে সুমুখের খাদের জল ব্যবহার করিতে সকলকেই নিষেধ করিয়া দিলাম, কিন্তু কেহই কথা শুনিল না। মেয়ের মৃদুহাসো জনাইল ন হল আর আছে কোথায় ডাক্তার ? কিছুদূরে গ্রামের মধ্যে জল ছিল, কিন্তু যায় কে ? ৩াহারা মরিতে পারে, কিন্তু বিনা পয়সায় এই ব্যর্থ কাজ করিতে রাজী নয়। এমনি করিয়া ইহাদের সঙ্গে এই ট্রাকের উপরেই আমাকে দুইদিন তিনরাত্রি বাস করিতে হইল। কাহাকে ৫ বাচাইতে পারিলাম না, সব কয়টাই মরিল, কিন্তু মরাটাই এ ক্ষেত্রে সবচেযে বড় ব্যাপার নয়। মানুষ জন্মাইলেই মরে, কেহ দুদিন আগে, কেহ দু’দিন পরে—এ আমি সহজে এবং অত্যস্ত অনাযাসে বুঝিতে পারি। বরঞ্চ ইহাই ভাবিয়া পাই না, এই মোটা কথাটা বুঝিবার জন্য এত শাস্তালোচনা, এত বৈরাগাসাধনা, এত প্রকারের তত্ত্ববিচারের প্রয়োজন হয় মানুষের কিসের জন্য ? সুতবা মানুষের মরণ আমাকে বড় আঘাত করে না, করে মানুষ্যত্বের মরণ দেখিলে । এ যেন আমি BBBSBB BBB SKBBB BBBB BBBBB BBBB BBS BBBB BB BB BBB BSBS পরিত্রী ৩াহাকে কোলে স্থান দিলেন। ওদিকের কাজ মিটাইয়া ট্রাকে ফিরিয়া আসিলাম। না আসিলেই ছিল ভ কিন্তু পারিয়া উঠিলাম না। জনারণ্যের মাঝখানে রোগীদের লইয়া আমি নিছক একাকী। সভ্যতার অজুহাতে ধনীর ধনলোভ মানুষকে যে কত বড় হৃদয়হীন পশু বানাইয়া তুলিতে পারে, এই দুটা দিত্রের মধ্যেই যেন এ অভিজ্ঞতা আমার সাব-জীবনের জন্য সঞ্চিত হইয়া গেল। প্রখর সূর্যতাপে চারিদিকে যেন অগ্নিবৃষ্টি হইতে লাগিল, তাহারই মাঝে ত্রিপলের নীচে রোগীদের লইয়া আমি একা। ছোট ছেলেটা যে কি দুঃখই পাইতে লাগিল তাহার অবধি নাই, অথচ এক ভাড় জল দিবার পর্যন্ত কেহ নাই। সরকারী কাজ, মাটিকাটা বন্ধ থাকিতে পারে না, হণ্ডার শেষে মাপ করিয়া তাহার মজুরি মিলিবে। অথচ তাহাদেরই স্বজাতি, তাহাদেরই ত ছেলে ’ গ্রামের মধ্যে দেখিয়াছি, কিছুতেই ইহারা এমনধারা নয়। কিন্তু এই যে সমাজ হইতে, গৃহ হইতে, সর্বপ্রকারের স্বাভাবিক বন্ধন হইতে বিচ্ছিন্ন লোকগুলাকে কেবলমাত্র উদয়াস্ত মাটি-কাটার জন্যই সংগ্রহ করিয়া আনিয়া ট্রাকের উপর জমা করা হইয়াছে, এইখানেই তাহাদের মানব-হৃদয়-বৃত্তি বলিয়া আর কোথাও কিছু কী নাই। শুধু মাটি-কাট, শুধু মজুরি। সভা মানুষে এ কথা বোধ হয় ভাল করিয়াই বুঝিয়া লইয়াছে, মানুষকে পশু করিয়া না লইতে পারিলে পশুর কাজ আদায় করা যায় না। ন-নারী-নির্বিশেষে মাতাল হইয়া দলে দলে ফিরিয়া আসিল, দুপুরবেলার বাধা ভাত হাড়িতে জল দেওয়া আছে, এ হাঙ্গামাটাও এ বেলায় মেয়েদের নাই। তাহার পরে কে বা কাহার কথা শুনে।