প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শ্রীকান্ত (তৃতীয় পর্ব).djvu/৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


वैंकनख-फूर्फीब्र नर्द 4tssరి কিন্তু উপায় কি ? শুনিয়া উভয়েই ক্ষুব্ধ হইয়া জানাইলেন যে, ভদ্রলোকের গ্রাম, একটুখানি খবর পাইলে যা হোক একটা উপায় নিশ্চয় হইয়া যাইত। একজন প্রশ্ন করিলেন, আপনি তার কে ? বলিলাম, কেউ না। সামান্য পরিচয় ছিল মাত্র। এই বলিয়া কি করিয়া এখানে জুটিলাম সংক্ষেপে তাহারই বিবরণ দিলাম। দুইদিন খাওয়া হয় নাই, অথচ, কুলিদের মধ্যে কলেরা শুরু হইয়া গিয়াছে বলিয়া ছাড়িয়াও যাইতে পারিতেছি না। খাওয়া হয় নাই শুনিয়া তাহারা অতিশয় উদ্বিগ্ন হইলেন, এবং সঙ্গে যাইবার জন্য বারংবার আগ্রহ প্রকাশ করিতে লাগিলেন । এবং, এই ভয়ানক ব্যাধির মধ্যে খালি পেটে থাকা যে মারাত্মক ব্যাপার তাহাও একজন জানাইয়া দিলেন। বেশি বলিতে হইল না—বলার প্রয়োজনই ছিল না, কুৎপিপাসায় মৃতকল্প হইয়া উঠিয়াছিলাম— তাহাদের সঙ্গ লইলাম। পথে এই বিষয়েই আলাপ হইতে লাগিল। পাড়াগায়ের লোক, শহরের শিক্ষা বলিতে যাহা বুঝায় তাহা তাহদের ছিল না, কিন্তু মজা এই যে, ইংরাজ রাজত্বের খাটি পলিটিক্সটুকু তাহাদের অপরিজ্ঞাত নয়। এ যেন দেশের লোকে দেশের মাটি হইতে, জল হইতে, আকাশ হইতে, বাতাস হইতে অস্থি-মজ্ঞা দিয়া সংগ্রহ করিয়া লইয়াছে। উভযেই কহিলেন, সতীশ ভরদ্বাজের দোষ নেই মশায় আমরা হলেও ঠিক আমনি হয়ে উঠতাম । কোম্পানি বাহাদুরের সংস্পর্শে যে আসবে সেই চোর না হয়ে পারবে না। এমনি এদের ছোয়াচের ఆళ ক্ষুধার্ত ও একান্ত ক্লাস্ত দেহে অধিক কথা কহিবার শক্তি ছিল না, সুতরাং চুপ করিয়াই রহিলাম । তিনি বলিতে লাগিলেন, কি দরকার ছিল মশাই, দেশের বুক চিরে আবার একটা রেলের লাইন পাতবার? কোন লোকে কি তা চায় ? চায় না। কিন্তু তবু চাই। দীঘি নেই, পুকুর নেই, কুয়ো নেই, কোথাও একফোটা থাকার জল নেই, গ্রীষ্মকালে গরু-বাছুরগুলো জলাভাবে ধড়ফড় করে মরে যায়— কোথাও একটু ভাল খাবার জল থাকলে কি সতীশবাবুই মারা যেতেন ? কথখনো না। ম্যালেরিয়া, কলেরা হৱ-রকমের ব্যাধি পীড়ায় লোক উজোড় হয়ে গেল, কিন্তু কাকসা পরিবেদনা! কর্তারা আছেন শুধু রেলগাড়ি চালিয়ে কোথায় কার ঘবে কি শস্য জন্মেছে শুষে চালান করে নিয়ে যেতে । কি বলেন মশাই ? ঠিক নয় ? আলোচনা করিবার মত গলায় জোর ছিল না বলিয়াই শুধু ঘাড় নাড়িয়া নিঃশব্দে সায় দিয়া মনে মনে সহস্রবার বলিতে লাগিলাম, এই, এই, এই ! কেবলমএ এইজনাই তেীি কোটি নরনারীর কষ্ট চাপিয়া বিদেশীয় শাসনতন্ত্র ভারতে প্রতিষ্ঠিত রহিয়াছে। সুদ্ধমাত্র এই হেতুই ভারতের দিকে দিকে রন্ধে রঞ্জে রেলপথ বিস্তারের আর বিরাম নাই । বাণিজ্যের নাম দিয়া ধনীন ধনভাণ্ডার বিপুল হইতে বিপুলতর করিবার এই অবিরাম চেষ্টায় দুর্বলের সুখ গেল, শাস্তি গেল, অল্প গেল, ধর্ম গেল—তাহার বচিবার পথ দিনের পর দিন সঙ্কীর্ণ ও নিরন্তর বোঝা দুর্বিষহ হইয়া উঠিতেছে-এ সত্য ত কাহারও চক্ষু হইতেই গোপন রাখিবার জো নাই। বৃদ্ধ ভদ্রলোকটি আমার এই চিস্তাতেই যেন বাক্যযোজনা রাখিয়া কহিলেন, মশাই, ছেলেবেলায় মামার বাড়িতে মানুষ আমি, আগে বিশ ক্রাশের মধ্যে রেলগাড়ি ছিল না, তখন কি সস্তা, আর কি প্রচুর জিনিসপত্রই না সেখানে ছিল। তখন কারও কিছু জন্মালে পাড়া পত্ৰিশী সবাই তার একটু ভাগ পেত, এখন থোড়, মোচা, উঠানের দু-আঁটি শাকু পর্যন্ত কেউ কাউকে দিতে চায় না, বলে থাক, সাড়ে-আটটার গাড়িতে পাইকেরের হাতে তুলে দিলে দ’পয়সা আসবে। এখন দেওয়ার নাম হয়েচে অপব্যয়—মশাই দুঃখের কথা বলতে কি, পয়সা-করার নেশায় মেয়ে-পুরুষে সবাই যেন একেবারে ইতর হয়ে গেছে, আর আপনারাই কি প্রাণভরে ভোগ করতে পায় ? পায় না। শুধু ত আক্ষ্মীয়-স্বজন প্রতিবেশী নয়, নিজেদেরও সকল দিক দিয়ে ঠকিয়ে ঠকিয়ে টাকা পাওয়াটাই হয়েছে যেন তাদের একটিমাত্র পরমার্থ। এই সমস্ত অলিষ্টের গোড়া হচ্ছে এই রেলগাড়ি। শিরার মত দেশের রক্কে রক্তে রেলের রাস্ত যদি व्वब्रथ(अर्धवंघ घe)-७४