প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


¢ሕጳ *ङ्गदब्रछमाकर्णी জমাদারের গাড়ি হইতে ঢোল ও করতাল সহযোগে প্রবল সঙ্গীতচর্চা হইতে লাগিল, সে যে কখন থামিবে ভাবিয়া পাইলাম না। কাহারও জন্য তাহাদের মাথাব্যথা নাই। আমার ঠিক পাশের ট্রাকেই কে একটা মেয়ের বোধ হয় জন-দুই প্রণয়ী জুটিয়াছে, সারা রাত্রি ধরিয়া তাহদের উদাম প্রেমলীলার বিরাম নাই। এদিকে ট্রাকে এক ব্যাটা কিছু অধিক তাড়ি খাইয়াছে ; সে এমনি উচ্চ কলরোলে স্ত্রীর কাছে প্রশয় ভিক্ষা করিতে লাগিল যে, আমার লজ্জার সীমা রহিল না। দূরের একটা গাড়ি হইতে কে একজন স্ত্রীলোক মাঝে মাঝে বিলাপ করিতেছিল, তাহার মা ঔষধ চাহিতে আসায় খবর পাইলাম কামিনীর সত্তান-সম্ভাবনা হইয়াছে। লজ্জা নাই, সরম নাই, গোপনীয় কোথাও কিছু নাই—সমস্ত খোলা, সমস্ত অনাবৃত। জীবনযাত্রার অবাধ গতি বীভৎস প্রকাশ্যতায় অপ্রতিহত বেগে চলিয়াছে। শুধু আমিই কেবল দল-ছাড়া। আসন্ন মৃত্যুলোকযাত্রী মা ও তাহার ছেলেকে লইয়া গভীর আঁধার রাত্রে একাকী বসিয়া আছি। ছেলেটা বলিল, জল--- মুখের উপর ঝুঁকিয়া কহিলাম, জল নেই বাবা, সকাল হোক। ছেলেটা ঘাড় নাড়িয়া বলিল, তারপর চোখ বুজিয়া নিঃশব্দে রহিল। তৃষ্ণার জল না থাক, কিন্তু আমার চোখ ফাটিয়া জল আসিল। হায় রে হায়! শুধু কেবল মানবের সুকুমার হৃদয়বৃত্তিই নয়, নিজের সুদুঃসহ যাতনার প্রতিও কি অপরিসীম ঔদাসীন্য! এই ত পশু! এ ধৈর্যশক্তি নয়, জড়তা। এ সহিষ্ণুতা মানবতার ঢের নীচের স্তরের বস্তু। আমাদের ট্রাকের অন্য লোকগুলা অকাতরে ঘুমাইতেছে। কালি-পড়া হ্যারিকেনের অত্যন্ত মলিন আলোকেও আমি স্পষ্ট দেখিতেছিলাম, মা ও ছেলে উভয়েরই সর্বাঙ্গ ব্যাপিয়া খিল ধরিয়াছে। কিন্তু কি-ই বা আমার করিবার ছিল ! সম্মুখে কালো আকাশের অনেকখানি স্থান ব্যাপিয়া সম্পর্ষিমণ্ডল জ্বলজ্বল করিয়া জুলিতেছে, সেদিকে চাহিয়া আমি বেদনায়, ক্ষোভে ও নিষ্ফল আক্ষেপে বার বার করিয়া অভিসম্পাত করিতে লাগিলাম, আধুনিক সভ্যতার বাহন তোরা—তোরা মর। কিন্তু যে নির্মম সভাত তোদের এমনধারা করিয়াছে তাহাকে তোরা কিছুতেই ক্ষমা করিস না। যদি বহিতেই হয়, ইহাকে তোরা দ্রুতবেগে রসাতলে বহিয়া নিয়া যা। কার সকালে খবর পৌছিল আব দুই জন পীড়িত হইয়াছে। ঔষধ দিলাম, জমাদার সাঁইথিয়ায় সংবাদ পাঠাইয়া দিল। আশা করিলাম, এবার কর্তৃপক্ষের আসন টলিবে। বেলা নয়টা আন্দাজ ছেলেটা মরিল। ভালই হইল। এই ত ইহাদের জীবন ! সম্মুখের মাঠের পথ দিয়া দুই জন ভদ্রলোক ছাতা মাথায় দিয়া চলিয়াছিলেন ; কাজে গিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, এখানে গ্রাম কত দূরে ? যিনি বৃদ্ধ, তিনি মুখটা ঈষৎ উচু করিয়া বলিলেন, ঐ যে! জিজ্ঞাসা করিলাম, খাবার জিনিস কিছু মেলে ? অন্যজন বিস্ময় প্রকাশ করিয়া কহিলেন, মেলে না কি রকম! ভদ্রলোকের গ্রাম-—চাল, ডাল, ঘি, তেল, তরি-তরকারি যা খুশি আপনার। আসছেন কোথা থেকে ? নিবাস ? মশায়, আপনারা ? সংক্ষেপে তাহদের কৌতুহল নিবৃত্তি করিয়া সতীশ ভরদ্ধাজের নাম করিতে উভয়ে কষ্ট হইয়া উঠিলেন ; বৃদ্ধ বলিলেন, মাতাল, বদমাইস, জোচোর! ইনি কোন-একটা হাইস্কুলের হেডমাস্টার। তাহার সঙ্গী কহিলেন, রেলের লোক আর কত ভাল হবে! কাচা পয়সাটা বেশ হাতে ছিল কিনা! প্রত্যুত্তরে সতীশের টাটকা কবরের টিপিটা আমি হাত দিয়া দেখাইয়া জানাইলাম, এখন তাহার সম্বন্ধে আলোচনা বৃথা। কাল সে মরিয়াছে, লোকাভাবে দাহ করিতে পারা যায় নাই, ঐখানে মাটি দিতে হইয়াছে। বলেন কি! ৰামুনের ছেলেকে—